সুন্দরী আইসলু -- কাজাখ লোককাহিনী

এক গ্রামে তিন ভাই বাস করত । তারা ছিল প্রচণ্ড শক্তিশালী ও অসীমসাহসী । সমবয়সীরা তাদের নিয়ে গর্ব করত, মেয়েরা তাদের দিকে তাকিয়ে থাকত মুগ্ধ চোখে আর বৃদ্ধেরা তাদের প্রশংসা করত। বাচ্চা বয়স থেকেই ভাইয়েদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব: কখনও তাদের ছাড়াছাড়ি হয় নি, কখনও ঝগড়া বা তর্কও হয় নি তাদের মধ্যে । একদিন তারা বাজপাখি নিয়ে স্তেপের মধ্যে গেল শিকারের উদ্দেশ্যে । বহুক্ষণ ধরে তাদের চোখে কোন জন্তু বা পাখি পড়ল না। তারা ঘোড়া ফিরিয়ে গ্রামে ফিরে যাবার উদ্যোগ করছে এমন সময় হঠাৎ দেখতে পেল মাটিতে দেহটা প্রায় মিলিয়ে ছুটে গেল একটা শেয়াল, আগুনের মত লাল । ওর চমৎকার চামড়ার জন্য ভাল দাম পাওয়া যাবে! বড় ভাই বাজপাখিটাকে উড়িয়ে দিল, পাখিটা ডানা ছড়িয়ে দিয়ে আকাশে উড়ে গেল, তারপর উঁচু থেকে বিদ্যুৎগতিতে নেমে এল শেয়ালটার ওপরে।
জোরে ঘোড়া ছুটিয়ে ভাইয়েরা এসে পৌছল যেখানে পাখিটা নেমেছে, কিন্তু অবাক কাণ্ড শেয়ালটা নেই, যেন কোন শেয়াল দেখাই যায় নি সেখানে, আর পাখিটা বসে আছে একটা পাথরের ফলকের ওপর, ফলকটাও যেমন তেমন ফলক নয়, কার দক্ষ ছেনির আঘাতে তার ওপর ফুটে উঠেছে এক অপার্থিব সৌন্দর্য। ফলকটির প্রান্তে অলঙ্করণ করে লেখা আছে ; যে আমার এই প্রতিকৃতিটা খুঁজে পেয়ে আমায় এনে দিতে পারবে আমি তার আজ্ঞাধীন হব ও তাকে আমার স্বামী বলে মেনে নেব ।’
স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল তিন ভাই সেই রহস্যময় ফলকটির সামনে ; ফলক থেকে তাদের দিকে তাকিয়ে আছে মেয়েটি যেন জীবন্ত । তার প্রতি ভালবাসার আগুন জ্বলে উঠল তাদের প্রত্যেকেরই হৃদয়ে।
বড় ভাই বলল : ‘এবার কি হবে, কি করা উচিত আমাদের? এই অদ্ভুত পাথরটা খুঁজে পেয়েছি আমরা তিনজনে মিলে |’
মেজ ভাই বসল: "ঘুঁটি ফেলে দেখা যাক: ভাগ্যই নির্ধারণ করবে আমাদের মধ্যে কে সুন্দরীর খোজে যাবে ’
ছোট ভাই বলরল: ভাইয়েরা, আমরা সবাই মিলে পাথরটা পেয়েছি, আমরা সবাই মিলেই সুন্দরীর খোঁজে যাই, যদি আমাদের এমন ভাগ্য হয় যে আমরা চোখে দেখব তাকে তবে

আমাদের তিনজনের মধ্য থেকে সে নিজেই তার পছন্দমত স্বামী বেছে নেবে।"
তাই ঠিক হল। পাথরটা তুলে নিল তারা, আর একটা অদ্ভুত ব্যাপার, পাথরটায় নীচে চামড়ার থলিতে রাখা আছে আগেকার দিনের তিন হাজার মোহর | মোহরগুলি সমান ভাগে ভাগ করে নিল এবং গ্রামে আর না ফিরেই সুন্দরীর খোঁজে রওয়ানা দিল তারা ।
গোটা স্তেপ এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত চষে বেড়াল তারা, ঘোড়ার সাজ, জিন ছিঁড়েকুটে গেল, কিন্তু পাথরের ওপরে খোদিত সেই মেয়েটির খোঁজ পেল না । ঘুরতে ঘুরতে শেষ পর্যন্ত তারা এসে উপস্থিত হল রাজধানীতে । রাজধানীর প্রান্তে এক বৃদ্ধ মহিলার সঙ্গে দেখা হল তাদের। ভাইয়েরা তাকে পাথরটা দেখিয়ে জিজ্ঞেস করল, সে জানে কিনা পাথরে খোদিত ঐ সুন্দরীকে, কোথায় থাকে সে ।
বলল মহিলাটি, জানব না আবার, এ তো আমাদের থানের মেয়ে। ওর নাম আইসলু । ওর মত রূপগুনের অধিকারী আর কোনো মেয়ে নেই পৃথিবীতে।
এত পথ পেরিয়ে আসার কষ্ট, ক্লান্তি সব ভুলে গিয়ে ভাইয়েরা তখুনি রাজপ্রাসাদের দিকে রওনা দিল । পাথরের ফলকের ওপর লেখাটা পড়ে প্রহরীরা শাহজাদীর কক্ষে তাদের প্রবেশ করার অনুমতি দিল ।
জীবন্ত আইসলুকে (চাঁদের মতো সুন্দর) দেখে তারা হতবাক হয়ে গেল ! চাঁদের নামে তার নাম” কিন্তু সূর্যের মতই উজ্জ্বল সে ।
কারা আপনারা কি প্রয়োজনে আমার কাছে আগমন? আইসলু জিজ্ঞাসা করল। বড় ভাই সকলের হয়ে উত্তর দিল : 'স্তেপের মধ্যে শিকার খুঁজতে খুঁজতে তোমার প্রতিকৃতিসমেত এই পাথরটা আমরা পাই, আর আধখানা পৃথিবী ঘুরে ঘুরে অবশেষে এটাকে তোমার কাছে নিয়ে এসেছি। এবার প্রতিশ্রুতি পূরণ কর, আইসলু আমাদের মধ্য থেকে একজনকে পছন্দ করে নাও স্বামী হিসাবে।"

সুন্দরী আইসলু দামী গালিচা থেকে উঠে ভাইদের কাছে এসে বলল : 'হে বীর যুবকেরা, আমি আমার প্রতিশ্রুতি ফিরিয়ে নিচ্ছি না। যদি আপনারা সবাই সমান হন আমার চোখে, তাহলে কি করে ন্যায়বিচার করব আমি! কি করে জানব কে সবচেয়ে বেশি উপযুক্ত ? আপনাদের ভালবাসার একটা পরীক্ষা নিতে চাই। এক মাসের মধ্যে যে আমাকে সব থেকে অসাধারণ উপহার এনে দিতে পারবে তারই স্ত্রী হব আমি। এই শর্তে রাজী আপনারা ?

ভাইয়েরা সম্মত হয়ে তাকে বিদায় জানিয়ে আবার তখুনি রওনা দিল । তারা লক্ষ্যও করল না যে শাহজাদী ইতিমধ্যেই ভাইদের মধ্যে সব থেকে ছোটজনকে মনপ্রাণ দিয়ে ভালবেসে ফেলেছে। সে ভালবাসা এত গভীর যে সেই সময় থেকেই সে মলিন, শীর্ণ হয়ে যেতে লাগল, যেন এক কঠিন অসুখে পড়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই সে বিছানা নিল, এমন কি নিজের বাবাকেও চিনতে পারল না। সারা দুনিয়া থেকে হাকিমবদ্যি ডেকে পাঠাল খান, যে তার মেয়েকে সরিয়ে তুলবে তাকে হাজারটা উট দেবার কথা ঘোষণা করল । জাদুকর, বদ্যিতে ভর্তি হয়ে গেল রাজপ্রাসাদ । কিন্তু খানের সুন্দরী কন্যার অবস্থা ক্রমশই খারাপ হতে লাগল ।

ঐ সময় তিন ভাই রাজধানী থেকে অনেক দূরে পৌছে গেছে। অনেকক্ষণ ধরে তারা চলল এক পথ ধরেই, তারপর পথটা বিভিন্ন দিকে চলে গেছে, ভাইয়েরাও বিভিন্ন পথে রওনা হল । ঠিক হল ত্রিশ দিন বাদে আবার সেই জায়গায় এসে মিলিত হবে তারা ।
বড় ভাই ডান দিকে গেল, কিছু পথ চলার পরে এসে পৌছল এক বড় শহরে। সব দোকান ঘুরে ঘুরে সে এক জায়গায় দেখতে পেল অপূর্ব সোনার ফ্রেমে বাঁধান একটি চমৎকার আয়না ।
কত দাম এই আয়নাটার ?’ 
‘আয়নাটার দাম একশো মোহর, আর এটির গোপন রহস্যের দাম পাঁচশো মোহর ।'
‘কি সে গোপন রহস্য ? ’
‘এই আয়নাটা এমন যে, ভোরের আলো ফোটার সময় যদি এই আয়নাটার দিকে তাকাও তো দেখতে পাবে সারা পৃথিবী, পৃথিবীর সমস্ত শহর কুঠীর।
"এমন একটা জিনিসই আমার প্রয়োজন!’ ভাবল ছেলেটি। কোন চিত্তাভাবনা না করেই সে দাম মিটিয়ে দিয়ে আয়নাটা বুকের কাছে লুকিয়ে রাখল পোশাকের মধ্যে, তারপর ফিরে চলল সেখানে যেখানে তাদের দেখা হওয়ার কথা।
ওদিকে মেজ ভাই চলল সোজা মাঝখানের পথটা ধরে। সেও এক সময়ে অজানা এক শহরে এসে পৌছাল । বাজারে যেখানে বিদেশী সওদাগররা পসরা সাজিয়ে বসেছিল সেখানে তার চোখে পড়ল অপূর্ব কারুকাজ করা একটি গালিচা ।
‘কত দাম গালিচাটার ?’-- জিজ্ঞেস করল সে বিক্রেতাকে । ’
‘গালিচাটার দাম পাঁচশ মোহর আর এর রহস্যের দাম আরও পাঁচশ মোহর ।' 
‘কোন গোপন রহস্যের কথা তুমি বলছ ?’
‘এ হল উড়েচলা গালিচা এক মুহুর্তে পৃথিবীর যে কোন জায়গায় মানুষকে নিয়ে যেতে পারে এ গালিচা।’
ছেলেটি ব্যবসায়ীকে সঙ্গের সমস্ত টাকা দিয়ে দিল আর গালিচাটা গোল করে মুড়ে নিয়ে ফিরে চলল মনে বেশ অহঙ্কারের ভাব নিয়ে।
সবার ছোট ভাই চলল বাঁদিকে । চলতে চলতে সে এসে পৌছল এক অজানা শহরে। দোকানপাটগুলি ঘুরে ঘুরে সে প্রিয়তমাকে উপহার দেবার উপযুক্ত কিছুই তেমন খুঁজে পেল না। একেবারে হতাশ হয়ে পড়ল সে । হঠাৎ এক কদাকার বুড়োর দোকানে সে কি যেন একটা উজ্জ্বল বস্তু দেখতে পেল।
'ওটা কি ?’ জিজ্ঞেস করল সে । দোকানী তার হাতে দিল দামী দামী পাথর বসান এক সোনার চিরুণি। ছেলেটির চোখ চকচক করে উঠল ।
কত চাও চিরুণিটার জন্য? দোকানী ঘড়ঘড় করে হাসল, তারপর দাত কিড়মিড় করে বলল :

‘ভেগে পড় এখান থেকে এমন একটা জিনিস কেনার ক্ষমতা আছে নাকি তোমার। চিরুণিটার দাম হাজার মোহর আর এর রহস্যের দাম দু'হাজার মোহর ।
চিরুণির রহস্যটা কি? কি জন্য তুমি এত দাম চাইছ ? 
বুড়ো বলল : যদি এই চিরুণি দিয়ে অসুস্থ মানুষের চুল আঁচড়ে দাও তো সে সুস্থ হয়ে উঠবে, আর যদি মৃত লোকের চুল আঁচড়ে দাও তো সে বেঁচে উঠবে।" .
'আমার আছে মাত্র এক হাজার মোহর, বিষণ্ণভাবে বলল ছেলেটি, দয়া কর আমায়। এতেই বিক্রি করে দাও আমায় চিরুণিটা, এই চিরুণিটাই আমার ভাগ্য নির্ধারণ করবে !"

‘ঠিক আছে,’ ঠোঁট বেঁকিয়ে হিংস্রভাবে বিড় বড়ি করে বলল বুড়ো, ‘হাজার মোহরের বদলে চিরুণিটা দেশ তোমায় যদি ফাউ হিসাবে নিজের শরীর থেকে এক টুকরো মাংস কেটে দাও ’
ছেলেটি বুঝল যে লোকটি মোটেও ব্যবসায়ী নয়, হিংস্র নরখাদক । কিন্তু সে একটুও ভয় পেল না, পিছিয়ে গেল না । কোন কথা না বলে পকেট থেকে মোহরগুলি ঢেলে দিল, তারপর ছুরি দিয়ে বুকের থেকে এক টুকরো মাংস কেটে নিয়ে ভয়ঙ্কর লোকটিকে দাম মিটিয়ে দিল । চিকুণিটা তার হয়ে গেল ।
ঠিক ত্রিশ দিন পরে তিন ভাই আবার এসে মিলিত হল সেই জায়গায় যেখানে তারা বিচ্ছিন্ন হয়েছিল। ভাইয়েরা পরস্পরকে আলিঙ্গন করে কুশল জিজ্ঞেস করল আর যে যা কিনেছে দেখাল ।
‘কোন জিনিসটা আইসলুর বেশি পছন্দ হবে ? আয়না, গালিচা, চিরুনী—সবকটা জিনিসই ভাল।" ভাবল প্রত্যেকেই।
গল্প করে কেটে গেল রাতটা । ভোর বেলায় যখন শুকতারা দেখা দিল আকাশে, পুবের আকাশ লাল হয়ে উঠল, ভাইয়েদের মনে হল কি হচ্ছে পৃথিবীতে দেখে ।
সারা পৃথিবী ভেসে উঠল তাদের চোখের সামনে, আইসলু যেখানে আছে ভেসে উঠল সেই প্রাসাদও । কিন্তু এ কি ? প্রাসাদের সামনের রাস্তা লোকে লোকারণ্য, সবার মুখ বিষণ্ন, কাকে যেন কবর দেওয়া হচ্ছে। দামী একটা তাঁবুতে করে বার করে আনা হল মৃতব্যক্তিটিকে, তার পেছনে পেছনে বেরিয়ে এল খান স্বয়ং। মনের দুঃখে কাঁদতে কাঁদতে নুয়ে পড়েছে। ভাইয়েরা বুঝতে পারল আইসলু মারা গেছে।

তক্ষুণি মেজ ভাই গালিচাটা বিছিয়ে দিল, তিন ভাই পরস্পরের হাত ধরে তার ওপর দাঁড়াল । গালিচাটা উড়ে গেল মেঘের মধ্যে, পরমুহুর্তে এসে নামল আইসলুর কাছে। ভিড়ের লোকেরা এক পাশে সরে গেল। খান হঠাৎ আকাশ থেকে উড়ে আসা তিনজন যুবকের দিকে তাকিয়ে রইল অবাক হয়ে, কি ঘটছে কিছুই বুঝতে পারল না। আর ছোটভাই মৃত শাহজাদীর কাছে ছুটে দিয়ে তার চুলটা আঁচরে দিল সোনার চিরুণি দিয়ে।

নিঃশ্বাস নিঃশ্বাস মিল আইসলু, একটু কেঁপে উঠে দাঁড়াল : আগের মতই সুন্দর, আগের চেয়ে আরো বেশি সুন্দর ; খান মেয়েকে বুকে চেপে ধরল। আনন্দে সবাই চীৎকার করে উঠল । হর্ষধ্বনির মধ্য দিয়ে সবাই ফিরে চলল প্রাসাদের দিকে।
সেই দিনই খান এক বিরাট ভোজসভার আয়োজন করে তাতে রাজধানীর সব বাসিন্দাদের আমন্ত্রণ জানালেন । 

বাজারে বাজারে জঞ্জাল ঘেঁটে খাবার কুড়িয়ে বেড়ান এক বুড়োও আমন্ত্রিত হয়েছিল সেই ভেজে । সম্মানিত ব্যক্তিদের জন্য নির্দিষ্ট আসনে বসেছিল তিন ভাই; তাদের জন্য খাদ্যদ্রব্য নিয়ে আসছিল স্বয়ং আইসলু। ভাইয়েরা আবার তাকে জিজ্ঞেস করতে লাগল, তাদের মধ্যে কাকে সে স্বামীত্ত্বে বরণ করে নেবে।
অন্ধকার হয়ে গেল আইসলুর মুখ, চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ল । আমি ভালবাসি একজনকে, কিন্তু পরীক্ষার পরেও তোমরা তিনজনই আমার কাছে সমানই রয়ে গেছ, কারণ তোমরা তিনজনই অবাক করে দেওয়া উপহার এনেছ ।
তারপর সে বাবার পরামর্শ চাইল ! একটু চিন্তা করে খান বলল :
যে আয়নাটা বড় ভাই এনেছে সেটা ছাড়া তোমরা জানতেই পারতে না আইসলুর মৃত্যুর কথা। মেজ ভাইয়ের কেনা গালিচা ছাড়া তোমরা ঠিক সময়ে এসে উপস্থিত হতে পারতে না। আর ছোট ভাইয়ের্নেআ চিরুণিটা ছাড়া তোমরা আমার মেয়ের জীবন ফিরিয়ে দিতে পারতে না । আমি তোমাদের আধখানা রাজ্য দিয়ে দিতে পারি, কিন্তু কার হাতে আইসলুকে তুলে দেওয়া উচিত তা বুঝতে পারছি না।
হঠাৎ ভিড়ের মধ্যে শোনা গেল সেই ভিখারী বুড়োর গলা । 
“মহারাজ, একটা কথা বলার অনুমতি দিন।” 
সে দিন খুশীতে খানের মনটা খুব উদার হয়ে গিয়েছিল । 
‘বল’, অনুমতি দিল সে। 
‘সবকিছু বিবেচনা করে আমি হলে এমনি বিচার করতাম,’ বলল বুড়ো, যে সবচেয়ে বেশি দাম দিয়ে উপহার কিনেছে আইসলু তারই হোক ।
খান সম্মতি জানালেন ; “তই হোক!’ 
‘আমি আয়নাটার জন্য ছ’শ মোহর দিয়েছি, বলল বড় ভাই । 
‘আমি গালিচাটার জন্য দিয়েছি হাজার মোহর, মেজ ভাই বলল । 
আমিও চিরুনীর জন্য দিয়েছি হাজার মোহর আর. হঠাৎ চুপ করে মাথা নামিয়ে নিল ছোট ভাই । -
'চুপ করলে কেন? চীৎকার করে উঠল খান। বল সত্যি করে। তখন ছেলেটি বুকের পোশাক সরিয়ে দিল, সবাই দেখল তার বুকে একটা বিরাট ক্ষতস্থান হা হয়ে আছে ;
আইসলু চীৎকার করে উঠে হাতে মুখ ঢাকল। আর খান সেই বীরকে আলিঙ্গন করে বলল :
আমার মেয়েকে তোমার হাতে তুলে দিচ্ছি তুমি আমার জামাতা ও উত্তরাধিকারী হও ’
তারপর অতিথিদের দিকে ফিরে সবাইকে শুনিয়ে বলল যে, বড় দুই ভাইকে উজীর করা হবে আর সেই বুড়ো যে যথার্থ উপদেশ দিয়েছে তাকে কাজী করা হবে।
এরপর ভোজসভা আবার পূর্ণ হয়ে গেল হর্ষধ্বনিতে । ত্রিশ দিন ধরে চলল সেই ভোজসভা আরও চল্লিশ দিন ধরে বিদায় জানান হল ভোজসভাকে আর সেই ভোজসভার স্মৃতি আজ পর্যন্ত বেঁচে আছে।
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য