ভারবাহী দুই গাধা

দুই গাধা চলেছে পথ দিয়ে। দুয়ের পিঠেই এই ভারী বোঝা। একটির পিঠের দু’ধারে দুই বেতের চুপড়িতে মোহর আর টাকা, আর একটার পিঠের দুই দিকে দুই গমের বস্তা। যার পিঠে নামী জিনিস সে চলেছে মাথা উঁচু করে, আর ঘাড় নেড়ে নেড়ে গলায় বাঁধা ঘন্টা ঘন ঘন বাজিয়ে, গমের বস্তা বইছে যেটা সেটা নীরবে ধীরে সুস্থে তার পিছনে চলেছে।
পথের ধারে এক ঝোপে বসে ছিল কয়েকজন ডাকাত । তারা দুই গাধার চলনভঙ্গ দেখেই বুঝে ফেললে কার পিঠে কি দরের জিনিস। গাধা দুটাে কাছাকাছি আসতেই তারা এক লাফে বেরিয়ে এসে যে গাধার পিঠে মোহর আর টাকা ভরা থলি, তলোয়ার দিয়ে তার পেট এ-ফোঁড় ও ফোঁড় করে দিয়ে থলি দুটো নিয়ে নিল । যার পিঠে গমের বস্তা তাকে দিলে ছেড়ে। 
প্রথম গাধাটা মরবার সময় কত বিলাপই না করে গেল । দ্বিতীয়টি তখন মনে মনে বলছে, ভাগ্যিস আমার বোঝার আকারটা দেখেই ওরা বুঝেছে এতে নজর দেবার দরকার নেই- আমাকে নিয়ে মাথা ঘামানোর ওদের দরকার নেই, তাই আমায় কিছুই খোয়াতে হ’ল না, জানটাও আমার বেঁচে গেল, একটা আঁচড়ও লাগল না আমার গায়ে ।


উপদেশ:  নানা বিপদঝঞ্জা দুর্ভাবনার ভিতর দম্ভী ধনীর দিন কাটাতে হয়, আর নিরহঙ্কার দীন ব্যক্তির দিন কাটে নির্ভয়ে–নিশ্চিন্তে ধনী থাকে শঙ্কায়, গরিব নির্ভাবনার।
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য