কাদিরের নসীব --কাজাখ লোককাহিনী

দুই ভাই ছিল। বড় ভাই বুদ্ধিমান, কর্মঠ আর ছোট ভাই ছিল নির্বুদ্ধি, অলস আর হিংসুটে । নাম তার কাদির । তাকে নিয়েই এই গল্প ।
কাদির একদিন তার ভাইয়ের কাছে এসে আক্ষেপ করে বলল : ,
"কেন এমন হয় বল দেখি, ভাই! তুমি আর আমি এক বংশের ছেলে, মায়ের পেটের ভাই । কিন্তু ভাগ্য আমাদের বিভিন্ন। তোমার সবকিছুতেই সাফল্য আর আমার সবেতেই ব্যর্থতা । তোমার ভেড়াগুলো মোটা হচ্ছে, বাচ্চা দিচ্ছে, আর আমারগুলো পটাপট মরছে; তোমার ঘোড়া দৌড়ে প্রথম হল আর আমারটা মাঝপথে আমাকে ছুড়ে ফেলে দিল; তোমার ঘরে মাংস আর কুমিস*(* ঘোড়ার দুধ দিয়ে তৈরী পানীয়) সদাই মজুত, আর আমার ঘরে বিস্বাদ সুপ তাও পেটভরা নেই; তোমার আছে স্নেহময়ী স্ত্রী, আর আমার দিকে কোন মেয়েই ফিরে তাকায় না; তোমাকে বৃদ্ধরাও সম্মান করে আর আমাকে ছোট ছেলেরাও গালিগালাজ করে...’
বড় ভাই মৃদু হেসে উত্তর দিল ।
'আমার মসীবই আমাকে সাহায্য করে নিশ্চয়ই।’
‘মসীব আমাকে সাহায্য করে না কেন?’
‘প্রত্যেকেরই নিজের নিজের মসীক আছে রে ভাই। আমার নসীর খাটাখাটনি করতে ভালবাসে আর তোরটা কোথায় কোন গাছতলায় পড়ে ঘুমোচ্ছে।’
আচ্ছা, নসীবটাকে খুঁজে বার করে আমার জন্য খাটাখাটনি করতে বাধ্য করব।" ভাবল কাদির।
সেইদিনই সে নসীবের সন্ধানে পথে বেরিয়ে পড়ল ।
চলতে চলতে সে অনেকদূরে এসে পৌছল। হঠাৎ একটা পাথরের আড়াল থেকে লাফ দিয়ে বেরিয়ে এল একটা সিংহ, তার কেশর ফুলে উঠেছে ; কাদিরের পথ আটকে দাঁড়িয়ে সে অপেক্ষা করতে লাগল। ভয় পেয়ে গেল কাদির, পালিয়ে যাবার কোন জায়গা নেই- চারপাশে ন্যাড়া স্তেপভূমি। কি হবে?
সিংহটা বলল :
কে তুই?"
‘আমি কাদির ।”
"কোথায় যাচ্ছিস?’
‘নিজের নসীবকে খুঁজতে যাচ্ছি।’
তাহলে শোন, কাদির, যখন নসীবকে খুঁজে পাবি, তাকে জিজ্ঞেস করবি, কি করলে আমার বেদনাটা কমবে। কোন লতাপাতায় আর কাজ হচ্ছে না । ভীষণ কষ্ট পাচ্ছি। যদি তুই কথা দিস যে এ কাজটা করবি তাহলে তোকে ছেড়ে দেব আর তা নাহলে ছিড়ে খাব তোকে এখনই।
কাদির সিংহকে কথা দিল তার জন্য নিয়ে আসবে ওষুধ বা জেনে আসবে কি খেলে কাজ হবে, সিংহটা তার পথ ছেড়ে দিল ।
এগিয়ে চলল কাদির, দেখে, রোদের তাপে জ্বলে যাওয়া মাঠের মধ্যে বসে কাঁদছে এক বুড়ো, এক বুড়ী আর অপূর্ব সুন্দরী এক মেয়ে, এমন দুঃখের সে কান্না, যেন তাদের কোন আত্মীয় মারা গেছে।
কাদির থেমে জিজ্ঞেস করল :‘ওহে, তোমরা কাঁদছ কেন?
বলল বুড়ো, আমাদের বড় দুঃখ, তিন বছর আগে আমি এই জমিটা কিনি, এর দাম মেটাতে আমার যা কিছু ছিল সব দিয়ে দিয়েছি। সর্বশক্তি দিয়ে এই জমি চাষ করি আমরা, মা যেমন তার শিশুর যতন করে তেমনই আমরা এই শস্যের যতন করি। কিন্তু এখনও একবারও আমরা ফসল তুলতে পারি নি। চারাগাছগুলো হু হু করে বেড়ে ওঠে, বসন্তকালে সমস্ত জমিটা সবুজ হয়ে যায় । প্রচুর শস্য পাবার আশায় মন ভরে ওঠে। কিন্তু গ্রীষ্মের মাঝামাঝি গাছে যত জলই দেওয়া হোক না কেন সেগুলি শুকিয়ে যায় আর একেবারে শিকড় পর্যন্ত জ্বলে যায়। এর কারণ কি, কেউ বলতে পারে না। অামাদের নসীবে সুখ নেই গো ভালমানুষের ছেলে, মারা পড়ব আমরা।
কাদির বলল :“আমারও নসীবটা কোথায় কোন গাছের তলায় পড়ে ঘুমোচ্ছে। তাকেই আমি খুঁজতে যাচ্ছি।’
তখন বুড়ো কাদিরকে অনুরোধ করতে লাগল;
‘তোমার মঙ্গল করুন বাছা, সফল হও তুমি । যদি নসীবকে খুঁজে পাও তাহলে তাকে জিজ্ঞেস কোরো সে বলতে পারি নাকি আমাদের গাছগুলো মরে যায় কেন । তোমার কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকব আমরা।’

কাদির তাকে কথা দিল যে উত্তর জেনে এই পথেই সে ফিরবে। তারপর আবার রওনা দিল নিজের পথে ।
কয়েক দিন পরে কাদির এক বড় শহরে এসে পৌছাল, জানতে পারল যে সেটা ঐ দেশের রাজধানী । সেই শহরের ভীড়েভরা রাস্তায় সে পা রাখতে না রাখতেই প্রহরীরা তার ওপরে এসে ঝাঁপিয়ে পড়ল, ঘাড় ধরে তাকে নিয়ে চলল রাজার প্রসাদে। হঠাৎ এই ঘটনায় একেবারেই ঘাবড়ে গেল কাদির । কি অপরাধ করেছে কিছুই বুঝতে না পেরে সে চরম কিছুরই অপেক্ষায় রইল। কিন্তু রাজা তাকে গ্রহণ করলেন মিষ্টি হেসে, মিষ্টি কথা বলে।
বলল রাজা, ‘তুমি আমার অতিথি হও বিদেশী, কে তুমি, কোথায় যাচ্ছ সব বল । 

কাদির হাটুগেড়ে বসে পড়ে বলতে লাগল রাজাকে সবকিছু, কিন্তু তার কথাবার্তা সব গুলিয়ে যেতে লাগল ।
তার কথা সব শুনে রাজা আদেশ দিল : ওঠ কাদির, আমার কাছে এস আমাকে ভয় পেও না । আমি তোমাকে বলছি আমার বন্ধু ভেবে, ভৃত্য ভেবে নয়। তোমার কাছে আমার একটা অনুরোধ আছে। যখন তুমি তোমার নসীবকে খুঁজে পাবে তাকে জিজ্ঞেস কোরো, কেন এমন বিশাল ধনী, শক্তিশালী রাজ্যের রাজা হয়েও মনে আমার কোন আনন্দ নেই, সোনার প্রাসাদে আমি বিষণ্ন হয়ে বসে থাকি । উত্তর যদি নিয়ে আস, তা সে যে ধরণের উত্তরই হোক না কেন তোমাকে আমি অনেক পুরস্কার দেব।

আবার রওনা দিল কাদির। তিন বছর ধরে পথ চলে সে এসে পৌছাল এক বিরাট কালো পাহাড়ের কাছে। দেখে, খাড়া পাহাড়ের কাছে দাঁড়িয়ে আছে একটা বিশাল গাছ আর তার নীচে শুয়ে একেবারে মরার মত ঘুমিয়ে আছে থালি-গা, খালি-পা, নোংরা চেহারা, চুল উস্কোখুস্কো মানুষের মত কি যেন একটা জীব ।
"এটাই কি আমার নসীব নাকি? ভাবল কাদির। তারপর জাগাতে লাগল সেই কুঁড়ের হদ্দটাকে ।
'এই ওঠ, ওঠ, কাজ করতে লাগ। দেখ্‌ গিয়ে, আমার ভাইয়ের নসীব কেমন তার জন্য মাথার ঘাম পায়ে ফেলে খাটছে। তুই আমার জন্য খাটতে চাস না কেন? ওঠ শীগগিরি।"
অনেকক্ষণ ধরে সে চেঁচাতে আর ধাক্কা দিতে লাগল ঘুমন্ত জীবটাকে । তারপর নসীব একটু নড়েচড়ে, হাত-পা ছড়িয়ে লম্বা হয়ে শুল, তারপর মাথাটা একটু উঁচু করে, হাই তুলে, চোখ রগড়াতে লাগল।

কাদির, তুই নাকি? শুধু শুধুই তুই দুনিয়াময় ঘুরে ঘুরে পা ব্যথা করছিস । এইরকম একটা ছায়াময় গাছের নীচে শুয়ে থাকলেই পারতিস, আরামে বাঁচতে পারতিস তাহলে । তোর ভাইয়ের মত বুদ্ধিমান আর পরিশ্রমী লোকদেরই সাহায্য করে নসীব আর তোর মত নির্বুদ্ধি, অলস লোকদের জন্য মসীবও কিছু করবে না। যাক, তুই যখন আমার কাছে এসেই পড়েছিস তখন বোস্, বল কেমন করে তুই এপথ খুঁজে পেলি, কি দেখেছিস পথে, কার সঙ্গে দেখা হয়েছে, কি নিয়ে কথা বলছিস, আর আমার কাছে তোর প্রয়োজনই বা কি '

বলতে থাকে কাদির আর তার নসীব হাই তুলতে থাকে তার কথা শুনতে শুনতে । শেষ পর্যস্ত শুনে, নসীব তাকে শিখিয়ে দিল ফিরে যাবার পথে কাকে কি উত্তর জানাতে হবে, তারপর বলল:
"তোর সব কথা শুনে আমি বুঝলাম কাদির যে তোর মধ্যে অনেক খারাপ গুণ থাকলেও ভাল গুণও অনেক আছে । তোর স্বভাবের এই ভাল দিকটার জন্য আমি তোকে পুরস্কার দিতে চাই। বাড়ী যা, তোর সামনে মস্ত বড় সৌভাগ্য অপেক্ষা করে আছে, যা সবাই পায় না । দেখিস, বোকামী করে সে সৌভাগ্য হাতছাড়া করিস না যেন । বিদায়?”
কাদিরের নসীব আধার লম্বা হয়ে শুয়ে পড়ে সারা উপত্যকা কাঁপিয়ে নাক ডাকাতে লাগল। কাদির আবার তাকে ধাক্কা দিতে লাগল, নিজের ভবিষ্যতের কথাটা ভাল করে জেনে নেবার জন্য। কিন্তু ঘেমে মেয়ে গেল, জাগাতে পারল না । 

কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে তারপর পিছন ফিরে নিজের পায়েরই চিহ্ন ধরে ধরে ফিরে চলল ।
কাদির সেই রাজার রাজ্যে এসে পৌছল। অত্যন্ত খুশী হয়ে রাজা সমস্ত ভৃত্য ও দেহরক্ষীদের চলে যেতে আদেশ দিল, অতিথিকে নিজের কাছে বসিয়ে বলল; বল, কাদির!' 
কাদির বলল: আমার নসীব তোমার দুঃখের কারণ জানিয়েছে আমায় । তুমি রাজ্য শাসন করছ, সবাই তোমায় রাজা বলে সম্বোধন করে, ভাবে তুমি পুরুষমানুষ। আসলে তুমি স্ত্রীলোক । এই সত্য গোপন করা সহজ নয় তোমার পক্ষে। শাসনভার আর সামরিক দায়িত্ব পালন করে চলা তোমার একার পক্ষে অত্যন্ত কঠিন । উপযুক্ত স্বামী বেছে নাও নিজের জন্য, তাহলেই তোমার মনের আনন্দ আবার ফিরে আসবে।’
তোমার নসীব ঠিক কথাই বলেছে, লজ্জিত রাজা দামী পাগড়ি খুলে ফেলল, কালো চুলের বেনী নেমে এল রঞ্জন গালিচার উপর। কাদির দেখল তার সামনে বসে আছে পূর্ণিমার চাঁদের মত সুন্দরী এক যুবতী ।
লজ্জায় লাল হয়ে যুবতীটি বলল : ‘তুমিই প্রথম পুরুষমানুষ যে আমার গোপনকথা জেনেছে। তুমিই আমার স্বামী আর এ দেশের রাজা হও ।
এই প্রস্তাবে বিশ্বয়ে হতবাক হয়ে গেল কাদির তারপর চেতনা ফিরে পেয়ে মাথা বাঁকিয়ে হাত নাড়িয়ে বলল :
না, না, রাজা হতে চাই না আমি আমার সুখ অপেক্ষা করে আছে আমার জন্য? আবার রওনা দিল সে । পথে তার দেখা হল সেই বুড়ো-বুড়ী আর তাদের সুন্দরী মেয়ের সঙ্গে । তাকে অভিবাদন জানিয়ে জিজ্ঞেস করল তারা :
আমাদের দুঃখ ঘোঁচাবার জন্য তুমি কি কিছু জেনে এসেছ কাদির? 
কাদির বলল, “ শোন, তাহলে বলি। বহুদিন আগে এক ধনীলোক বিদেশী আক্রমণের ভয়ে এই জমির নীচে চল্লিশ ঘড়া মোহর পুঁতে রেখেছিল। সেই জন্যই তোমাদের জমিতে কোন ফসল হয় না। ঐ মোহর খুঁড়ে বার কর, তোমাদের জমি উর্বরা হয়ে উঠবে, আর তোমরাও এই অঞ্চলের সব থেকে ধনী হয়ে উঠবে।"
আনন্দে বেচারীরা নাচানাচি আরম্ভ করে দিল, তারা হাঁসছে, কাঁদছে কাদিরকে জড়িয়ে ধরছে ।
বুড়ো বলল : তুমি আমাদের দুঃখ ঘোচালে, কাদির। তুমি আমাদের কাছে থেকে যাও। মাটি খুঁড়ে মোহর তুলে আনতে সাহায্য কর আমাদের। এই ধনের অর্ধেকটা তুমি নাও আর আমার মেয়েকে বিয়ে করে আমার সন্তান ও জামাতা হও।”
বুড়ো-বুড়ীকে কাদিরের বেশ ভাল লাগল, আরো বেশী ভাল লাগল তাদের মেয়েকে । কিন্তু তবুও সে তাদের কাছে এমন কি রাতটাও কাটাল না।
'না, কাদির বলল, “আমার সুখ আমার জন্য অপেক্ষা করে আছে " তারপর আবার হাটা শুরু করল ।
হাঁটতে হাঁটতে জুতো গেল ছিড়ে খুঁড়ে, পা ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেল, কোনরকমে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হেঁটে চলল, মরুভূমির পথ ধরে। সামনে একটা বড় পাথর দেখে তার ওপর বসে চিত্তা করতে লাগল ‘পথের তো শেষ হতে চলল কোথায় আমার সুখ?'
একথা মনে হওয়ামাত্রই দেখে তার সামনে দাঁড়িয়ে সিংহ । ‘তুমি আমার জন্য উপদেশ বা ওষুধ কিছু এনেছ নাকি, কাদির?’ বলল সিংহ। 
ওষুধ আনি নি, কিন্তু তোমার এই কষ্ট থেকে রেহাই পাবার জন্য একটা পথ আছে। পৃথিবীতে সব থেকে নির্বোধ লোকের মগজের ঘিলুটা খেয়ে নাও যদি, তবেই সেরে উঠবে।"
তুমি আমায় বাঁচালে, কাদির। এবার তাহলে বোকা লোকের খোজ করতে হয়, হয়ত তুমি আমাকে সাহায্য করবে এ ব্যাপারে । এবার বল দেখি পথে কাদের সঙ্গে দেখা হয়েছে তোমার, কি কথা বলেছ তাদের সঙ্গে ৷ যতক্ষণ না সব বলছ, ছাড়া পাবে না কিছুতেই ?

করার কিছু নেই, বলতে আরম্ভ করন্স কাদির । পুরনো দেবদারু গাছের নীচে শুয়ে থাকা তার মসীবের সঙ্গে দেখা হওয়ার কথা, মেয়ে-রাজার কথা, সেই বুড়ো-বুড়ী আর তাদের সুন্দরী মেয়ের কথা ।
সিংহের চোথ চকচক করে উঠল, দাত কিড়মিডু করল সে, তারপর কেশর ফুলিয়ে বলল :
তুই একটা আহাম্মক, কাদির! হাতের মধ্যে এমন সুখ পেয়েও তুই তাকে ধরে রাখতে পারলি না। তুই প্রত্যাখ্যান করেছিস ক্ষমতা ও সম্মানকে, ধনসম্পদকে আর প্রত্যাখ্যান করেছিল দুই সুন্দরী পাত্রীকে.যদি আমি তিনবারও ঘুরে আসি সারা পৃথিবীটা তবুও তোর থেকে বেশী বোকা লোক খুঁজে পাব না। তোর মগজটাই আমার অসুখ সারাবে!......" -

সিংহটা ছুটে এসে ঝাঁপিয়ে পড়ল কাদিরের ওপর। তাড়া খাওয়া ভেড়ার মত ভয় পেয়ে কাদির মাটিতে পড়ে গেল। তাই বেঁচে গেল সে। সিংহটার বুক গিয়ে পাথরের ওপর পড়ে সেই আঘাতে তক্ষুনিই মরে গেল ।
‘কি নসীব!’ আনন্দে আত্মহারা হয়ে চীৎকার করে উঠল কাদির। অনিবার্য মৃত্যু আমাকে গ্রাস করতে এসেছিল, আর বেঁচে গেলাম আমি ওঃ কি কপাল!'

কাদির যখন প্রামে ফিরে এল কেউ তাকে চিনতে পারল না; চেহারাটা তেমনই, কিন্তু স্বভাব বদলে গেছে। যেন পুনর্জন্ম হয়েছে তার, নতুন মানুষ হয়ে গেছে সে। সদা হাসিখুশী, অমায়িক স্বভাব, কোনকিছুতেই বিরক্তি নেই, কাউকেই আর হিংসা করে না । সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খেটে যায় গান গাইতে গাইতে, সবাই তাকে প্রচুর প্রশংসা করতে লাগল তার বিচক্ষণতা আর সুন্দর স্বভাবের জনা । দিনে দিনে তার ধনসম্পদ বেড়েই উঠতে লাগল। বিয়ে-থা করে সে সুখে-স্বচ্ছদে থাকতে লাগল।
’কেমন আছ, কাদির?’ বন্ধুর জিজ্ঞাসা করে । কাদির মৃদু হেসে উত্তর দেয়: পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ আমি!
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য