কলসির কাজ দেখাশোনা -- তিব্বতের লোককাহিনী

কোনো এক কালে, একদিন একটি পোড়া মাটির কলসি, একটি কাদামাটির সানকি, একটি ওলকপি, একটি মাছি, একটি যবের শীষ এবং একটি সূচ বাড়ির কাজ ভাগ করে নেওয়ার জন্য একত্র হল । বাড়ির কর্তা হল কলসি । সে সবার মধ্যে কাজ ভাগ করে দিল । কাদার সানকি আনবে পানি, ওলকপি চরাবে গাই, মাছি চরাবে ষাঁড়, যবের শীষ ঝাড়বে তুষ আর সূচ উঠোন ঝাড় দেবে। কলসি বাড়িতে বসে ঘর দেখবে। সব কিছুর বিলি-ব্যবস্থা ঠিক। কলসি তাকের ওপর উঠে গ্যাট হয়ে বসে সারাদিনের কাজের কথা ভাবতে লাগল । সবাই কলসির নির্দেশ মতো কাজ করতে গিয়ে পড়ল মহা সমস্যায়। সব তালগোল পাকিয়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল । কাদার সানকি পানি আনতে গিয়ে হঠাৎ কয়েক ফোটা পানি তার গায়ে পড়তেই অমনি সে ভিজে গলে গিয়ে আর সানকি রইল না। হয়ে গেল কাদামাটি । কাজেই ঘরে আর পানি এল না। ওলকপি গাই এবং মাছি বের হল ষাড় চরাতে। পথে যেতে যেতে গাইয়ের পেল খুব খিদে। আমনি সে হা করে এক গ্রাসে ওলকপিকে খেয়ে ফেলল ।
 মাছি ষাড়ের পেছন পেছন যাচ্ছিল। কিন্তু ষাড়ের গোবরের নাদ তার গায়ে পড়তেই সে পড়ল চাপা। বেচারী এত ছোট যে গোবরের নিচ থেকে তার আর ওঠার অবস্থা রইল না। সে চাপা পড়ে মরেই গেল। তাই গাই ও ষাড় কেউ আর বাড়িতে ফিরতে পারল না। যবের শীষ কী করবে বলেছিল? তুষ ঝাড়বে। এখন তার জানা দরকার কোন দিক থেকে হাওয়া বইছে । সে তখন বাড়ির সীমানা দেয়ালে উঠে এদিক-ওদিক তাকাচ্ছিল । হঠাৎ একটা দমকা হাওয়া এসে তাকে কোথায় উড়িয়ে নিয়ে গেল কেউ জানতে পারল না । হদিসও পাওয়া গেল না। তাই সেও বাড়ি ফিরতে পারল না। সূচ গেল উঠোন ঝাড় দেয়ার জন্য ঝাটা খুঁজতে। উঠোনে পা দিতেই মাটির ফাটলে পড়ে গিয়ে সে হারিয়ে গেল। বেচারীর চিৎকার কেউ শুনতেই পেল না। তাই তার উঠোন ঝাড় দেওয়া হল না। ময়লা আবর্জনায় উঠোন নোংরা হয়ে রইল ।

কলসি দিব্যি তাকে বসে সবার বাড়ি ফেরার অপেক্ষা করতে থাকলো । কেউ আর ফিরে আসে না। এদিকে দুপুর হয়ে এল। পাড়া-পড়শীদের সবার কাজ শেষ হয়ে গেছে, কলসির বাড়ির কাজ তেমনি পড়ে আছে। এতক্ষণ কেউ ফিরে আসছে না দেখে তার একটু চিন্তা হল। তখন সে নিজের মনেই বলল, ‘এরা সবাই অপদার্থ। সবকিছু আমাকেই করতে হবে। দেখি তো ওরা এমন কী কাজ করছে যে ঘরে ফেরার নাম নেই?

এসব ভেবে সে নিজে যে একটি মাটির পাত্র তা ভুলে গিয়ে তাক থেকে দিল এক লাফ । লাফ দিয়ে নিচে পড়তেই সে ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল। তাই সে আর কলসি রইল না এবং বাড়ির কাজ ভাগ করা বা দেখতে যাওয়া কোনো কিছু করার মতো অবস্থা রইল না।
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য