ছোট্ট ভুল -- সুচিত্রা ভট্টাচার্য

ভুলে যাওয়ার বিদঘুটে বদ অভ্যাসটি থেকে ইদানীং মুক্তি পেয়েছেন স্মৃতিধরবাবু। অবশ্য এমনি এমনি নয়, ডাক্তারের ওষুধ খেয়েও নয়। উন্নতিটা ঘটেছে তার গিন্নির এক সুচারু বন্দোবস্তে। দারুণ একখানা কল বার করেছেন স্মৃতিধরবাবুর স্ত্রী। একটা ক্যাসেটে রোজ রেকর্ড করে দেন স্মৃতিধরের সারাদিনের কাজের তালিকা। তারপর ক্যাসেটটিকে ওয়াকম্যানে পুরে চালান করে দেওয়া হয় তার জামার পকেটে। আর একটি স্পিকার লাগানো থাকে স্মৃতিধরবাবুর কানে। ক্যাসেট চালিয়ে শুনে নিলেই হল। কখন কী করতে হবে, মনে পড়ে যাবে পরপর।
যেমন আজই। বাড়ি থেকে বেরিয়ে ওয়াকম্যান চালু করতেই বেজে উঠল প্রথম নির্দেশ। বায়ে সাতানব্বই পা হাটো,
হাই স্কুলে যাব। ভাড়া দেবে পাঁচ টাকা। সেই মতোই রিকশায় উঠে বসলেন স্মৃতিধরবাবু। দিব্যি হাওয়া খেতে খেতে যাচ্ছেন স্কুলে। গিন্নি এই রিকশার ব্যবস্থাটি করায় দু-দুটো লাভ হয়েছে তাঁর। প্রথমত, সাইকেলে চাপার জটিল সমস্যাটি আর নেই। কোনটা বাঁ প্যাডেল, কোনটা ডান প্যাডেল, কোন প্যাডেলে পা রেখে সিটে বসতে হবে, তাকে এইসব খটোমটো হিসেব আর কষতে হচ্ছে না। দু-নম্বর সুবিধে, স্কুলের বদলে অন্য কোথাও চলে যাওয়ার ভয় নেই। এই তো সেদিনই স্কুল ভেবে হাসপাতালে ঢুকে পড়েছিলেন। ক্লাসরুম খুঁজে পেতে সে কী আতান্তর। ছাত্ররা সব ডেস্ক বেঞ্চির বদলে সার দিয়ে বেডে শুয়ে...! ডাক্তার নার্সরা ভুল ধরিয়ে না দিলে কী যে হত সেদিন! তা ওই ঝকমারি আর নেই এখন। 

স্কুলে যেতে পাঁচ, ফিরতে পাঁচ, মাত্র দশ টাকায় কী তোফা মুশকিল আসান। আর স্কুলে একবার পৌছে গেলে স্মৃতিধরবাবুকে তখন পায় কে! ওয়াকম্যান চালানোর তো প্রয়োজনই নেই। রুটিন দেখে দেখে পরপর শুধু ক্লাস নাও, ব্যাস। মাঝে একবারই শুধু যন্ত্রটাকে দরকার। টিফিনের সময়ে। স্মরণ করিয়ে না দিলে স্মৃতিধরবাবু জানবেন কী করে আজ তিনি টিফিন এনেছেন, না আনাতে হবে।
যাই হোক, আজ ক্লাস-ট্লাসগুলো শাস্তিতেই চুকে গেল। নাইনের ছেলেদের দু-দুখানা বুদ্ধির অঙ্ক দিতে পেরে মনটা বেশ খুশি খুশিও রয়েছে। একটা সুদ কষা, আর একটা ঐকিক নিয়ম। একটা লোক যদি শতকরা দুটাকা হারে হাজার টাকা ধার নিয়ে প্রতি মাসে পঞ্চাশ টাকা করে শোধ দেয়, এবং প্রতি তিন মাস পরপর একবার করে টাকা শোধ করতে ভুলে যায়, তাহলে সাকুল্যে কত মাস পরে তার সমস্ত টাকা শোধ হবে। এই অঙ্কটার তুলনায় দ্বিতীয়টা একটু বেশি প্যাঁচালো। 

ছাব্বিশটা পিঁপড়ে একটা চিনির বয়াম উনিশ মাসে খালি করে। প্রতি মাসে যদি দুটো করে পিপড়ে মারা যায়, আর দু-মাস অন্তর একটি করে পিপড়ে এসে দলে যোগ দেয়, তাহলে কত দিন পর বয়ামের চিনি পুরোপুরি সাবাড় হবে। ছেলেগুলো অঙ্ক দুটো পেয়ে মাথা চুলকোতে শুরু করেছিল, দেখে ভারী আনন্দ হয়েছে স্মৃতিধরের। এইসব অঙ্কের সমাধান করেই তো ছাত্রদের মগজ সাফ হবে, নয় কী?

ছুটির ঘণ্টা পড়ে গেছে। স্মৃতিধর এবার বেরোনোর তোড়জোড় করছিলেন। গিয়ে এখন রিকশায় ওঠাটাই তার কাজ, তবু কী ভেবে যেন চালালেন ওয়াকম্যানটা। সঙ্গে সঙ্গে গিন্নির গলা। স্কুল থেকে সোজা হেলাবটতলা ক্লাবে যাবে। সেখানে তোমার একটা সম্বর্ধনা আছে। স্কুলগেট থেকে বেরিয়ে রিকশা নাও। ভাড়া পড়বে চার টাকা।
শুনেই মগজে কিলবিল করে উঠেছে স্মৃতি। হ্যা, তাই তো, পরশু সন্ধেয় জনাচারেক ছেলে এসেছিল বাড়িতে। হেলাবটতলা ক্লাবের সদস্যদের পক্ষ থেকে। অঙ্কে অসামান্য প্রতিভার জন্য তারা এবার মরীচিকা পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করতে চায় স্মৃতিধরবাবুকে এসে নিয়ে যেতেই চেয়েছিল তারা। স্কুল থেকে। স্মৃতিধরই বলেছেন, অত হ্যাপার প্রয়োজন নেই, তিনি নিজেই চলে যাবেন। ভাগ্যিস ওয়াকম্যানটা ছিল, নইলে অনুষ্ঠানটার কথা তো ভুলেই মেরে দিতেন।
মনে মনে গিন্নিকে ফের একবার তারিফ জানিয়ে রিকশা ধরলেন স্মৃতিধর। মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই পৌছে গেছেন হেলাবটতলা।

ক্লাবের সভ্যরা স্মৃতিধরবাবুর জন্যই অপেক্ষা করছিল। ছুটে এসেছে, আসুন স্যার। আসুন স্যার।’
রিকশা থেকে নামতে নামতে প্রফুল্ল মুখে স্মৃতিধর বললেন, ‘আমার দেরি হয়নি তো?”
‘একটুও না। আপনি যে এত পাংচুয়ালি আসবেন, ভাবতেই পারিনি।’
‘এই সময় নিয়ে আমার একটা অঙ্ক আছে, বুঝলে।...একটা লোক তেরো মিনিটে এক মাইল রাস্তা হাঁটতে পারে। একদিন সে দুশো গজ গিয়ে...’
আর এগোতে পারলেন না স্মৃতিধর। উদ্যোক্তা ছেলেগুলো । হাহা করে উঠেছে, ‘অঙ্কটা পরে হবে স্যার। আপনি আগে ভেতরে চলুন।

অধিকাংশই তার প্রাক্তন ছাত্র। এসে তারা প্রণাম করে যাচ্ছে টিপটিপ। সবকটা মুখকেই ভীষণ চেনা চেনা লাগে, তবু
কাউকেই ঠিক পুরো চিনে উঠতে পারছেন না। নাম-ধাম, স্কুল থেকে পাশ করার বছর শুনে মনে পড়ছে একটু একটু, আবার গুলিয়েও যাচ্ছে।
স্মৃতিধর অবশ্য ছেলেগুলোকে নিয়ে বেশি ভাবার অবকাশ পেলেন না। হলের এক ধারে ছোট্ট মঞ্চ প্রস্তুত, সেখানে ওঠার জন্য ডাকাডাকি করছে উদ্যোক্তারা। মধ্যিখানের গদি আঁটা চেয়ারে স্মৃতিধর বসলেন গ্যাট হয়ে। পাশে ক্লাবের সভাপতি পাঁচকড়ি তলাপাত্র। নামটার মধ্যে একটা অঙ্ক অঙ্ক গন্ধ আছে বলে লোকটাকে ভারী পছন্দ হয়ে গেল স্মৃতিধরের। নিজেই যেচে আলাপ জমিয়েছেন। হাসি হাসি মুখে জিগ্যেস করলেন, ‘পাঁচকড়িবাবু কি এখানেই থাকেন?

‘হ্যাঁ মাস্টারমশাই। পাঁচকড়ি বিনয়ে গদগদ, আমি এখানকার মিউনিসিপ্যালিটির চেয়ারম্যান ?
‘বাহ, বাহ। তা আপনার ছেলেপুলে ক’টি? 
‘দুই ছেলে। দুজনেই আপনার স্কুলে আছে।’ 
‘তাই নাকি? কী নাম বলুন তো?” 
‘তিনকড়ি। আর এককড়ি।’ 
শুনে বড় প্রীত হলেন স্মৃতিধর। পাঁচকড়িবাবু তো বেশ অঙ্ক মেনে চলেন! নাম ধারাবাহিক ভাবে দুই দুই করে কমেছে। কিন্তু এরপর আর একটি পুত্র হলে কী করবেন পাঁচকড়ি? এককড়ি থেকে দুই কমলে তো মাইনাস এক। তাহলে কি

মাইনাস এককড়ি ? কেমন শ্রুতিকটু লাগবে না?
ভাবনাটা নিয়ে খেলতে পারলেন না স্মৃতিধর, অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেছে। পুষ্পস্তবক দিয়ে তাদের বরণ করল একটি বাচ্চা
মেয়ে। তারপরই উদ্বোধনী সংগীত। শেষ হতে না হতেই সভাপতির ভাষণ। গলা কাঁপিয়ে কাঁপিয়ে জব্বর একটা বক্তৃতা দিলেন পাঁচকড়ি তলাপাত্র। অঙ্কের প্রতি স্মৃতিধরবাবুর নিষ্ঠা, প্রেরণায় পরেশ মেমোরিয়ালে ছেলেরা অঙ্কে কত উন্নতি করেছে, এসব নিয়ে ঝাড়া এক ঘণ্টা ভাষণ দিলেন।
প্রশংসার বহরে স্মৃতিধরের বুক গর্বে ফুল উঠছিল। পাঁচকড়ি থামতেই এবার তার পালা। আবেগে গলা বুজে আসছে, তবু মোটামুটি গুছিয়েই বললেন জীবনে অঙ্কের কত দাম। অঙ্ক করলে স্মৃতিশক্তি কেমন চড়চড়িয়ে বাড়ে, অঙ্ক দিয়ে কতরকম সমস্যার মীমাংসা করে ফেলা যায়, বোঝালেন সবিস্তারে। যেমন, এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় যেতে হলে জ্যামিতির উপপাদ্য ধরে এগোনো উচিত, তাতে পথ অনেক সংক্ষিপ্ত হয়। এমনকী দোকান-বাজারে গিয়েও যদি বীজগণিতের ফরমুলা প্রয়োগ করা যায়, তাহলে বেশ খানিক পয়সা বাঁচে । আর পাটিগণিত তো জীবনের প্রতিটি পদেই কাজে লাগছে। সে বাগান করাই হোক, কি বাড়ি বানানো। সবই তো পাটিগণিতের হিসেব।

স্মৃতিধরের জ্ঞানগর্ভ বক্তৃতায় ধন্য ধন্য পড়ে গেছে। কেউই প্রায় কিছুই বোঝেনি, কিন্তু শেষ হতেই বিপুল করতালি।
এবার পুরস্কার বিতরণ। হেলাবটতলা ক্লাবের পক্ষ থেকে সোনার জল করা মরীচিকা মেডেলটি পাঁচকড়িবাবুই ঝুলিয়ে দিলেন সকলের প্রিয় মাস্টারমশাইয়ের গলায়। সঙ্গে এক সেট ধুতি-পাঞ্জাবি, প্রকাণ্ড এক হাড়ি রসগোল্লা, আর একটি ওজনদার মানপত্র। স্মৃতিধর আহ্লাদে ডগমগ। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরেও চেয়ার ছেড়ে নড়তে ইচ্ছে করছে না। মরীচিকা পুরস্কার প্রাপ্তির আনন্দে বুদ হয়ে বসে আছেন। ভুলো মন বলে সারাটা জীবন তো শুধু ঠাট্টা তামাশাই ছুটল। গিন্নিও তাকে ছেড়ে কথা বলেন না। আজ এই পুরস্কার নির্ঘাত তার সব বদনাম ঘুচিয়ে দেবে।
একটি অল্পবয়সি ছেলে এসে দাঁড়িয়েছে সামনে। বয়স মেরেকেটে উনিশ কুড়ি। চোখ নাচিয়ে ছেলেটা বলল, ‘এবার উঠতে হবে তো।”
ভীষণ পরিচিত মুখ, নিশ্চয়ই কোনও প্রাক্তন ছাত্র। এবং এই ক্লাবেরই সভ্য। স্মৃতিধর ঘাড় নাড়লেন, ‘হ্যাঁ, এবার তো বাড়ি যেতে হয়।’
‘চলো তাহলে, মানপত্রটা আমার হাতে দাও।” স্মৃতিধর খুশিই হলেন। এতগুলো জিনিস বয়ে নিয়ে যাওয়া তার কম্মো নয়। ছেলেটা যদি একটু সাহায্য করে দেয় তো ভালোই।
মানপত্রটা ছেলেটাকে ধরিয়ে দিয়ে হাড়ি আর ধুতিপাঞ্জাবির প্যাকেট হাতে ঝুলিয়ে বাইরে এলেন স্মৃতিধর। কীভাবে বাড়ি ফিরবেন, বুঝে উঠতে পারছেন না। ছেলেটা সঙ্গে যাবে বোঝাই যাচ্ছে, কিন্তু রিকশা ধরবেন কি? গিন্নি এ ব্যাপারে কী বলেছেন? ওয়াকম্যানটা চালিয়ে শুনে নেবেন?
যন্ত্রের সুইচ টেপার আগেই ছেলেটির গলা, রিকশাটিকশার দরকার নেই, কী বলো? এইটুকু পথ, চলো হেঁটেই মেরে দিই।’
এবার যেন কেমন কেমন লাগল স্মৃতিধরবাবুর। ছেলেটা মহা পাকা তো, অবলীলায় মাস্টারমশাইকে তুমি তুমি’ করছে! মুখে অবশ্য বিরক্তিটা প্রকাশ করলেন না স্মৃতিধর। গম্ভীর স্বরে বললেন, তাই চলো তবে।’
স্মৃতিধর হাঁটা শুরু করেছেন। ছেলেটাও চলেছে পাশে পাশে। বিশ-তিরিশ পা গিয়ে ছেলেটা বলল, হাড়িটা বইতে খুব কষ্ট হচ্ছে, তাই না?
গোমড়া গলায় স্মৃতিধর বললেন, ‘হুম। 
‘তাহলে আমাকে দাও। আমি নিচ্ছি।’ 
হাড়ি হস্তান্তর করে হালকা হয়েছেন স্মৃতিধর। আড়ে আড়ে দেখছেন ছেলেটাকে। স্মরণে আনার চেষ্টা করছেন ছেলেটার নাম। বছরতিনেক আগে গোকুল বলে ক্লাস টেনের একটা ছেলে তাকে খুব জ্বালাত। সে নয় তো? কিংবা তার আগের
ওমনি গোকুলের গলায় বেজে উঠত ব্যাঙের ডাক। হলধর তবলা বাজাত পিছনের বেঞ্চে বসে। কিন্তু ওই ছেলে দুটোর
কি মাস্টারমশাইকে তুমি তুমি করার স্পর্ধা হবে?
ভাবতে ভাবতে পঞ্চাশ পা-ও এগোননি স্মৃতিধর, ফের ছেলেটার প্রশ্ন ‘হাতের প্যাকেটটা নিয়ে নিলে কি তোমার সুবিধে হবে?
স্মৃতিধর ভুরু কুঁচকে তাকালেন, ‘কেন বলো তো? বা রে, শুধু একটা ঝোলা কাঁধে হাঁটাই তো তোমার অভ্যেস। দাও, প্যাকেটটাও আমার হাতে দাও।”
এমন কর্তৃত্বব্যঞ্জক সুরে ছেলেটা বলল, স্মৃতিধরের মুখ দিয়ে না বেরোল না। স্মৃতিধরের ধুতিপাঞ্জাবি হস্তগত করে ছেলেটা এবার সামনে সামনে হাঁটছে। দুলে দুলে। ওই হাঁটার ভঙ্গিটাও স্মৃতিধরের চেনা। কোথায় যে দেখেছেন? স্কুলেই? নাকি পাড়ায় ? কিংবা বাজারে?
খানিক দূর গিয়ে ছেলেটা হঠাৎ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। চোখ পিটপিট করে দেখছে স্মৃতিধরকে। ঠোঁটে মুচকি মুচকি হাসি। রীতিমতো অপ্রসন্ন হলেন স্মৃতিধর। গুমগুমে গলায় বললেন, ‘ব্যাপারখানা কী, অ্যাঁ? হঠাৎ দাঁত বের করেছ যে বড়।
এ মা, তুমি এখনও গলা থেকে মেডেলটা খোলোনি! হেহে-হেহে। ছেলেটার হাসি কান অবধি গিয়ে ঠেকেছে, যা বিটকেল দেখাচ্ছে না...!’
মহা ডেপো তো তুমি ? 
যাহ বাবা, খারাপ কী বললাম? দাও দাও, মেডেলটা খুলে দাও পকেটে রেখে দিই।’
‘তোমার সাহস দেখে আমি হা হয়ে যাচ্ছি। স্কুল থেকে বেরিয়ে খুব সর্দার বনে গেছ তো! কোন ব্যাচ?
ছেলেটার হাসি ঝপ করে নিবে গেছে। চোখ গোল গোল করে বলল, আআ আমি তো..তুতুতুমি আমায়...!
‘তোতলাচ্ছ কেন, অ্যা? জবাব দাও।” 
কী জবাব দেব? আমি তো বাবুয়া।’ 
‘ডাক নাম নয়। স্কুলের নাম বলো।’ 
‘কী যা তা বকছ ? ছেলেটা এবার কাছে এগিয়ে এসেছে, ‘আমি বাবুয়া। বাবুয়া। বাবুয়া। তোমায় বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য মা আমায় পাঠিয়ে দিয়েছে।”
পলকের জন্য থমকালেন স্মৃতিধর। পরক্ষণে দু-গাল ছড়িয়ে হাসি। ‘দ্যাখো কাণ্ড, লোকে কেমন অকারণে তাকে ভুলো মন বলে অপবাদ দেয়! অঙ্ক কষে কষে স্মৃতিশক্তি সতেজ রেখেছেন বলেই না ছেলেটাকে প্রথম থেকেই তার চেনা চেনা লাগছিল।
শুধু বাবুয়া যে তারই ছেলে, এটুকুই যা মনে করতে পারেননি স্মৃতিধর। এটা কে কি খুব বড় ভুল বলা যায়?
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য