অপূর্ব বাগান -- কাজাখ লোককাহিনী

কোনো এক সময়ে দুই বন্ধু ছিল—হাসান আর হোসেন, তারা দুজনেই খুব গরিব । হাসানের ছিল ছোট্ট এক টুকরো চাষের জমি আর হোসেনের ছিল অল্প কয়েকটি ভেড়া । দুই বন্ধুরই বহুদিন হল স্ত্রী বিয়োগ হয়েছে। আছে কেবল হাসানের এক সুন্দরী স্নেহময়ী কন্যা--তার সান্ত্বনা, আর হোসেনের শক্তিমান আর বাধ্য ছেলে—তার ভরসা।
এক বসন্তে হাসান মাঠে যাবার উদ্যোগ-আয়োজনে ব্যস্ত ওদিকে হোসেনের চরম বিপদ দেখা দিল : মড়কে বেচারার সব ভেড়াগুলোই মারা পড়ল।
চোখের জল ফেলতে ফেলতে ছেলের কাঁধে ভর দিয়ে হোসেন বন্ধুর কাছে এসে বলল :
‘তোর কাছে বিদায় নিতে এলাম রে হাসান ; আমার ভেড়াগুলো মরে গেল, থিদের জ্বালায় মরা ছাড়া আমার আর গতি নেই।
একথা শুনে হাসান বন্ধুকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলল: বন্ধু, আমার হৃদয়ের অর্ধেকটা যখন তোমার অধিকারে তখন আমার চাষের জমির অর্ধেকটা নিতে অরাজী হয়ো না । শান্ত হও, কোদাল হাতে নিয়ে কাজে নেমে পড় গান গাইতে গাইতে ।
এইভাবে হোসেনও চাষের কাজ আরম্ভ করল । দিন যায়, রাত যায়, মাস কেটে বছর পার হয় । একদিন নিজের জমিতে কোদাল চালাতে চালাতে হোসেন কোদালের কাছ থেকে কেমন এক ঢং আওয়াজ শুনতে পেল । তাড়াতাড়ি করে সে মাটি খুঁড়তে লাগল, একটু খোড়ার পরেই দেখতে পেল সোনার মোহরভর্তি একটা পুরানো ধাতুর পাত্র ।
আনন্দে আত্মহারা হয়ে হোসেন পাত্রটি নিয়ে বন্ধুর কুটিরের দিকে দৌড় দিল । যেতে যেতেই চীৎকার করতে লাগল :
'হাসান, আনন্দ কর, এবার সুখের মুখ দেখলি! তোর জমি খুঁড়ে সোনার মোহরভর্তি এই পত্রিটা পেয়েছি আমি। এবার তোর অভাব ঘুঁচে গেল চিরদিনের জন্য।
হাসান মিষ্টি হেসে তাকে উত্তর দিল : ‘তুই যে নিস্বার্থ তা আমি ভাল করেই জানি হোসেন, কিন্তু এ সোনা হল তোর, আমার নয়। তোর নিজের জমি খুঁড়ে তুই পেয়েছিস ।
‘আমি তোর মহৎহদয়ের কথা জানি, প্রতিবাদ করল হোসেন। জমিটা তুই আমায় দান করেছিস কিন্তু জমির নীচে যা লুকান আছে তা দিস নি আমাকে ।

হাসান বলল, ‘ওরে ভাই! যে জন মাটিতে ঘাম ঝরায় মাটির সমস্ত সম্পত্তিতে তারই অধিকার।’
অনেকক্ষণ ধরে তর্কাতর্কি চলতে লাগল তাদের মধ্যে এবং কেউই মোহরগুলি নিতে কিছুতেই রাজী হচ্ছে না। শেষে হাসান বলল:
‘আচ্ছা, ঠিক আছে, এক কাজ করা যাক । তোর ছেলে আর আমার মেয়ে দু'জনেরই বিয়ের বয়স হয়েছে। ওরা পরস্পরকে ভালবাসে। আমরা ওদের বিয়ে দিয়ে এই সোনা ওদের দিয়ে দিই। আমাদের সন্তানরা অভাব ভুলে যাক ।
তাদের এই সিদ্ধান্তের কথা জেনে তাদের ছেলেমেয়েরা তো খুবই খুশি হল । তখুনি তাদের বিয়ের উৎসব আরম্ভ করে দেওয়া হল । অনেক রাতে শেষ হল বিয়ের ভোজ উৎসব ।

পরের দিন সবে ভোর হয়েছে, নবদম্পতি হাতে সেই সোনার পাত্রটি নিয়ে হাজির হল হাসান হোসেনের কাছে !
কি হল, বাছারা? এত সকালে ঘুম ভাঙল কেন? উদ্বিগ্ন হয়ে প্রশ্ন করল আসান-হোসেন ।
‘আমরা আপনাদের বলতে এলাম যে, যা আমাদের পিতারা নিতে অস্বীকার করেছেন, তা আমাদেরও নেওয়া উচিত নয়। এ সোনা নিয়ে কি হবে আমাদের? আমাদের ভালবাসা পৃথিবীর যে কোন সম্পদের চেয়েও মূল্যবান।'
বলে নবদম্পতি পাত্রটি রেখে দিল ঘরের মাঝখানে । তখন আবার তর্ক আরম্ভ হল, কি হবে ধনসম্পত্তি নিয়ে । তারপরে তারা ঠিক করল চারজনে মিলে পরামর্শ করতে যাবে এক জ্ঞানী মওলবীর সঙ্গে, যাঁর ন্যায় ও সততার কথা বহুপরিচিত ।
অনেকদিন ধরে পথ চলে তারা এসে পৌছল ঐ জ্ঞানীর তাঁবুতে । খোলা শুকনো মাঠের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে একটামাত্র তাবু, কালে জরাজীর্ণ অবস্থা।

তারা অনুমতি নিয়ে অভিবাদন জানিয়ে ভেতরে ঢুকল । মওলবী বসেছিলেন একটা পুরনো ছেড়া কম্বলের টুকরোর ওপর । তার কাছেই দুদিকে দুজন করে তার চারজন শিষ্য বসে আছে। -
আমার কাছে আসার কারণ কি গো, ভালমানুষের ছেলেরা? আগুন্তকদের জিজ্ঞেস করলেন মওলবী ।
তারা বলল তাদের বিতর্কের কথা । তাদের কথা সব শুনে মওলবী অনেকক্ষণ চুপ করে রইলেন তারপর বয়োজ্যেষ্ঠ শিষ্যটিকে উদ্দেশ্য করে বললেন :
তোমার ওপর যদি এই সমস্যার সমাধানের ভার দেওয়া হত তাহলে তুমি কি করতে?"
শিষ্যটি উত্তর দিল : ‘আমি হুকুম দিতাম ঐ সোনা বাদশাহকে দিয়ে আসতে কারণ দেশের যত ধনসম্পদের মালিক তো তিনিই '
ভুরু কোচকালেন মওলবী, দ্বিতীয় শিষ্যকে জিজ্ঞেস করলেন :


তুমি আমার জায়গায় হলে কি সিদ্ধান্ত নিতে?
দ্বিতীয় শিষ্য উত্তর দিল:
‘আমি নিজেই ঐ সোমা নিয়ে নিতাম। কারণ যখন বাদী-প্রতিবাদী দু’জনেই কোন কিছু নিতে অস্বীকার করে, তখন তা আইন অনুযায়ী বিচারকেরই প্রাপ্য হয়।
মওলবীর ভুরু আরো বেশী কুঁচকে গেল, কিন্তু তেমনি ধীরভাবেই তিনি তৃতীয় শিষ্যকে প্রশ্ন করলেন:
তুমি কেমন করে এই সমস্যার সমাধান করতে, বল?'
তৃতীয় শিষ্য বলল :
"এ শোনা যখন কারুরই নয় আর কেউই তা মিতে চাচ্ছে না তখন সে সোনা আবার মাটিতে পুঁতে ফেলতে আদেশ দিতাম '
মওলবীর মুখ একেবারে অন্ধকার হয়ে গেল, চতুর্থ সৰ্বকনিষ্ঠ শিষ্যকে জিজ্ঞেস করলেন :
আর তোমার কি বলার অাছে, বাছা?” -
কনিষ্ঠ শিষ্যটি বলল, গুরু, দোষ নেবেন না, আমার মূর্খতা মাফ করে দেবেন, কিন্তু আমার মন যা ঠিক করেছে তা হল এই আমি ঐ ধন দিয়ে এই শূন্য খাঁ খাঁ মরুভূমিতে বিরাট ছায়াভরা বাগান তৈরী করতাম । যাতে সমস্ত গরীব দুঃখীরা ক্লান্ত হয়ে সেখানে বিশ্রাম করতে পারে, তার গাছের ফল খেয়ে তৃপ্ত হতে পারে।'
এবারে মওলবী উঠে এসে চোখভরা জল নিয়ে ছেলেটিকে আলিঙ্গন করলেন :
যুবক যদি বুদ্ধিমান হয় তাহলে তাকে বৃদ্ধের মতই সম্মান কর । একথা যার বলে ঠিকই বলে। তোমার বিচারই ঠিক, বাছা! ঐ সোনা নিয়ে রাজধানীর উদ্দেশে রওনা দও তুমি, সব থেকে ভাল জাতের বীজ কিনে ফিরে এস, যে বাগানের কথা বললে, তা বসাও। গরীব দুঃখীদের মনে তোমার আর এই মহৎ হৃদয় মানুষদের, এত ধন দেখেও যাদের মন টলে নি, তাদের স্মৃতি চিরজীবী হোক।
তরুণ শিষ্যটি তক্ষুণি সেই মোহরগুলি চামড়ার থলিতে ভরে নিয়ে, রওনা দিল ।
অনেক পথ চলার পরে শেষ পর্যন্ত সে এসে পৌছল রাজধানীতে । শহরে পা দিয়ে প্রথমেই সে চলল বাজারের দিকে। বাজারে ফলের বীজের ব্যবসায়ীর খোঁজে ঘুরতে লাগল।

অদ্ভুত অদ্ভুত জিনিস আর উজ্জ্বল রংয়ের কাপড়চোপড় সাজিয়ে বসা দোকানগুলি ঘুরে দেখতে দেখতে অর্ধেকটা দিন অমনি অমনিই কেটে গেল। হঠাৎ পিছন দিক থেকে শোনা গেল ঘন্টির আওয়াজ আর কার যেন তীক্ষ্ণ চীৎকার। দেখা গেল বাজারের মধ্য দিয়ে অদ্ভুত বোঝা বয়ে নিয়ে আসছে এক ক্যারাভান— মালের বদলে উটের পিঠে বোঝাই করা হাজার হাজার বিভিন্ন ধরণের জীবস্ত পাখি ; পাহাড়ে, বনে, স্তেপে, মরুভূমিতে যত রকমের পাখি দেখা যায়। তাদের পা বাঁধা আর আলুথালু হয়ে যাওয়া পাখনাগুলো ছট-ফট করছে । ক্যারাভানের ওপরে বিভিন্ন রংয়ের পালকের মেঘ পাক খাচ্ছে ! ক্যারাভানের এগুনোর তালে তালে পাখিগুলির মাথা ঠুকে যাচ্ছে উটের পিঠে আর তাদের হা করা মুখ থেকে বেরিয়ে আসছে করুণ চীৎকার। তরুণটির হৃদয় মমতায় ভরে গেল। কৌতুহলী লোকদের ভিড় ঠেলে সে ক্যারাভান-সর্দারের কাছে এগিয়ে এসে সসম্মানে অভিবাদন জানিয়ে জিজ্ঞেস করল:
"হুজুর, এমন চমৎকার পাখিগুলির এমন শাস্তিবিধান কে করেছে? আর এগুলোকে নিয়ে আপনি কোথায়ই বা যাচ্ছেন?’
ক্যারাভান-সর্দার উত্তর দিল:
আমরা খানের প্রাসাদে যাচ্ছি। এই পাখিগুলিকে খানের জন্য রান্না করা হবে । এর বদলে আমরা পাব পাঁচশ মোহর ।
আমি যদি তোমাকে এর দ্বিগুণ সোনা দিই, তবে তুমি কি পাখিগুলিকে যুক্তি দেখে?" জিজ্ঞেস করুল যুবকটি ।
ক্যারাভান-সর্দার শ্লেষড়য়া চোখে তার দিকে তাকিয়ে এগিয়ে চলল। 
তখন তরুণটি কাঁধ থেকে থলিটা নামিয়ে ক্যারাভান-সর্দারের সামনে খুলে ধরল। ক্যারাভান-সর্দার বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে থেমে গেল, তারপর যখন বুঝতে পারল যে কতটা দাম পেতে যাচ্ছে, তক্ষুণি ভৃত্যদের হুকুম দিল পাখিগুলির বাঁধন খুলে দিতে ।
ছাড়া পেয়ে পাখিগুলি সঙ্গে সঙ্গে আকাশে উড়ে গেল । তারা সংখ্যায় এত যে দিনের আলো সেই মুহুর্তে ঢেকে গেল আর তাদের পাখার আন্দোলনে পৃথিবীতে ঝড় বয়ে গেল ।
দূরে মিলিয়ে যেতে থাকা পাখিগুলির দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইল তরুণটি । তারপর যখন তারা দৃষ্টির আড়ালে চলে গেল তখন মাটি থেকে খালি থলিটা তুলে নিয়ে ফিরে চলল। মনষ্টা আনন্দে ভরে গেছে, হালকা পা ফেলে চলতে লাগল, মুখ থেকে বেরিয়ে এল গানের কলি ।
কিন্তু যতই সে এগোতে লাগল বাড়ির দিকে ততই তিক্ত ভাবনা তাকে চেপে ধরতে লাগল, অনুশোচনায় তত বেশী করে ভরে যেতে লাগল তার মন ।
নিজের ইচ্ছা মত পরের ধন ব্যয় করার অধিকার আমাকে কে দিল? আমি নিজেই তো গরীব দুঃখীদের জন্য বাগান প্রতিষ্ঠার কথা বললাম। কি বলব আমি এখন গুরুকে আর ঐ সরলহদয় মানুষগুলিকে যারা বীজ নিয়ে আমার ফিরে আসার অপেক্ষায় আছে?" নিজেকে অভিযুক্ত করতে লাগল সে। এইসব ভাবতে ভাবতে এমন হতাশায় ভরে গেল তার মন যে, সে মাটিতে পড়ে কাঁদতে লাগল আর নিজের মৃত্যু কামনা করতে লাগল। কেঁদে কেঁদে সে এমন ক্লান্ত হয়ে পড়ল যে তার চোখদুটি তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়ল ।
সে স্বপ্ন দেখল যেন কোথা থেকে একটা চমৎকার উজ্জ্বল রংয়ের পাখি উড়ে এসে বসল তার বুকের ওপর আর অপূর্ব গলায় গান গেয়ে উঠল :
'ও সহৃদয় যুবক । নিজের দুঃখ ভুলে যাও! মুক্তিপাওয়া পাখিরা তোমাকে সোনা ফিরিয়ে দিতে পারবে না, কিন্তু তোমার এই উপকারের প্রতিদান তারা অন্যভাবে দেবে। চোখ খোল, দেরী কোরো না, ওঠা...’

তরুণটি চোখ খুলেই বিশ্বয়ে স্তব্ধ হয়ে গেলঃ চোখের সামনে বিস্তৃত গোটা স্তেপটা ছেয়ে গেছে বিভিন্ন ধরণের পাখিতে ।
পাখিগুলি নখ দিয়ে আঁচড়ে মাটিতে ছোট ছোট গর্ত খুঁড়ে ঠোঁটে করে বীজ এনে এনে তার মধ্যে ফেলছে, তারপর চটপট পাখা ঝাপটে মাটি সমান করে দিচ্ছে ।

তরুণ যেই একটু নড়ল অমনি সব পাখি উড়ে চলে গেল আকাশে, আবার অন্ধকার হয়ে গেল দিনটা আর তাদের পাখার ঝাপটায় পৃথিবীতে ঝড় উঠল, যখন সবকিছু আবার শান্ত হয়ে গেল, পাখিদের খোড়া প্রতিটি গর্ত থেকে হঠাৎ বেরিয়ে এল সবুজ সবুজ চারা গাছ, বেড়ে উঠতে উঠতে সেগুলি অনেক ডালপালা সমেত এক একটি বিরাট গাছে পরিণত হয়ে উঠতে লাগল, তাদের পাতাগুলি চকচকে, ফল সোনালী ।
স্বয়ং ভারতের বাদশাহেরও এমন প্রাচুর্যভরা বিশাল বাগান নেই। অগুন্তি বিশাল বিশাল আপেল গাছ, তাদের ছাল যেন অম্বরে ঢাকা । আপেল গাছের ফাঁকে ফাঁকে রসাল আঙুরের লতা, খুবানী ফলের গাছ দেখা যাচ্ছে। দেখা যাচ্ছে আলোভরা মাঠ যেখানে গজিয়েছে চমৎকার ঘাস আর বিভিন্ন রংয়ের ফুল। চারদিকে নালাগুলি বেয়ে ঠাণ্ডা জল বইছে কলকল করে, নালাগুলির মধ্যে বিছানো রয়েছে দামী দামী পাথর । তরুণটির স্বপ্নে দেখা সেই সুন্দর সুকণ্ঠী পাখিটির মতই অনেক অনেক পাখি গাছের ডালে ডালে ওড়াউড়ি করছে আর কিচির মিচির করছে।

বিষ্মিত তরুণটি চারদিকে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখতে লাগল, বাগামটা যে সত্যি সত্যিই দেখছে সে, কিছুতেই বিশ্বাস হচ্ছে না তার । এটা সত্যি না স্বপ্ন তা পরখ করার জন্য জোরে চীৎকার করে উঠল সে, বহুবার প্রতিধ্বনি তোলা নিজের গলা শুনতে পেল। দৃশ্যটা মিলিয়ে গেল না। তখন সে উত্তেজিত, আনন্দিত মনে চলল গুরুর তাবুর উদ্দেশে ।
শীঘ্রই এই বাগানের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ল গোট এলাকায়। প্রথমেই সেখানে এসে পৌছল ধনী অভিজাত জায়গীরদাররা দ্রুতগামী ঘোড়ায় চড়ে । কিন্তু তারা বনের প্রান্ত পর্যন্ত এসে পৌছানমাত্রই তাদের সামনে মাথা চাড়া দিয়ে উঠল লোহার ফটক বসান বিরাট পাঁচিল, সাতটা তালা লাগান ফটকে । তখন তারা নকশাকাটা ঘোড়ার জিনের ওপর উঠে দাঁড়িয়ে পাঁচিলের ওপাশের সোনার আপেলগুলো ছেড়ার চেষ্টা করল। কিন্তু তাদের মধ্যে যেই ফল ছুয়েছিল, হঠাৎ নিজীব হয়ে মাটিতে পড়ে গিয়ে জ্ঞান হারাল । তা দেখে বাকীরা ঘোড়ার মুখ ফিরিয়ে নিজেদের গ্রামে ফিরে চলে গেল।
তাদের পরেই চতুর্দিক থেকে বাগানে এসে পৌছল গরীবদুঃখীর দল। তারা কাছে আসতেই লোহার ফটক থেকে তালাগুলো খসে পড়ল আর ফটকটা হাট হয়ে খুলে পেল ।
স্ত্রী-পুরুষ, বৃদ্ধ শিশুতে ভরে গেল বাগানটা। তারা বিভিন্ন রংয়ের ফুলগুলির ওপর দিয়ে চলে ফিরে বেড়াতে লাগল কিন্তু ফুলগুলির কোনই ক্ষতি হল না তাতে । নালার স্বচ্ছ জল পান করল তারা, জলটা ঘোলা হল না । গাছের থেকে ফল ছিঁড়তে লাগল কিন্তু ফলের কমতি হল না তাতে। সারাদিন ধরে বাজতে লাগল দোম্বরার (এক ধরনের বাদ্যযন্ত্র) মিষ্টি সুর, খুশী মেশান কথাবার্তা আর জোরে জোরে হাসি ।

যখন রাত নামল, পৃথিবী অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে গেল, তখন আপেলগুলি থেকে ফুটে বেরোল মৃদু একটু আলো, সব পাখি গলা মিলিয়ে গেয়ে উঠল শান্ত মিষ্টি এক সুর। গাছের নীচে সুগন্ধি ঘাসের ওপর শুয়ে পড়ে সবাই গভীর নিদ্রায় ঢলে পড়ল । সারা জীবনে এই প্রথম তারা এমন সুখি ও তৃপ্তি বোধ করল ।
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য