কবির কবিতা

একদিন এক সুদখোরের বাড়িতে ঘটনাচক্রে এক গরিব কবি এসেছিলেন। সুদখোরটি কবিকে অভ্যর্থনা জানালেন। তার এই ব্যবহার কবির কাছে অকৃত্রিম মনে হল। মনের আবেগে কবি মুখে মুখে সুদখোরের প্রশস্তিসূচক একটি কবিতা রচনা-করে আওড়ালেন।
সুদখোর কবির কবিতা শুনে আনন্দে কবিকে বললেন, আপনি যথার্থই বড় কবি। আপনার কবিতা শুনে আমি অভিভূত হয়ে পড়েছি। আপনি অনুগ্রহ করে কাল আমার কাছে আসবেন, আপনাকে আমি এর জন্য পুরস্কৃত করব।
পরের দিন কথামতো কবি সুদখোরের বাড়িতে এলে কবিকে দেখেই সুদখোর বললেন, কী কবি, সকালেই কোথায় এসেছেন!’ কবি পুরস্কারের কথা বলতে সুদখোর বললেন, ওটা আপনাকে নেহাত খুশি করার জন্যই বলেছিলাম সেজন্য মনে কিছু করবেন না। আপনি যেমন আমাকে খুশি করেছিলেন আমিও তেমনি আপনাকে করেছি।’

কবি অগত্যা মনের দুঃখে বাড়ি চলে গেলেন। ঘটনাচক্রে সেইদিনই কবির সঙ্গে বীরবলের হঠাৎ রাস্তায় যেতে যেতে দেখা হয়ে গেল। বীরবল সব শুনলেন এবং মনে মনে একটা মতলব ভাঁজলেন।
বীরবলের সঙ্গে সুদখোরের এক ব্যবসায়ী বন্ধুর খুব দহরম মহরম ছিল। বীরবলের অনুরোধে বাড়িতে এক নির্দিষ্ট দিনে নিদিষ্ট সময়ে খাওয়ার আমন্ত্রণ জানালেন। ওই অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রণকারীর বাড়িতে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ছদ্মবেশী বীরবল এবং কবি উপস্থিত হলেন নির্দিষ্ট দিনে।
ব্যবস্থামতো নিমন্ত্রণকারী, বীরবল ও কবি ভোজসভায় নির্দিষ্ট সময়ের আগেই আহারাদি সেরে নিলেন। সেই সুদখোর নির্দিষ্ট সময়ে সন্ধ্যা আটটায় বন্ধুর বাড়িতে নিমন্ত্রন রক্ষা করতে এসে কবিকে দেখেই তো অবাক হয়ে গেলেন ; অবশ্য মনের সেই ভাব প্রকাশ করলেন না একটুও। এদিকে কী হল, তার নিমন্ত্রণকারী বন্ধু ও ছদ্মবেশী বীরবল তাকে শূন্য খাবার টেবিলে ঘন্টার পর ঘন্টা নানান গল্প শুনিয়ে শুনিয়ে বসিয়ে রাখলেন। খাবার আর আসে না! খাবারের নামগন্ধই নেই! গল্পে গল্পে রাত ১২টা হয়ে গেল। এদিকে সুদখোর খিদের জ্বালায় ছটফট করতে লাগলেন। সুদখোর বন্ধুর বাড়িতে ভালমন্দ খাবেন বলে সারাদিন কিছুই খাননি।

বন্ধুর ওপর দিয়ে একবেলায় উসুল করে নেবেন। কিন্তু কথায় আছে, যে যা চায় তার ঠিক উলটোটা সে পায়। শেষে যখন তিনি বুঝতে পারলেন যে, খাবারের কোনও ব্যবস্থাই রাখা হয়নি, তখন গজরাতে গজরাতে তার বন্ধুকে বললেন, মিছিমিছি আমাকে নিমন্ত্রণ করে এতক্ষণ আটকে রাখার কারণ কী?”
বন্ধু উত্তর দিলেন,‘খুশি করার জন্যই শুধু নিমন্ত্রণ।"
বীরবল এবার নিজের ছদ্মবেশ খুলে সুদখোরকে কবির প্রতি তার আচরণের কথা
মনে করিয়ে দিতেই সুখের তটস্থ হয়ে সঙ্গে সঙ্গে বীরবলের কাছে মার্জনা চাইলেন। তখন তিনি বললেন, ‘কোনওদিন আর এমন কাজ করব না।’
কারণ তখনকার দিনে সাজা যাকে দেওয়া হত, হয় প্রাণদণ্ড অথবা জেল হত তার।
পরের দিন তিনি সত্যসত্যই কবিকে পরস্কৃত করলেন করলেন।

Previous
Next Post »
0 মন্তব্য