জলের ভূত -- জার্মানের রূপকথা

এক কুয়োপাড়ে ছোট্টো একটি ছেলে তার বোনের সঙ্গে প্রায়ই খেলা করত । একদিন খেলা করতে করতে দুজনেই তারা ঝুপ করে জলে পড়ে গেল । কুয়োর তলায় থাকত এক জলের ভূত । তাদের দেখে সে চেঁচিয়ে উঠল, “এইবার তোদের বাগে পেয়েছি । আমার জন্যে এইবার তোদের খাটাব।” সুতো কাটার জন্যে মেয়েটিকে সে দিল জলের নানা আগাছা আর বলল একটা ফুটো বালতি করে জল আনতে । ছেলেটিকে একটা ভোঁতা কুড়ল দিয়ে সে বলল গাছ কাটতে । আর তাদের খেতে দিল শুধু পাথরের মতো শক্ত পিঠে ।
ভারি কষ্টে ছেলেমেয়েদের দিন কাটে । এক রবিবার জলের ভূত যখন গির্জেয় গেছে তারা দুজনে পালাল ।
গির্জে থেকে ফিরে জলের ভূত দেখে তার পাখিরা উড়ে গেছে । দারুণ রেগে বড়ো-বড়ো পা ফেলে তাদের সে ধাওয়া করল ।
দুরে তাকে আসতে দেখে মেয়েটি একটা ঝাঁটা পিছন দিকে ছুড়ে ফেলল আর দেখতে দেখতে সেখানে গজিয়ে উঠল খোঁচা-খোঁচা হাজার ঝাঁটার একটা পাহাড় । পাহাড়টা পেরুতে জলের ভূতের খুব অসুবিধে হলেও শেষটায় কোনোমতে সেটা পেরিয়ে সে এল ।
মেয়েটি তখন পিছন দিকে ছুড়ে দিল একটা আয়না আর দেখতে দেখতে সেখানে গজিয়ে উঠল হাজার-হাজার আয়নার একটা পাহাড় । পাহাড়টা এমনই পিছল যে, জলের ভূত কিছুতেই সেটা বেয়ে উঠতে পারল না । তাই সে ভাবল, "বাড়ি গিয়ে আমার কুড়লটা নিয়ে আসি । সেটা দিয়ে কাচের পাহাড়টা ভাঙব । কিন্তু বাড়ি থেকে ফিরে কাচের পাহাড় ভেঙে সে দেখে—ছেলেমেয়েরা অনেক-অনেক দুরে চলে গেছে । কিছুতেই তাদের নাগাল ধরতে সে পারল না । তাই মনের দুঃখে জলের ভূত ফিরে গেল তার কুয়োর তলায় ।
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য