বত্রিশ পুতুলের উপাখ্যান: ৫ম উপাখ্যান

   পরদিন ভোজরাজ সিংহাসনে বসতে গেলে আর একটি পুতুল বললো, মহারাজ, আমার নাম সুদতী, বিক্রমাদিত্য যখন রাজত্ব করতেন তখন এক রত্নবণিক তাঁর সামনে উপস্থিত হয়ে তার হাতে একটি মহামূল্যবান রত্ন উপহার দিলেন। রাজা সেই রত্নটি দেখে তা পরীক্ষা করার জন্য জহুরীদের ডেকে বললেন, এই রত্নটির মূল্য কত তা আমাকে জানাও ।
   তারা সেই রত্ন পরীক্ষা করে বুললো, মহারাজ, এ অমূল্য রত্ন, যদি এর সঠিক মূল্য না জেনে ক্রয় করেন তবে মহা অনিষ্ট ঘটবে।
   তাদের কথা শুনে রত্নবণিকের কাছে জানতে চাইলেন এ রকম রত্ন আর আছে কিনা। রত্নবণিক বললেন, মহারাজ, এমন রত্ন এখন আমার সঙ্গে নেই বটে তবে বাড়িতে আরো দশটি আছে। যদি আপনার প্রয়োজন হয় তবে দাম ঠিক করে নিয়ে নিতে পারেন ।
   রাজার আদেশে পরীক্ষকরা পরীক্ষা করে দাম ঠিক করলো এক একটি রত্নের দাম ছয় কোটি সোনার মোহর ।
   রাজা সেই পরিমাণ টাকা সঙ্গে দিয়ে বিশ্বাসী একজন মণিকারকে পাঠালেন রত্নবণিকের বাড়িতে। বলে দিলেন আট দিনের মধ্যে রত্নসহ ফিরে এলে তোমাকে উপযুক্ত উপহার দেওয়া হবে।
    সে বলল, মহারাজ, আটদিনের মধ্যেই আমি ফিরে আসব। যদি না ফিরে আসতে পারি তবে আপনি আমাকে উপযুক্ত শাস্তি দেবেন।
    এই কথা বলে সে রত্নবণিকের সঙ্গে তাঁর বাড়ির পথে রওনা হল।
   বণিক তাকে দশটি রত্ন দিলে সে যখন বাড়ি ফিরছিল তখন পথে প্রবল বৃষ্টি শুরু হল। প্রবল বৃষ্টিতে নদীর জল দুই পাড় উপচে বইতে লাগল। তাই সে নদী পার হতে না পেরে একজন মাঝিকে বললো, তুমি আমাকে নদী পার করে দাও।
   মাঝি বললো, এখন জলস্রোত খুব জোরে বইছে, এ অবস্থায় নদী পার হওয়া বিপজ্জনক। পূর্ণ নদীর জল, রাজার আদর ও বণিকের স্নেহ এর কোনটাকেই বিশ্বাস করা উচিত কাজ নয়।
   মণিকার বললো, তোমার সব কথাই ঠিক, কিন্তু আমার এমন গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে যে এসব কথা মানলে চলবে না।
   মাঝি বললো, কি তোমার এমন বিশেষ কাজ ?
   মণিকার বললো, আমার কাছে দশটি রত্ন আছে, যদি ঐ রত্ন নিয়ে আজ রাজার কাছে উপস্থিত না হতে পারি তবে মহারাজ খুব রাগ করবেন।
    মাঝি বলল বললে, আমি তোমাকে এই বিপজ্জনক নদী পার করে দিতে পারি যদি তুমি ঐ থেকে পাঁচটি রত্ন আমাকে দাও !
   অন্য উপায় না দেখে মণিকার তাকে পাঁচটি রত্ন দিয়ে নদী পার হল এবং রাজার নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁর হাতে অন্য পাঁচটি রত্ন দিল।
    রাজা জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি পাঁচটি রত্ন এনেছ কেন? অবশিষ্ট পাঁচটি রত্ন কি করলে?
   মণিকার তখন সব কথা খুলে বললো। তারপর বললো, আপনার কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলাম আট দিনের মধ্যে আপনাকে রত্ন এনে দেব। এই অবস্থায় বাধ্য হলাম মাঝিকে পাঁচটি রত্ন দিতে।
    রাজা মণিকারের কথা শুনে সন্তুষ্ট হয়ে ঐ পাঁচটি রত্নও তাকে দান করলেন।
    গল্প শেষ করে পুতুল ভোজরাজকে বললো, এমন উদারতা যদি আপনার মধ্যে থাকে তবে এই সিংহাসনে বসুন |
    ভোজরাজ চুপ করে দাড়িয়ে রইলেন।

Previous
Next Post »
0 মন্তব্য