উপস্থিত বুদ্ধি

একদিন বাদশা আকবর প্রশ্ন করলেন, "আচ্ছা বীরবল, বিপদের সময় কোন অস্ত্রটা সবচেয়ে বেশি কাজে লাগে বলো তো?’
বীরবল জবাব দিলেন, ‘উপস্থিত বুদ্ধি জাঁহাপনা।’
সম্রাট বললেন, “আমাদের কাছে বহু সাংঘাতিক অস্ত্রশস্ত্র আছে। এইসব অস্ত্রের কাছে উপস্থিত বুদ্ধির দাম কতটুকু?
কিন্তু আমার বিশ্বাসই এই, মালিক। বিপদের সময় উপস্থিত বুদ্ধিটাই হল সর্বশ্রেষ্ঠ অস্ত্র। বুদ্ধি ছাড়া কোনও কাজই সফল হয় না সম্রাট।

‘বেশ, কালকেই পরীক্ষা করব। পরদিন তিনি তার রাজধানীর একটি সংকীর্ণ পথে এক দুর্মদ পাগলা হাতিকে ছেড়ে দিলেন এবং বীরবলকে ডেকে বললেন, ‘এই পথ দিয়ে তোমাকে বাড়ি ফিরতে হেব হেঁটে, যাদি পারো তবেই বুঝব তোমার গতকালের কথাই ঠিক। 
বীরবল তো ভয়ে আধমরা। কিন্তু হুজুরের আদেশ অমান্য করলেও তো গর্দান যাবে; এদিকে রক্ষা নেই, এবার বুঝি পৈতৃক প্রাণটা দিতেই হবে! বীরবল সেই গলির মধ্যে ঢুকে হনহন করে হাঁটতে লাগলেন। ওদিক থেকে তখন সেই পাগলা হাতি ছুটে আসছে গর্জন করতে করতে। উপায়! পালানো তো চলবে না, আর একটি মুহূৰ্ত্ত—ওই এসে পড়ল, গেল গেল—সব গেল।

হঠাৎ বীরবলের চোখে পড়ল গলির একপাশে শুয়ে আছে এক মস্ত বড় কুকুর! বীরবল চক্ষের পলকে ছুটে গিয়ে সেই কুকুরটার পেছনের পা দুটাে ধরে তাকে ছুঁড়ে দিলেন হাতির শুড়ের ওপর। কুকুরটা ছিটকে গিয়ে আঁকড়ে ধরল হাতির শুড়, এবং এমন কামড়ে দিল সেই ওঁড়ে যে, হাতিটা যন্ত্রণায় চিৎকার করতে করতে ঘুরে পালাতে লাগল যেদিক থেকে এসেছিল সেইদিকে।
সেই সুযোগে বীরবল হাতির নজর এড়িয়ে তৎক্ষণাৎ কোথায় অদৃশ্য হয়ে গেলেন আর দেরি না করে।
সম্রাটের কানে পৌছল এই সংবাদ। নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বীরবলের এই আত্মরক্ষা অতি অদ্ভুত ব্যাপার। পরাজিত সম্রাট বীরবলকে তার বিচক্ষণ বুদ্ধির প্রত্যক্ষ প্রমাণ দানের জন্য বহু পুুরষ্কার দিতে ভুল করলেন না।
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য