বেতালপঞ্চবিংশতি: দ্বাবিংশ গল্প

    বিশ্বপুর নগরে নারায়ণ নামে এক ব্রাহ্মণ বাস করতেন। বৃদ্ধ বয়সে তিনি একদিন ভাবলেন, বয়সের ভারে আমি এখন দুর্বল। আর কিছুদিনের মধ্যেই মরতে হবে । আমি পরদেহধারণবিদ্যা জানি। এই জরাজীর্ণ দেহ ত্যাগ করে কোন যুবকের দেহ ধারণ করে ইচ্ছামত যতদিন খুশি বেঁচে থাকতে পারি। কিন্তু তার জন্য সংসার ত্যাগ করে বনে যেতে হবে।
    মনে মনে এই কথা ভেবে নারায়ণ বাড়ির সকলের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বনে চলে গেলেন। স্ত্রী-পুত্রদের বলে গেলেন, জীবনের শেষ কটা দিন যোগাভ্যাস করে কাটাতে বনে চললাম ।


     বনে গিয়ে তিনি তাঁর নিজের জীর্ণ দেহ ত্যাগ করে এক যুবকে পরিণত হলেন । কিন্তু মহারাজ, ব্রাহ্মণ নিজের জীর্ণ দেহ পরিত্যাগ করার আগে কোঁদছিলেন এবং তারপর যখন অন্যের দেহ ধারণ করলেন তখন হাসলেন । ব্রাহ্মণ কেন প্রথমে কাঁদলেন এবং পরে হাসলেন?
     রাজা বললেন, আগের দেহ ত্যাগ করা মানেই এতদিন যাঁরা আপনজন ছিল অথাৎ স্ত্রী-পুত্রদের সঙ্গে আর কোন সম্বন্ধ থাকল না তাই সেই দুঃখে কাঁদলেন, আর পরে যৌবনদেহ ধারণ করে অনেক ফুর্তি করতে পারবেন ভেবে হাসলেন।
     বেতাল ঠিক উত্তর পেয়ে আবার সেই গাছে গিয়ে উঠলো আর রাজাও তাকে পুনরায় গাছ থেকে নামিয়ে কাঁধে নিয়ে চলতে আরম্ভ করলেন আর বেতালও ত্রয়োবিংশ গল্প বলতে আরম্ভ করল।
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য