এক চুলের সেতু -- ইংল্যান্ডের রূপকথা

অনেককাল আগে এক দেশে ছিল এক গরীব কাঠুরে। অনেকগুলো ছেলেমেয়ে ছিল তার ঘরে। ছেলেমেয়েদের ঠিকমতো যত্ন নিতে পারত না সে, এমনকি তাদের জন্য দু’বেলা দুমুঠো খাবারও জোটাতে পারত না। এই নিয়ে কাঠুরে আর তার বউয়ের দুঃখের অন্ত ছিল না। ছেলেমেয়েদের কচি কচি শুকনো মুখের দিকে তাকিয়ে দু'জন প্রায়ই বিলাপ করত ।
শেষ পর্যন্ত মনের দুঃখে খুব নিষ্ঠুর একটা কাজ করল কাঠুরে। একদিন ছোট তিনটে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে গ্রাম ছেড়ে মাঠ-ঘাট পেরিয়ে বহু দূরের এক গভীর বনের ভেতরে গিয়ে হাজির হলো। তারপর তাদের ফেলে রেখে চোখ মুছতে মুছতে বাড়ি ফিরে এল।
বনের ভেতর দিয়ে হাটতে থাকল তিন বোন। কিছুক্ষণ পর খিদে পেলে একটা গাছের নিচে বসে যার যার রুটি খেয়ে নিল। তারপর হাটতে শুরু করল আবার । শেষে এক সময় গহীন সেই বনের ভেতর হারিয়ে গেল একেবারে।
বনের রাজ্যে রাতের আঁধারনেমে এসেছে। ক্লান্ত অবসন্ন মেয়েগুলো আর হাঁটতে পারছে না। ততক্ষণে তাদের আবার খিদেও পেয়েছে খুব।
এমন সময় গাছপালার পাতার ফাঁক দিয়ে দূরে একটা আলো দেখতে পেল ওরা। সেই আলো লক্ষ করে তিন বোন এগিয়ে চলল। কাছে গিয়ে দেখল, বনের ভেতর একটা প্রকাণ্ড পোড়া বাড়ি—আলো আসছে সেটারই জানালা দিয়ে। সাহসে ভর করে এগিয়ে গিয়ে বাড়ির দরজার কড়া নাড়ল ওরা।
একটু পরে দরজা খানিকটা ফাঁক হলো। ভেতর থেকে এক বুড়ি উকি দিল । ‘কী চাও তোমরা? বলল সে ।
ভেতরে ঢুকতে দাও আমাদের, কিছু খেতে দাও দয়া করে। আমরা বনের ভেতর হারিয়ে গেছি। আর হাঁটতে পারছি না, খিদেও পেয়েছে খুব।"

না, এখানে তোমাদের জায়গা হবে না, বুড়ি উত্তর দিল। আমার স্বামী এক ভয়ঙ্কর দৈত্য। বাড়ি ফিরে তোমাদের দেখলে মেরে ফেলবে।’ তাহলে একটুখানি জিরোতে দাও শুধু, মেয়েরা অনুনয় করে বলল, দৈত্য আসার আগেই আমরা চলে যাব।'
অনেক কাকুতি-মিনতির পর বুড়ি ঢুকতে দিল ওদের। তিন বোনকে আগুনের পাশে বসিয়ে রুটি আর দুধ খেতে দিল।
খাওয়া তখনও শেষ হয়নি। এমন সময় জোরে জোরে ঘা পড়ল দরজায়। ভয়াল একটা হেঁড়ে গলার হুঙ্কার শোনা গেল:
মানুষের গন্ধ পাউ— ...কে রে, বউ, ঘরের ভেতরে?
তিন বোন থরথর করে কেঁপে উঠল ভয়ে। বুড়ি তাড়াতাড়ি দরজার দিকে এগিয়ে গেল। তিনটে ছোট ছোট মানুষের ছানা, চেঁচিয়ে বলল সে, ঠাণ্ডায় জমে যাচ্ছিল, খিদেয় মরতে বসেছিল—তাই থাকতে দিয়েছি। একটু পরেই চলে যাবে। দরজা খুলে দিয়ে একপাশে সরে দাঁড়াল বুড়ি। ওদের কিন্তু ছোবে না তুমি। তোমার জন্যে আমি ভালো ভালো খাবার তৈরি করে রেখেছি।’
ঘরে ঢুকে দৈত্য কিছু বলল না। মেয়েগুলোর দিকে একবার কট্‌মট করে তাকিয়ে খেতে বসল। নানা রকম খাবারের ছোটখাট কয়েকটা পাহাড় অল্পক্ষণের মধ্যেই সাবাড় করে ফেলল সে। খিদে মিটলে তিন বোনের দিকে আবার ভালো করে তাকিয়ে দেখল। তারপর বলল, তারা ইচ্ছে করলে রাতটা থেকে যেতে পারে।

দৈত্যের নিজেরও তিন মেয়ে । দৈত্যের বউ তাদের সঙ্গে একই বিছানায় তিন বোনের ঘুমোবার ব্যবস্থা করল। তবে সবাই ঘুমোতে যাবার আগে দৈত্য একটা অদ্ভুত কাজ করল। নিজের তিন মেয়ের গলায় পরিয়ে দিল খড়ের মালা ।
দৈত্যের মেয়েদের পাশে শুতে দেয়া হলেও সারাদিনের ক্লান্তির পর তিন বোনের চোখ ঘুমে জড়িয়ে আসছে। সবার ছোট মলি তবু খুব চেষ্টা করছে জেগে থাকতে । তিন বোনের মধ্যে সে-ই সবচেয়ে চালাকচতুর। অন্ধকারে শুয়ে শুয়ে সে ভাবছে, দৈত্য কেন নিজের মেয়েদের গলায় সোনার চেন আর ওদের গলায় খড়ের মালা পরিয়ে রাখল!
অন্য সবাই গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলে মলি বিছানায় উঠে বসল। নিজের আর নিজের দু'বোনের গলা থেকে খড়ের মালা আর দৈত্যের মেয়েদের গলা থেকে সোনার চেন সাবধানে খুলে নিল সে। খড়ের মালা পরিয়ে রাখল দৈত্যদের মেয়েদের গলায়; আর নিজের গলায় পরে নিল সোনার চেন, বোনদের গলায়ও পরিয়ে দিল। তারপর আবার শুয়ে ঘুমিয়ে পড়ল।

গভীর রাত। চারদিকে ঘুট্‌ঘুটে অন্ধকার। এমন সময় দৈত্য পা টিপে টিপে এসে ঢুকল ওদের ঘরে। ঘুমন্ত ছ'টি মেয়ের গলা হাতড়ে দেখল একে একে ৷ খড়ের মালা পরানো রয়েছে যে তিনজনের গলায় তাদের নিঃশব্দে বিছানা থেকে তুলে নিয়ে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে তলকুঠুরিতে চলে গেল। মানুষের মেয়ে ভেবে নিজেরই তিন মেয়েকে সেখানে তালা দিয়ে রাখল সে। তারপর নিজের ঘরে ফিরে গিয়ে আবার শুয়ে ঘুমিয়ে পড়ল। একটু পরেই তার নাক ডাকতে লাগল জোরে জোরে।
দৈত্য এসে যখন ঘরে ঢুকেছে তখনই কিন্তু মলির ঘুম ভেঙে গেছে। তার পর থেকে ঘুমের ভান করে পড়ে থেকেছে এতক্ষণ। দৈত্যের নাক ডাকার শব্দ শুনতে পেয়ে এবার সে আস্তে আস্তে অন্য দু'বোনকে ডেকে তুলল—তাদের সাবধান করে দিল যাতে একটুও শব্দ না করে। তারপর তিন বোন চুপি চুপি বাড়ি থেকে বেরিয়ে এল। একটু দূরে এসেই ছুটতে শুরু করল ওরা। অন্ধকারে হোঁচট খেয়ে পড়তে লাগল বারবার, কাটাঝোপের ঘায়ে হাত-পা ছড়ে যেতে লাগল। তবু ওরা থামছে না।
এক সময় ভোর হয়ে গেল। ওরা দেখল, সকালের প্রথম আলোয় সামনে ঝলমল করছে এক বিশাল সুন্দর ভবন। এগিয়ে গিয়ে ওরা জানতে পেল, সেটা সে-দেশের রাজার প্রাসাদ। রাজার অনুমতি নিয়ে প্রহরীরা ওদের ভেতরে ঢুকতে দিল।
শোনাল কী করে ওরা দৈত্যের খপ্পর থেকে বেঁচে ফিরে এসেছে।
দৈত্যকে রাজা আগেই চিনতেন । একবার তিনি যখন বনে শিকার করতে গিয়েছিলেন তখন দৈত্য তাঁর অনেক লোকজন আর ঘোড়া ধরে নিয়ে গিয়েছিল। তিনি নিজে প্রাণে বেঁচেছিলেন অনেক কষ্টে ।
মলি, তোমার বুদ্ধি আর সাহসের প্রশংসা করতে হয়, রাজা বললেন, তবে আরও বেশি প্রশংসা করব যদি তুমি ওই দৈত্যের তলোয়ারটা আমায় এনে দিতে পারো। প্রতিদানও পাবে তাহলে—
ঠিক আছে, আমি চেষ্টা করে দেখব, বলল মলি । পরদিন দু'বোনকে রাজপ্রাসাদে রেখে মলি একাই ফিরে চলল দৈত্যের বাড়িতে । সেখানে পৌছতে প্রায় সন্ধে হয়ে গেল। বনের ভেতর দিয়ে ঘুরে বাড়ির পেছন দিকে গিয়ে একটা খোলা জানালা দিয়ে গোপনে ভেতরে ঢুকে পড়ল সে । দৈত্যের ঘরে গিয়ে তার বিছানার নিচে লুকিয়ে রইল ।
বেশ কিছুক্ষণ পরে বাড়ি ফিরল দৈত্য। বিছানার পাশের দেয়ালে তার মস্ত তলোয়ারটা ঝুলিয়ে রাখল। তারপর পেট পুরে খেয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ল।
মলি অপেক্ষা করতে লাগল। একটু পরেই ঘুমিয়ে পড়ল দৈত্য, তার নাক ডাকতে লাগল ভীষণ আওয়াজে ।
বিছানার তলা থেকে মলি তখন হামাগুড়ি দিয়ে বেরিয়ে এল ।
দেয়াল থেকে নামাল। কিন্তু যেই সে বিছানা থেকে নামতে গিয়েছে অমনি তলোয়ারের ডগা ঠুন করে ঠুকে গেল দেয়ালের সঙ্গে। লাফ দিয়ে উঠে বসল দৈত্য, হুঙ্কার ছেড়ে হাত বাড়িয়ে ধরতে গেল মলিকে ।
কিন্তু মলি ততক্ষণে তলোয়ার হাতে এক দৌড়ে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছে। দৈত্যও তার পিছু ধাওয়া করল। প্রাণপণে ছুটছে তো ছুটছেই মলি, পেছনে তাড়া করে আসছে ক্রুদ্ধ দৈত্য।
শেষ পর্যন্ত এক চুলের সেতু'-র কাছে এসে পড়ল দু’জন। নিচে গভীর অন্ধকার খাদ হা করে আছে। হালকা পায়ে সেতুর ওপর দিয়ে দৌড়ে পার হয়ে এল মলি। কিন্তু প্রকাণ্ড দৈত্য সেই সরু সেতুর ওপর পা রাখতে সাহস পেল না। থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল সে ।
আবার যদি এদিকে আসো, বিপদে পড়বে তুমি, মানুষের মেয়ে! দৈত্য চিৎকার করে বলল পেছন থেকে ।
আচ্ছা, সে দেখা যাবে, জবাব দিল মলি ।


দৈত্যের তলোয়ার নিয়ে সে রাজপ্রাসাদে ফিরে এল। মণিমুক্তাখচিত সেই তলোয়ার পেয়ে রাজা খুব খুশি হলেন। কথামতো সত্যি সত্যি তিনি বড় রাজপুত্রের সঙ্গে মলির বড় বোনের বিয়ের ব্যবস্থা করলেন।
বিয়ের উৎসব শেষ হতেই রাজা আবার মলিকে ডেকে পাঠালেন। তোমার বুদ্ধি আর সাহসের প্রশংসা করছি, মলি, বললেন তিনি। তবে আরও প্রশংসা করব যদি দৈত্যের মণিমুক্তোর থলিটা আমায় এনে দাও ।
তাহলে আমার মেজো ছেলের সঙ্গে তোমার মেজো বোনের বিয়ে দেব |"
আবারও দৈত্যের বাড়ি চলল মলি । সবার চোখকে ফাকি দিয়ে দৈত্যের ঘরে ঢুকে আগের মতোই বিছানার নিচে লুকিয়ে রইল। একটু পরে বাড়ি ফিরে পেট পুরে রাতের খাবার খেল দৈত্য, তারপর শুয়ে ঘুমিয়ে পড়ল।
দৈত্যের নাক ডাকার শব্দ শুনতে পেয়ে নিঃশব্দে বিছানার তলা থেকে বেরিয়ে এল মলি । দৈত্যের বালিশের নিচে আস্তে করে হাত ঢুকিয়ে মণিমুক্তোর থলিটা বের করে আনল। কিন্তু যেই ঘর থেকে বেরোতে যাবে আমনি তার পায়ের শব্দে দৈত্য জেগে উঠল। ভয়ঙ্কর গর্জন করে তাড়া করল তাকে ।
মলি ছুটছে, তার পেছনে ছুটে আসছে দৈত্য | দৈত্য তাকে ধরে ফেলে আর কি! এমন সময় ওরা এসে পড়ল সেই "এক চুলের সেতু'-র কাছে। হালকা পায়ে দৌড়ে সরু সেতু পার হয়ে এল মলি, কিন্তু বিশালবপু দৈত্য সেখানেই থেমে দাঁড়াতে বাধ্য হলো।
ফের যদি এ পথ মাড়াও তুমি, মানুষের মেয়ে, মজাটা টের পাবে বলে দিলাম!' দৈত্য চেঁচিয়ে বলল ।
দেখা যাবে তুমি কী করতে পারো! মলি উত্তর দিল । মণিমুক্তোভর্তি থলি পেয়ে রাজা মহাখুশি। কথা রাখলেন তিনি। তার মেজো ছেলের সঙ্গে মলির মেজো বোনের বিয়ে হয়ে গেল।
বিয়ের উৎসব শেষ হতে না হতেই আবারও মলিকে ডেকে পাঠালেন রাজা। মলি, তোমার কাজে আমি খুব খুশি হয়েছি, বললেন তিনি, তবে সবচেয়ে খুশি হব যদি দৈত্যের বুড়ো আঙুলে পরা সোনার আংটিটা আমাকে এনে দাও। কথা দিচ্ছি, তাহলে তোমাকেও পুত্রবধু করে নেব আমি—তোমার বিয়ে হবে ছোট রাজকুমারের সঙ্গে।


মলি বুঝল, কাজটা খুব সহজ হবে না। তবু সে সাহসে বুক বেঁধে আবার দৈত্যের বাড়ির দিকে রওনা হলো । আগের মতোই সবার
বিছানার তলায় গুড়ি মেরে লুকিয়ে রইল। দৈত্য এসে প্রতিদিনের মতো একগাদা খাবার সাবাড় করে ভরপেটে সটান শুয়ে পড়ল। একটু পরেই তার নাক ডাকতে লাগল যথারীতি ।
বিছানার তলা থেকে চুপি চুপি হামাগুড়ি দিয়ে বেরিয়ে এল মলি। প্রথমে খুব সাবধানে দৈত্যের হাতের কদাকার মোটা বুড়ো আঙুল এক হাতে বিছানার সঙ্গে চেপে ধরল, তারপর অন্য হাত দিয়ে সোনার আংটিটা টেনে টেনে খুলে নিতে চেষ্টা করতে থাকল। টানছে তো টানছেই, কিছুতেই খুলতে পারছে না। বুক টিপটিপ্‌ করছে ভয়ে। তারপর যেই আংটিটা খুলে এসেছে তার হাতে, অমনি ঘুম ভেঙে গেল দৈত্যের। তড়াক করে উঠে বসে ভয়ঙ্কর গর্জন ছেড়ে খপ্‌ করে মলির হাত চেপে ধরল।
এইবার তোমাকে বাগে পেয়েছি, মানুষের মেয়ে, রাগে গরগর করতে করতে বলল সে । 'বলো দেখি, তুমি আমার যত ক্ষতি করেছ তেমন ক্ষতি যদি আমি তোমার করতাম, তাহলে তুমি আমাকে নিয়ে কী করতে?’
জবাব দিতে মলি একটুও দেরি করল না। আমি তোমাকে একটা বস্তায় পুরতাম, বলল সে, একটা বেড়াল আর একটা কুকুরকেও পুরতাম সেটার ভেতরে যাতে সেগুলো তোমাকে আঁচরে কামড়ে দেয়।
এমনকি সুই-সুতো, কাচি এসব ধারাল জিনিসও পুরতাম বস্তায়। তারপর বস্তাটা দেয়ালে ঝুলিয়ে রেখে বনের ভেতরে গিয়ে শক্ত একটা গাছের ডাল কেটে সেটা দিয়ে একটা মোটা লাঠি বানিয়ে নিয়ে আসতাম। আর তারপর সেই লাঠি দিয়ে বস্তাবন্দী তোমাকে আচ্ছা করে পেটাতাম ।
তোমাকে নিয়ে এখন ঠিক তা-ই করব।’
একটা বস্তা এনে মলিকে তার ভেতরে পুরল সে। সেইসঙ্গে একটা বেড়াল আর একটা কুকুর ঢুকিয়ে দিল বস্তার ভেতরে। সবশেষে একটা সুই-সুতো আর একটা ধারাল কাচিও বস্তায় পুরল। তারপর বনের ভেতর রওনা হলো মোটা লাঠি কেটে আনতে ।

দৈত্যের ভারী পায়ের শ্বদ মিলিয়ে যেতেই মলি কাঁচি দিয়ে চটপট বস্তার একটা পাশ খানিকটা চিরে ফেলল। তারপর সুঁই-সুতো হাতে নিয়ে বস্তার ভেতর থেকে বেরিয়ে লাফিয়ে নিচে নেমে পড়ল। বেড়াল আর কুকুর বেরিয়ে আসার আগেই সে আবার তাড়াতাড়ি বাইরে থেকে বস্তাটা সুঁই-সুতো দিয়ে ভালো করে সেলাই করে ফেলল।
যে-কোন মুহুর্তে দৈত্য বন থেকে ফিরে আসতে পারে। মলি তাই দরজার আড়ালে গা ঢাকা দিয়ে দাঁড়িয়ে রইল।

মস্ত একটা মোটা লাঠি হাতে দৈত্য এসে ঘরে ঢুকল একটু পরেই। বস্তাটা দেয়াল থেকে নামিয়ে মেঝের ওপর রাখল। তারপর লাঠি দিয়ে পেটাতে শুরু করল দমাদম।
পিটুনি খেয়ে কুকুর প্রাণপণে ঘেউঘেউ করতে লাগল, বেড়াল ভয়ানক মিউমিউ করতে লাগল। দৈত্য ভাবল, মলিও নিশ্চয় আর্তনাদ করছে, কিন্তু কুকুর-বেড়ালের চিৎকারের জন্যে তার গলা শুনতে পাওয়া যাচ্ছে না। দাঁত কিডমিড় করতে করতে সে আরও জোরে পেটাতে থাকল।
সুযোগ বুঝে মলি দরজার আড়াল থেকে বেরিয়েই সোজা দৌড় দিল। তাকে দেখতে পেয়ে হতবাক হয়ে এক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে রইল দৈত্য। পরক্ষণে হাতের লাঠি ছুড়ে ফেলে দিয়ে মলির পিছু ধাওয়া করল ।
মলি ছুটছে, দৈত্যও ছুটছে তার পেছন পেছন। আবারও ওরা এসে পড়ল ‘এক চুলের সেতু-র কাছে। হালকা পায়ে এক দৌড়ে সেতু পার হয়ে এল মলি। প্রকাণ্ড শরীর নিয়ে দৈত্য দাঁড়িয়ে রইল বোকার মতো।

আবার যদি এদিকে আসো তুমি, মানুষের মেয়ে, বিপদে পড়বে বলে দিলাম। দূর থেকে চিৎকার করে হুমকি দিল দৈত্য।
আর কখনও যাচ্ছি না আমি তোমার রাড়িতে! মলি হাসতে হাসতে হাত নেড়ে বলল ।
রাজপ্রাসাদে ফিরে রাজাকে দৈত্যের সোনার আংটি উপহার দিল মলি। আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে উঠল রাজার মুখ।
ছোট রাজপুত্রের সঙ্গে মহাধুমধামে মলির বিয়ে হয়ে গেল। রাজপ্রাসাদে সুখে-শান্তিতে বাস করতে লাগল সে।
আর কখনও দৈত্যের বাড়িতে তার যাওয়ার দরকার হয়নি।
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য