শেয়াল আর বেড়াল -- জার্মানের উপকথা

বনের মধ্যে একদিন শেয়ালমশাইয়ের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল বেড়ালের । সে ভাবল, শেয়াল বেজায় ধূর্ত। তাই ওর সঙ্গে ভাব-সাব করা যাক । এই-না ভেবে বেড়াল বলল, “শুভদিন, শেয়ালমশাই । কেমন আছেন ? এই ঝামেলার জীবনের দিনগুলো কেমন কাটছে ?”
বেড়ালের দিকে খানিক কটমট করে তাকিয়ে রইল শেয়াল । শেষটায় বলল, “হতচ্ছাড়া গুফো, গায়ে ডোরাকাটা হাঁদা, ইঁদুর-খেকো আধপেটা কোথাকার । কোন সাহসে জিজ্ঞেস করছিস—আমি কেমন আছি ? সভ্যতা-ভব্যতা কাকে বলে জানিস ? তুই কী কী জানিস, শুনি ?”
সবিনয়ে বেড়াল বলল, “শুধু একটা জিনিসই জানি।” 
মুখ বেঁকিয়ে শেয়াল জিজ্ঞেস করল, “কী সেটা ?” 
“কুকুর তাড়া করলে গাছে উঠে আমি আশ্রয় নিতে পারি।” 
শেয়াল বলল, “আর কিছু জানিস না ? আমি হাজারটা ফন্দিফিকির জানি । বিশ্বাস না হয় তো আমার সঙ্গে চল । কুকুরের কাছ থেকে পালাবার আমার ফিকিরটা তোকে দেখিয়ে দেব ।”
ঠিক সেই মুহুর্তে চারটে কুকুর নিয়ে হাজির হল এক শিকারী। তড়াং করে লাফিয়ে একটা গাছে উঠে মগডালে বসে ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বেড়াল চেঁচিয়ে উঠল, “শেয়ালমশাই ! শেয়ালমশাই । আপনার ফন্দি-ফিকিরগুলো দেখাতে শুরু করে দিন।” কিন্তু ততক্ষণে কুকুরগুলো এসে শেয়ালকে কামড়ে ধরে ফেলেছে ।
বেড়াল আবার চেঁচিয়ে উঠল, “শেয়ালমশাই ৷ হাজারটা ফিকির জানা সত্ত্বেও আপনি বিপদে পড়লেন । কিন্তু আমার মতো শুধু গাছে উঠতে জানলে প্রাণে বেঁচে যেতেন ।”
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য