কথা নয়, শুধু কাজ

একদা সন্ধ্যাবেলা সম্রাট এবং তাঁর একাত্ত বিশ্বস্ত দেশরক্ষা মন্ত্রী বীরবল নগর প্রাকারের সংযোগস্থলে একটি গম্বুজের মধ্যে বসে রাজ্যের শাসন সম্বন্ধে নিভৃতে গভীর আলোচনা করছিলেন। নীচের দিকে প্রাকারের বাইরে নগরের লোক-চলাচল করছিল।
একটা মস্ত হইচই উঠল। দুজনেই গলা বাড়িয়ে দেখলেন, কয়েকজন দস্যু মিলে জনৈক বণিককে লুণ্ঠন করছে। বণিক চিৎকার করে উঠল সম্রাটের দিকে তাকিয়ে : সম্রাট, ধর্মাবতার, আপনার চোখের সামনে আমার সর্বস্ব লুট করে ওরা চলে যাচ্ছে, কিন্তু আপনি আমাকে লক্ষ করছেন না কেন সম্রাট ?’
তাকে হাউহাউ করে কাঁদতে দেখে সম্রাট অতি ব্যথিত এবং ক্রুদ্ধ হলেন। ধমক দিয়ে বীরবলকে বললেন, ‘প্রজার ধনপ্রাণ রক্ষার দায়িত্ব তোমার না বীরবল ? চোখের ওপরে এই ঘটনা ঘটছে, একে তুমি কী বলতে চাও? তোমার আজকাল এত অধঃপতন হয়েছে বুঝতে পারিনি। এর কারণ কী?
বীরবল একেবারে চুপ।
ক্রোধে ও উত্তেজনায় বাদশা ঠকঠক করে কাঁপছেন। পুনরায় বললেন, যখনই তোমার কাছে কিছু জানতে চেয়েছি তুমি আশ্বাস দিয়ে বলেছ যে, সব ঠিক আছে। এখন বেশ বুঝতে পারছি আমাকে তুমি এতকাল ধরে অন্ধকারে রেখেছ।
রাজ্যের প্রকৃত অবস্থা আমাকে জানতে দাওনি। রাজ্যের এমন দুরবস্থা আমি ঠিক বুঝতে পারিনি। তোমার এখনই পদত্যাগ করা উচিত।’
মাথা হেঁট করে বীরবল তিরস্কারগুলি শুনে গেলেন। তারপর এক সময় মুখ তুললেন। দৃঢ় কন্ঠে বললেন,‘সম্রাট, প্রবাদে আছে আলোর নীচেই সব অন্ধকার। আপনি মোগল রাজবংশের সর্বাপেক্ষা উজ্জ্বল আলো, আপনি বসে রয়েছেন গম্বুজের ওপর, নীচের তলাটা তাই অন্ধকার। দস্যুরা অন্ধকার পেয়েই ডাকাতি করছে।’
বীরবলের হুকুমের আগেই ভ্ৰাম্যমাণ অশ্বারোহীর দল ডাকাতের পেছনে পেছনে ছুটে তাদেরকে ঘেরাও করে বীরবলের কাছে ধরে নিয়ে এল।
সম্রাট তাঁর দেশরক্ষা মন্ত্রীর এই দ্রুত কর্মতৎপরতামূলক ব্যবস্থা লক্ষ করে মুগ্ধ ও অভিভূত হয়ে গেলেন। তিনি মনে মনে ভাবলেন, বীরবলের কাজের কতখানি দায়িত্ব। তিনি কীভাবে দায়িত্ব পালন করছেন এটা দেখেই তিনি বুঝতে পারলেন।
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য