বাধ্য হয়ে খেতে হচ্ছে -- মোল্লা নাসিরউদ্দিন

একদিন এক উজির একটা বেশ বড় রাজহাঁস মেরে তার গিল্পীকে দিয়ে রান্না করিয়ে বাদশার কাছে উপহার দিতে এলেন।
‘হুজুর, আজ আপনার জন্মদিন । তাই এই যৎসামান্ত উপহার গ্রহণ করুন।-উজীর নিবেদন করেন।
খাবারের টেবিলে দুই ছেলে আর দুই মেয়ে আর বেগমের সঙ্গে নাসিরুদ্দিনের সেদিন ভোজের ব্যবস্থা।
এদিকে বাদশার ছেলে তার মেয়ে সবাই চান রাজহাঁসের সবচেয়ে ভাল মাংসটা খেতে, অর্থাৎ কলিজার দিকটা ।
বিব্রত বাদশা শেষে এর নিষ্পত্তির ভার দেন মোল্লার ওপর । 
নাসিরুদ্দিন চাকু দিয়ে ঠোঁট সমেত মাথাটি কেটে বাদশার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলেন-‘হুজুর, আপনি হলেন রাজ্যের মাথা । তাই এই মাথা খেয়ে চিরকাল দেশের মাথা' হয়ে থাকুন।’
এবারে গলাটি কেটে বেগমের দিকে এগিয়ে দিয়ে বললেন— 'কথায় আছে স্বামীর ঠিক নীচেই স্ত্রীর আসন । প্রার্থনা করি আপনি চিরকাল বাদশার কণ্ঠের মালারূপে বিরাজ করুন।'
অতঃপর দুটি ডান কেটে দুই শাহজাদীকে দিয়ে বলেন,—'একদিন না একদিন তোমাদের স্বামীর ঘরে যেতে হবে। দূরে যেতে হলে ডানা খাওয়াই সঙ্গত ।
এরপর দুটি পায়ের পাতা দিলেন দুই শাহজাদাকে । দেখো, তোমরা হলে গিয়ে সিংহাসনের উত্তরাধিকারী । এই রাজহাঁসের পায়ের পাাঁ খেয়ে রাজ সিংহাসনে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াবার সুবিধা হবে ?
এই ভাবে বাজে অংশগুলো সবাইকে ভাগ করে ফেলে স্বয়’ বুক আর অন্যান্য ভালো মাংসগুলো নিজের দিকে টেনে নাসিরুদ্দিন কৈফিয়ৎ দেনঃ-যোগ্য ব্যক্তিদের উপযুক্ত অংশগুলো দেবার পর আমার মত সামান্য প্রজার জন্য সামান্য অংশগুলো থাকছে । ঐগুলো বাধ্য হয়ে আমাকেই খেতে হচ্ছে।’


Previous
Next Post »
0 মন্তব্য