জ্ঞানের ভান্ডার

একবার পারস্যরাজ আকবরকে লিখলেন, আপনি আমার রাজসভায় জ্ঞানের ভাণ্ডার পাঠান তিন মাসের মধ্যে। যদি না পাঠাতে পারেন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকবেন।

‘সত্যিই খানসাহেবের জ্ঞানের ভান্ডারটি খুবই প্রয়োজন।’ বীরবল আকবরকে বললেন, ‘খানসাহেবের একটি ভাণ্ডার তৈরি করার জন্য প্রয়োজন বেশ কিছু পয়সা। আকবর সঙ্গে সঙ্গে বীরবলের চাহিদা মিটিয়ে দিলেন।

বীরবল পাথরের একটি বড় কলসি নিয়ে অদূরে সবজির বাগানে গিয়ে মাচার ওপর কুমড়ো গাছের মধ্যে থেকে একটি বড় জাতের ছোট কুমড়ো বেছে নিলেন। কুমড়োটাকে বোঁটা ছিঁড়লেন না। সেটাকে কলসির মধ্যে ঢুকিয়ে আড়াআড়ি করে বসালেন। কয়েকদিনের মধ্যেই কুমড়োটা বাড়তে বাড়তে কলসির ভেতরের সমস্ত জায়গা জুড়ে নিল। এই অবস্থায় তিনি বোঁটা কেটে দিলেন।

তারপর সেই কুমড়ো সমেত কলসিটাকে পারস্যরাজ খানসাহেবের কাছে পাঠিয়ে তাকে হুঁশিয়ার করে লিখলেন, আপনি যে জ্ঞানের ভাণ্ডার চেয়েছিলেন তা পাঠানো হল। এটি আমাদের নির্দেশ যে, কলসি থেকে জ্ঞান আহরণ করার সময় কলসির যেন সামান্য ক্ষতি না হয়, কলসির ক্ষতি হলে বা জ্ঞানের হানিকর কিছু হলে আপনাকে আমাদের এক লক্ষ মোহর দিতে হবে। সেইমতো প্রস্তুত থাকবেন।’

খানসাহেবের কাছে যখন ওই পাত্রটি পৌছল, বস্তুটি দেখেই বিস্ময়বিমূঢ় হয়ে গেলেন তিনি। কুমড়োটাকে কলসির মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়ার জন্য কলসির কোনও ক্ষতি না করে তা থেকে কুমড়োটাকে বের করা অসম্ভব ব্যাপার। বুদ্ধিতে তিনি হেরেও গেলেন। এখন যুদ্ধ করা পাগলামি ছাড়া আর কিছু নয়। বুদ্ধির দৌড়ে তার পরাজয় হয়েছে বুঝতে পেরে খানসাহেব আকবরকে একলক্ষ মোহর পাঠিয়ে দিলেন এবং এতগুলো মোহর তার হাত থেকে বেরিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও তিনি মনে দুঃখ করলেন না। জ্ঞানের ভাণ্ডারের জন্য তার এই খেসারত ভবিষ্যতে তাকে নিজের জ্ঞান সম্বন্ধে সচেতন করবে। যুদ্ধ করলে বহু লোক মারা যাবে। দু'পক্ষেরই তাতে কত লাখ টাকা খরচ তার ঠিক নেই, তার চেয়ে সামান্য এক লাখ টাকা কিছুই নয়। পারস্যরাজের ইচ্ছা ছিল বীরবলের বুদ্ধি সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল হওয়া তাঁর সে আশা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেল'
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য