স্মৃতিধরের বিস্মৃতি -- সুচিত্রা ভট্টাচার্য

স্টাফরুমে ফিরে, নিজের চেয়ারটিতে বসে, একটু জিরিয়ে নিচ্ছিলেন স্মৃতিধরবাবু। এখন, এই বিকেলের দিকটায়, বেশ ক্লান্ত ক্লান্ত লাগছে। অবশ্য ক্লান্ত তো হওয়ারই কথা। সকাল থেকে পরপর অনেকগুলো অঙ্ক আর বিজ্ঞানের ক্লাস নিতে হয়েছে আজ। গত পিরিয়ডে তো বেজায় ধকল গেল। ক্লাস এইটে পাটিগণিত করাচ্ছিলেন স্মৃতিবাবু, একটা অতি সামান্য অঙ্ক বোঝাতে গিয়ে হিমশিম খাওয়ার জোগাড়। এক চৌবাচ্চায় তিনটে নল দিয়ে জল ঢুকছে, আর দুটো নল দিয়ে জল বেরিয়ে যাচ্ছে, পাঁচখানা নলই একসঙ্গে খোলা থাকলে কতক্ষণে চৌবাচ্চাটি পূর্ণ হবে—এই তো অঙ্ক! হ্যাঁ এটা ঠিক, নলগুলোর রকমফের আছে। কোনওটা দিয়ে দশ মিনিটে চৌবাচ্চা ভরতি হয়, কোনওটা দিয়ে পনেরো মিনিটে, তো কোনওটায় বিশ মিনিটে। আর ওদিকে একটা নলে আধ ঘণ্টায় খালি হয় চৌবাচ্চা, অন্য নলটায় এক ঘণ্টায়। এত সোজাসাপটা সমস্যা যাদের মাথায় ঢোকে না, সেসব ছাত্রদের মগজটাই তো গোবরপোরা, নয় কি?

অঙ্কটার কথা মনে হতেই স্মৃতিধর মিটিমিটি হাসলেন। ছেলেগুলো একেবারেই গাধা! বলে কিনা অতগুলো নলের দরকার কী স্যার? একটা নল দিয়ে ঢুকিয়ে আর একটা দিয়ে বার করে দিন না! বাধ্য হয়ে স্মৃতিধরকে বলতে হল, ‘ওরে বোকার দল, সে তো করাই যায়। কিন্তু তোরা তাহলে এরিথমেটিক শিখবি কী করে?

আর অঙ্ক না শিখলে কি মস্তিষ্ক পরিপক্ক হয়? ভাবতে ভাবতে স্মৃতিধর উঠে দাঁড়ালেন। আর একটা অঙ্ক ভাঁজছেন মনে মনে। এবার যেন কাদের ক্লাস? নাইন? টেন ? রুটিনটা খুঁজলেন টেবিলে, দেখতে পেলেন না। কোথায় গেল? জিগ্যেসই বা করবেন কাকে। স্টাফরুম তো ফাঁকা! অন্য শিক্ষকরা কি সবাই ক্লাস নিতে গেছেন? তিনি একাই বসে বসে সময় নষ্ট করছিলেন?
ব্যস্তসমস্ত স্মৃতিধর হাঁক পাড়লেন, “সুরেশ...? সুরেশ...?”
বারকয়েক ডাকাডাকির পর বছর পঁচিশেকের এক রোগাপাতলা ছেলে ঘরে ঢুকেছে, কাকে ডাকছিলেন স্যার? ‘তোমাকেই তো ডাকছি।’
বলুন স্যার?
‘তোমার আক্কেলটা কী বলো তো সুরেশ? টেবিল থেকে রুটিন কোথায় সরিয়ে রেখেছ?”
‘আমি তো সুরেশ নই স্যার। আমি দিবাকর।’
‘তুমি সুরেশ ছিলে না? কবে থেকে দিবাকর হলে ?’
‘আমি তো স্যার চিরকালই দিবাকর। সেই জন্ম ইস্তক।
অ। স্মৃতিধরের যেন ঠিক প্রত্যয় হল না। দিবাকরকে এখনও কেন যেন সুরেশই মনে হচ্ছে তার। দুনিয়াসুদ্ধ লোক দেখছেন, তার নাম ভুলে যাওয়ার মতো বেভুল তো তিনি নন! তবে অবশ্য আর বাদ-প্রতিবাদে গেলেন না। ছেলেটা যদি নিজেকে দিবাকর ভাবতে চায়, ভাবুক। গলা ঝেড়ে বললেন, তাড়াতাড়ি রুটিন আর চক-ডাস্টার দাও, আমার ক্লাসের দেরি হয়ে যাচ্ছে।’
ছেলেটা এবার ফিকফিক হাসছে, ক্লাস কী করবেন স্যার? স্কুল তো ছুটি হয়ে গেছে।
‘কেন?’
‘বা রে, চারটে বেজে গেছে তো।”
চমকে কবজি উলটে ঘড়ি দেখলেন স্মৃতিধর। হ্যা, তাই তো! চারটে পনেরো! ছুটির ঘণ্টা পড়েছিল বলেই কি ছেলেগুলো তখন অমন উল্লাস করতে করতে বেরিয়ে গেল? স্টাফরুমও কি তাই এত শুনশান ?
দিবাকর, যাকে কিনা এখনও সুরেশই মনে হচ্ছে স্মৃতিধরের, কান এটো করে হাসল, আপনিও এবার যান স্যার। স্টাফরুমে তালা ঝোলাব।”

মাথা চুলকোতে-চুলকোতে স্মৃতিধর বেরিয়ে এলেন ঘর ছেড়ে। বাইরে এসে দেখলেন, তিনি আর ওই ছেলেটি ছাড়া স্কুল কম্পাউন্ডে জনমনিষ্যি নেই। এক গাল জিভ কেটে, লজ্জা লজ্জা মুখে সাইকেলটা নামালেন বারান্দা থেকে। চড়তে গিয়েও থমকেছেন। তিনি ডান দিকের প্যাডেলে পা রেখে চাপেন সাইকেলে। অভ্যেস। সেই মতো একখানা দড়ি জড়ানো থাকে ডান প্যাডেলটায়। কিন্তু কী সর্বনাশ, দড়ি তো নেই! নিৰ্ঘাত কোনও দুষ্টু ছাত্র খুলে নিয়েছে দড়িটা। এবার? কী করে তিনি ডান-বা বুঝবেন?
আচমকাই একটা হাসি খেলে গেল স্মৃতিধরের মুখে। এ তো খুব সহজ অঙ্ক। বাড়ি থেকে বেরোনোর সময়ে গিন্নি তো বলেই দিলেন, তিনি বা হাতে ঘড়ি পরেছেন। তাহলে যে হাতে ঘড়ি নেই, সেটাই নিশ্চয়ই ডান হাত! আর সেই হাতের নীচেই যে পাটা রয়েছে, সেটা নিশ্চয়ই ডান পা! অতএব তিনি যদি এখন সাইকেলের পিছনে গিয়ে সাইকেলের সামনের দিকে মুখ করে দাঁড়ান, তাহলে তার ডান পা সাইকেলের যেদিকে থাকবে, সাইকেলের ডান প্যাডেলও নিশ্চয়ই সেদিকেই পডবে!
জটিল অঙ্কটার সমাধান করে ভারী আহ্লাদিত মুখে সাইকেলে চাপলেন স্মৃতিধর। গেট পেরিয়ে চলে এলেন রাস্তায়। নতুন একটি অঙ্ক জেগেছে মাথায়। তাঁর সাইকেলের মাথা চুলকোতে-চুলকোতে স্মৃতিধর বেরিয়ে এলেন ঘর ছেড়ে। বাইরে এসে দেখলেন, তিনি আর ওই ছেলেটি ছাড়া স্কুল কম্পাউন্ডে জনমনিষ্যি নেই। এক গাল জিভ কেটে, লজ্জা লজ্জা মুখে সাইকেলটা নামালেন বারান্দা থেকে। চড়তে গিয়েও থমকেছেন। তিনি ডান দিকের প্যাডেলে পা রেখে চাপেন সাইকেলে। অভ্যেস। সেই মতো একখানা দড়ি জড়ানো থাকে ডান প্যাডেলটায়। কিন্তু কী সর্বনাশ, দড়ি তো নেই! নিৰ্ঘাত কোনও দুষ্টু ছাত্র খুলে নিয়েছে দড়িটা। এবার? কী করে তিনি ডান-বা বুঝবেন?
আচমকাই একটা হাসি খেলে গেল স্মৃতিধরের মুখে। এ তো খুব সহজ অঙ্ক। বাড়ি থেকে বেরোনোর সময়ে গিন্নি তো বলেই দিলেন, তিনি বা হাতে ঘড়ি পরেছেন। তাহলে যে হাতে ঘড়ি নেই, সেটাই নিশ্চয়ই ডান হাত! আর সেই হাতের নীচেই যে পাটা রয়েছে, সেটা নিশ্চয়ই ডান পা! অতএব তিনি যদি এখন সাইকেলের পিছনে গিয়ে সাইকেলের সামনের দিকে মুখ করে দাঁড়ান, তাহলে তার ডান পা সাইকেলের যেদিকে থাকবে, সাইকেলের ডান প্যাডেলও নিশ্চয়ই সেদিকেই পডবে!
এমন একটি মনোরম অঙ্ক পেয়ে স্মৃতিধরের মেজাজ ভারী ফুরফুরে হয়ে গেল। সাইকেল চালাতে চালাতে গভীর মনোযোগে কষছেন অঙ্কটা। পাশ দিয়ে হুশহাশ ছুটে যাচ্ছে গাড়ি, বাস, ট্যাক্সি, অটো, রিকশা, সাইকেল। স্মৃতিধরের কোনও দিকে হুশ নেই। মালবোঝাই গরুর গাড়িও টপকে গেল তাকে। রাস্তার ধার ঘেঁষে একইরকম শম্বুকগতিতে এগোচ্ছে স্মৃতিধরের চিন্তামগ্ন সাইকেল।
হঠাৎই সামনে এক যুবক—কী মামা, ফিরছ নাকি?’
ঘ্যাচ করে ব্রেক কষল সাইকেল। কোনওক্রমে মাটিতে পা ঠেকিয়ে দাঁড়িয়েছেন স্মৃতিধর। অবাক মুখে বললেন, ‘কে তোমার মামা, ভাই?’
যাচ্চলে! সাধে কি লোকে তোমায় বিস্মৃতিবাবু বলে! আমি তোমার ভাগনে। নাডু।
নামটা যেন শোনা শোনা! মুখটাও একেবারে অপরিচিত লাগছে না যেন! স্মৃতিধর অল্প হাসলেন, ‘ও। তুমি এদিকে কোথায়??

‘তোমার বাড়িতেই তো গেছলাম।...বেড়ে হয়েছে কিন্তু বাড়িখানা।’
স্মৃতিধর ফ্যালফ্যাল চোখে তাকালেন। এ কথার কী অর্থ? হঠাৎ তার বাড়িরই বা প্রশংসা কেন?

নাডু মাথা ঝাঁকিয়ে বলল, যাও, যাও, আজ আর দেরি কোরো না। মামি তোমার জন্য ওয়েট করছে।’
এ কথারও কিছু মাথামুণ্ডু খুঁজে পেলেন না স্মৃতিধর। আজ কী এমন বিশেষ দিন ? যার জন্য গিন্নি তার অপেক্ষায় বসে আছেন? 

নাড়ু ফের বললে, “আর হ্যাঁ, নিশ্চয় তোমার মনে আছে, রসগোল্লা কিনে নিয়ে যেতে হবে? অন্তত পঞ্চাশটা ? সন্ধেবেলা আজ কম লোক তো আসবে না !?
নাডু তাঁকে অতিক্রম করে চলে যাওয়ার পরও বেশ খানিকক্ষণ ধন্দমাখা মুখে দাঁড়িয়ে রইলেন স্মৃতিধর। একেরপর-এক হেয়ালি। কী এমন কাণ্ড ঘটল, যে তার বাড়িতে সন্ধেবেলা মস্ত জমায়েত হবে ?
যাক গে যাক, নাডু যখন বলল, মিষ্টি নিয়ে যাওয়াটাই সঙ্গত। একটু গিয়ে সাইকেল থেকে নেমেই পড়লেন স্মৃতিবাবু। গুটিগুটি পায়ে ঢুকেছেন এক দোকানে। কাউন্টারে দাঁড়িয়ে নির্দেশ ছুড়লেন, ‘পঞ্চাশখানা রসগোল্লা দিন তো ভাই। একটা বড় হাঁড়িতে।’
গোলগাল চেহারার দোকানদারটি বিরক্ত মুখে বলল, ‘এখানে রসগোল্লা পাওয়া যায় না ?
‘কেন ??
‘দেখে বুঝছেন না? এটা মুদির দোকান।

ও হরি, তাও তো বটে। স্মৃতিধর অধোবদনে বেরিয়ে এলেন। পরপর পাঁচটি দোকান নিরীক্ষণ করলেন সতর্ক চোখে। অবশেষে এক দোকানের শোকেসে গামলায় রসগোল্লা ভাসতে দেখে নিশ্চত হয়েছেন, নাহ্‌, ময়রার দোকান ছাড়া এ হতেই পারে না | রসগোল্লার হাড়ি হাতে স্মৃতিবাবু ফিরলেন সাইকেলে। আবার সেই সমস্যা। তবে চিন্তার কারণ নেই, সমাধানটা স্মরণেই আছে। ঘড়ি, বা কবজি, বা হাত, ডান হাত, ডান পা, ডান প্যাডেল—হুবহু সিঁড়িভাঙা অঙ্ক। 

হ্যান্ডেলে হাড়ি ঝুলিয়ে স্মৃতিবাবু ফের উঠলেন সাইকেলে। চলেছেন বাড়ির পথে। ধীরে, অতি ধীরে। আবার সেই চাকার অঙ্ক কষতে কষতে। বড়রাস্তা ছেড়ে ঢুকলেন ছোটরাস্তায়। তারপর কবজি দেখে দেখে একবার বায়ে, একবার ডাইনে, আবার বায়ে। অঙ্ক মাফিক পোঁছেও গেলেন বাড়ির দরজায়। যাক নিশ্চিন্ত, আজকের মতো গৃহ অভিযান শেষ। 

কিন্তু এ কী কাণ্ড, স্মৃতিধরের বাড়ির দরজায় এত বড় তালা ঝুলছে কেন? কোনও সাড়াশব্দও তো পাওয়া যাচ্ছে না কারোর? অথচ এইমাত্র নাড়ু বলল গিন্নি নাকি তার অপেক্ষায় আছেন! তালা আটকে ভেতরে কী করছে সবাই? টু শব্দটি না করে? এও কি হেঁয়ালি ? 

মুচকি হেসে স্মৃতিধর পকেট থেকে নিজের চাবিটি বার

করলেন। ঢুকিয়েছেন তালায়। আশ্চর্য খোলে না কেন? ভুল চাবি নিয়ে বেরিয়েছিলেন? নাকি দরজায় ভুল তালা ঝুলছে? নাহ, বোঝা যাচ্ছে না। আর কী হতে পারে? নিশ্চয়ই তিরিশ বছর ধরে যে বাড়িতে বাস করছেন, সেটি চিনতে তার ভুল হচ্ছে না?
তবু একবার রাস্তায় নেমে ভালো করে পর্যবেক্ষণ করলেন স্মৃতিধর। হ্যা, এই তো সেই একতলা বাড়ি! ওই তো সেই ছাতাপড়া দেওয়াল, বাড়িওয়ালা যেটা রং করে দিচ্ছে না। ওই তো তার ছাদ, যেখানে মাদুর পেতে শুয়ে রাত্তিরবেলা তিনি তারা গোনেন। তাহলে গণ্ডগোলটা কোথায়?

চকিতে নতুন এক চিন্তা মগজে পাক খেয়ে গেল। এমন নয় তো, গিন্ন আর ছেলেমেয়েরা তাঁর সঙ্গে লুকোচুরি খেলছে? সদরে প্রকান্ড তালা এঁটে খিড়কি দিয়ে অন্দরে ঢুকে আছে? পরখ করতে চায়, চালাকিটা স্মৃতিধর ধরতে পারেন কি না? হুঁহু বাবা, স্মৃতিধর রায়ের অঙ্ক কষা মস্তিষ্ককে ধোঁকা দেওয়া অত সহজ নয়!
পা টিপে টিপে স্মৃতিধর বাড়ির পিছনপানে গেলেন। নীচু গলায় বললেন, টুউকি!
জবাব নেই।
স্মৃতিধর সামান্য গলা ওঠালেন, টুকি!’
কোনও আওয়াজ এল না অন্দর থেকে।

এবার কেমন যেন সন্দেহ হল স্মৃতিধরের। সপ্তপর্ণে ঠেললেন খিড়কির দরজাটা। এ কী, এ যে ভেতর থেকে বন্ধ! বাড়ির লোকজন তবে আছে কী করে অন্দরে? কোনও একটা বাড়িতে ঢোকার দুটো মাত্র দরজা, একটা বাইরে থেকে বন্ধ, অন্যটা ভেতর থেকে আটকানো—এ তো বেশ জটিল অঙ্ক! একটা সমাধান আছে অবশ্য। একটাই। যদি বাড়ির লোক পাচিল টপকে. তাহলে তো স্মৃতিধরকেও পাঁচিল পেরোতে হয়। বাহান্ন বছর বয়সে পারবেন কি? 

না, হার মানতে স্মৃতিধর রায় রাজি নন। বুদ্ধির খেলায়, অঙ্কের প্যাঁচে, তাকে কেউ কাবু করবে, এ তো পারে না। হাত বাড়িয়ে পাঁচিলের মাথাটা ধরলেন স্মৃতিধর। দু-হাতের চাপে শরীরটাকে ওঠানোর চেষ্টা করছেন। একটুখানি উঠছেন, সঙ্গে সঙ্গে ঝপ্‌। নেমে আসছে অনভ্যস্ত দেহ। 

তখনই পিছনে এক বাজখাই গলা, অ্যাই, কে রে? কে রে?” 
ভীষণ ঘাবড়ে গিয়ে স্মৃতিধর ছেড়ে দিলেন পাঁচিল। ঘুরে তাকাতেই জাঁদরেল স্বর পলকে মোলায়েম, ‘ওমা, স্মৃতিবাবু যে! খামোখা বাড়ির পাঁচিল খামচাচ্ছেন কেন? 
স্মৃতিধর আমতা আমতা করে বললেন, ‘ঢুকতে পারছি না...’ 
‘আহা, বাড়িওয়ালাকে খবর দিলেই তো হয়। প্রতিবেশী সত্যরূপ কাছে এলেন, কিছু ফেলে-টেলে গেছেন নাকি?’ ‘ফেলাফেলির কী আছে? স্মৃতিধর দুম করে রেগে গেলেন, আমার বাড়িতে আমি ঢুকব না? 
‘সে কী মশাই, এ বাড়ি তো আপনি ছেড়ে দিয়েছেন। 
“মানে ?” 
মানে তো আপনি বলবেন। পশ্চিমপাড়ায় অত সুন্দর একটা বাড়ি বানিয়েছেন...পরশু আপনার নতুন বাড়িতে গৃহপ্ৰবেশ হল...কাল মালপত্র নিয়ে সবাই সেখানে চলে গেলেন... !’ 

হেঁয়ালিটা এতক্ষণে স্পষ্ট হল। নিজের ওপর চটতে গিয়েও স্মৃতিধর হেসে ফেললেন। আহা, কী এমন স্মরণশক্তি কমেছে তাঁর? এতদিনকার বাড়িটা চিনতে তো ভুল হয়নি। শুধু এখন কোথায় থাকছেন, সেটুকুই ভুলে গিয়েছিলেন, এই যা। 

ফের অঙ্ক কষে সাইকেলে চাপলেন স্মৃতিধর। ভারী বিনয়ী গলায় সত্যরূপবাবুকে জিজ্ঞেস করলেন, “আমার নতুন বাড়ির ঠিকানাটা কি আপনার কাছে আছে ভাই? যদি দয়া করে আমায় দ্যান..!’
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য