হাঁস-চরানো মেয়ে-- জার্মানের রূপকথা

এক সময় এক ৰুড়ি রানী ছিল । অনেক বছর আগে তার স্বামী পৃথিবী ছেড়ে চলে গিয়েছিল । রানীর ছিল সুন্দরী এক মেয়ে । বড়ো হবার সঙ্গে সঙ্গে তার রূপের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ল আর তার পর তার বিয়ের কথা পাকা হয়ে গেল এক রাজপুত্রের সঙ্গে । বিয়ের দিন এগিয়ে আসতে রাজ কণ্যার দিদেশে যাবার তোড়জোড় শুরু হয়ে গেল। যৌতুক হিসেবে বুড়ি রানী দিল দামী-দামী বহু আসবাবপত্র আর সোনা-রুপো-হীরে-পান্নার অনেক গয়না । কারণ মেয়েকে রানী খুব ভালোবাসত । রাজপুত্তুরের কাছে রাজকন্যেকে পৌছে দেবার জন্য রানী তার সঙ্গে দিল এক দাসী । সেই দাসী আর রাজকন্যে— দুজনকেই দেওয়া হল একটা করে ঘোড়া । রাজকন্যের ঘোড়ার নাম ফালাডা । সেটা কথা বলতে পারত !
যাত্রার সময় হয়ে গেলে বুড়ি রানী তার শোবার ঘরে গিয়ে ছোট্টো একটা ছুরি দিয়ে নিজের আঙুল কেটে রক্ত বার করল । তার পর সাদা ছোট্টো একটা রুমালে রক্তের ফোটা ফেলে মেয়েকে সেটা দিয়ে বলল, “বাছা, এই রক্তের ফোঁটাগুলো সাবধানে রেখো । পথে এগুলো তোমার কাজে লাগবে ।”

বিদায় নিয়ে রুমাল নিজের বুকের মধ্যে গুঁজে রাজকন্যে যাত্রা করল । ঘণটা খানেক যাবার পর তেষ্টায় গলা শুকিয়ে যেতে দাসীকে রাজকন্যে বলল, “ঘোড়া থেকে নেমে ঐ ঝর্না থেকে আমার নিজের পেয়ালায় জল নিয়ে এসো ।” 

দাসী বলল, “তেষ্টা পেয়ে থাকলে ঘোড়া থেকে ঝর্নার পাড়ে শুয়ে জল থাও গে যাও । আমি তোমার বাদী নই।” 

তেষ্টায় গলা কাঠ হয়ে গিয়েছিল বলে ঘোড়া থেকে নেমে ঝর্নার উপর ঝুঁকে রাজকন্যে জল খেল। সোনার পেয়ালায় জল খেতে তার ভরসা হল না । তার পর আপন মনে বলে উঠল, “হা ভগবান ।” তাই শুনে তিন ফোটা রক্ত উত্তর দিল, “ব্যাপারটা জানতে পারলে তোমার মায়ের হৃদয় ভেঙে যাবে ।” 

রাজকন্যে ছিল নিরহংকার”। তাই কোনো কথা না বলে আবার সে ঘোড়ায় চড়ল । আরো কয়েক মাইল যাবার পর আবার তার তেষ্টা পেল—কারণ দিনটা ছিল গরম আর রোদ্দুর কাঠ-ফাটা । সামনে একটা নদী পড়তে রাজকন্যে আবার তার দাসীকে বলল, “ঘোড়া থেকে নেমে আমার সোনার পেয়ালায় জল নিয়ে এসো।” দাসীর ক্যাঁটকেটেঁ কথাগুলো অনেক আগে সে ভুলে গিয়েছিল। কিন্তু আগের চেয়েও উদ্ধত গলায় দাসী বলল, “তেষ্টা পেয়ে থাকলে একলা গিয়ে খাও গে । আমি তোমার বাদী নই।” 

তে্ষ্টায় ছাতি ফেটে যাচ্ছিল বলে ঘোড়া থেকে নেমে নদীর স্রোতের উপর ঝুঁকে কাঁদতে-কাঁদতে রাজকন্যে বলল, “হা ভগবান" তার রক্তের ফোটাগুলো আবার উত্তর দিল, “ব্যাপারটা জানতে পারলে তোমার মায়ের হাদয় ভেঙে যাবে।” আর ঝুঁকে পড়ে জল খেতে গিয়ে রাজকন্যের বুকের ভিতর থেকে তিন ফোটা রক্তসমেত রুমালটা জলে পড়ে ভেসে গেল । রাজকন্যে টেরও পেল না । কিন্তু দাসী সব লক্ষ্য করছিল । রুমালটা ভেসে যেতে দেখে খুশি হয়ে দাসী ভাবল— যাক, কনেকে এবার মুঠোর মধ্যে পাব। কারণ রক্তের ফোঁটাগুলো হারাবার সঙ্গে সঙ্গে রাজকন্যে হয়ে পড়ল অসহায় আর দুর্বল। রাজকন্যে যখন ফালাডা নামে তার ঘোড়ায় চড়তে গেল, দাসী বলল, “ফালাডা আমার । আমার ছোট্টো ঘোড়াটায় ওঠো।” রাজকন্যে আপত্তি করতে পারল না । তার পর রাজকন্যেকে দাসী আদেশ দিল তার রানীর সাজ খুলে নিজের দাসীর পোশাকটা পরতে। সবশেষে রাজকন্যেকে দিয়ে দাসী ভগবানের নামে দিব্যি গালিয়ে নিল—যা সব ঘটেছে রাজসভায় ঘুণাক্ষরেও কোনো কথা সে জানাতে পারবে না । দাসী বলেছিল দিব্যি না গাললে সঙ্গে সঙ্গে তাকে মেরে ফেলবে । ফালাডা কিন্তু সবকিছু দেখল-শুনল আর মনে রাখল সবকিছু। 

তার পর ফালাডায় দাসী আর আসল কনে সাধারণ ঘোড়ায় চেপে পৌছল রাজপ্রাসাদে আর তারা পৌছবার পর সেখানে শুরু হয়ে গেল দারুণ আনন্দোৎসব । তাদের দিকে ছুটে গিয়ে আসল কনে ভেবে ঘোড়া থেকে দাসীকে নামাল রাজপুত্তুর । হাত ধরে সিঁড়ি দিয়ে দাসীকে তারা নিয়ে গেল উপরে আর আসল রাজকন্যে দাড়িয়ে রইল নীচের তলায় । বুড়ো রাজা জানলা থেকে দেখছিলেন । উঠোনে তিনি দেখলেন তাকে দাড়িয়ে থাকতে । তিনি আরো লক্ষ্য করলেন মেয়েটি ভারি রূপসী, নম্র আর লাজুক স্বভাবের । তাই তিনি রানীর খাসকামরায় গিয়ে কনেকে প্রশ্ন করলেন—তার সঙ্গে যে এসেছে আর উঠোনে দাঁড়িয়ে রয়েছে, সে মেয়েটি কে ? 

দাসী বলল, “সঙ্গী হিসেবে পথে ওকে আমি জোগাড় করেছিলাম । ঝি টাকে কাজটাজ দিন। চুপচাপ বসিয়ে রাখবেন না।” 

কিন্তু তাকে দেবার মতো কাজ বুড়ো রাজার হাতে ছিল না । তাই তিনি বললেন, “আমার কাছে একটা বাচ্চা ছেলে আছে । সে হাঁস চরিয়ে বেড়ায় । মেয়েটি তাকে সাহায্য করতে পারে ।” বাচ্চা ছেলেটির নাম কনরাড। আসল কনে তাকে হাঁস চরাতে সাহায্য করতে লাগল । 

অল্পদিন পরেই কিন্তু নকল কনে রাজপুত্তুরকে বলল, “আমার একটা কথা রাখবে ?” 
রাজপুত্তর বলল, “নিশ্চয়ই । কী কথা, বলো ।” 
দাসী বলল, “যে-ঘোড়ায় চড়ে এসেছি, কসাইকে বলো সেটার গলা কাটতে । পথে ঘোড়াটা আমাকে জালিয়ে মেরেছে ।” আসলে কিন্তু সে ভয় পেয়েছিল—ঘোড়াটা সব কথা ফাস করে দিতে পারে। 
আসল রাজকন্যে শুনল প্রভুভক্ত ফালাডাকে মেরে ফেলা হবে । শহরে একটা অন্ধকার প্রকাণ্ড তোরণ ছিল । প্রতিদিন সকাল-সন্ধেয় হাঁস নিয়ে সেই তোরণের মধ্যে দিয়ে তাকে যেতে হত । চুপি চুপি কসাইকে গিয়ে সে বলল, “ঐ তোরণে পেরেক দিয়ে ফালাডার মাথাটা গেথে দিলে মাঝে মাঝে সেটাকে আমি দেখতে, পাব । আমার জন্যে এই সামান্য কাজটা করলে তোমায় একটা মোহর দেব।” আসল রাজকন্যের কথামতো কসাই কাজ করল । 

খুব ভোরে সে আর কনরাড তোরণের মধ্যে দিয়ে যাবার সময় আসল রাজকন্যে বলে উঠল, “হায় ফালাড়া ! হায় ফালাডা ” সঙ্গে সঙ্গে ঘোড়ার মাথাটা উত্তর দিল :
“হায় রাজকন্যে ! হায় রাজকন্যে ।
তোমার মা জানতে পারলে 
নিশ্চয়ই তাঁর বুক ফেটে যেত ।”


তার পর চুপচাপ কনরাডের সঙ্গে শহরের বাইরে হাঁস তাড়িয়ে নিয়ে গিয়ে তারা পৌছল ঘাসে-ঢাকা বড়ো মাঠে । সেখানে বসে-বসে

আসল রাজকন্যে আঁচড়াতে লাগল তার সোনালী চুল। আর তার ঝকঝকে সুন্দর চুল দেখে ভারি খুশি হয়ে কনরাড বলল কয়েক গোছা ভুল সে ছিড়ে নেবে। কনরাডের কথা শুনে আসল রাজকন্যে বলে উঠল : 

“বাতাস, তুমি উড়িয়ে নিয়ে যাও 
কনরাডের টুপি । 
ছুটুক সে তার পেছনে 
যতক্ষণ-না আমার 
চুল আঁচড়ানো আর চুল বাঁধা 
শেষ হয় ।” 

তার কথার সঙ্গে সঙ্গে একটা দমকা বাতাস এসে মাঠের মধ্যে উড়িয়ে নিয়ে চলল কনরাডের টুপি ৷ যতক্ষণে টুপিটা নিয়ে সে ফিরল ততক্ষণে আসল রাজকন্যের চুল বাঁধা শেষ হয়েছে । তাই সে রাজকন্যের একগাছা চুলও ধরতে পারল না । তার উপর বেজায় চটে কনরাড কথা বন্ধ করে দিলে । আর তার পর সারাদিন হাঁস চরিয়ে সন্ধেয় তারা বাড়ি ফিরল ।

পরদিন সেই অন্ধকার তোরণের মধ্যে দিয়ে যাবার সময় আসল রাজকন্যে আবার বলে উঠল, “হায় ফালাডা ! হায় ফালাডা !” 

আর সঙ্গে সঙ্গে ঘোড়ার মাথাটা উত্তর দিল । 

“হায় রাজকন্যে । হায় রাজকন্যে ! 
তোমার মা জানতে পারলে 
নিশ্চয়ই তার বুক ফেটে যেত।” 

আবার আসল রাজকন্যে ঘাসে-ঢাকা মাঠে বসে-বসে আঁচড়াতে লাগল তার সোনালী চুল আর কনরাড চাইল কয়েক গোছা চুল ছিড়ে নিতে । সঙ্গে সঙ্গে আসল রাজকন্যে আবার বলে উঠল : 

“বাতাস তুমি উড়িয়ে নিয়ে যাও 
কনরাডের টুপি । 
ছুটুক সে তার পেছনে 
যতক্ষণ-না আমার 
চুল আঁচড়ানো আর চুল বাঁধা 
শেষ হয় ।” 

আবার তার কথার সঙ্গে সঙ্গে একটা দমকা বাতাস এসে মাঠের মধ্যে উড়িয়ে নিয়ে চলল কনরাডের টুপি । আর টুপি নিয়ে সে যখন ফিরল তার অনেক আগেই আসল রাজকন্যের চুল বাঁধা শেষ হয়েছে । 

সন্ধেয় বাড়ি ফিরে বুড়ো রাজার কাছে গিয়ে কনরাড বলল, “ঐ মেয়েটার সঙ্গে আমি আর হাঁস চরাতে যাব না।” 

বুড়ো রাজা প্রশ্ন করলেন, “কেন ?" 
“সারাদিন মেয়েটা আমার পেছনে লাগে ৷” 
বুড়ো রাজা তাকে বললেন সব কথা খুলে বলতে । 
কনরাড বলল, “রোজ সকালে অন্ধকার তোরণের মধ্যে দিয়ে হাঁস নিয়ে যাবার সময় দেয়ালে আটকানো ঘোড়ার মাথাটাকে সে বলে, হায় ফালাডা ! হায় ফালাডা !” আর সঙ্গে সঙ্গে সেটা উত্তর দেয় : 

হায় রাজকন্যে ! হায় রাজকনো ! 
তোমার মা জানতে পারলে 
নিশ্চয়ই তার বুক ফেটে যেত ” 

তার পর কনরাড বলল, ঘাসে-ঢাকা মাঠে রোজ তাকে কীভাবে ছুটতে হয় তার উড়ন্ত টুপিটার পিছন-পিছন ।

বুড়ো রাজা কনরাডকে বললেন পরদিন সকালে আবার হাঁস চরাতে বেরুতে আর নিজে গিয়ে লুকিয়ে রইলেন অন্ধকার তোরণের মধ্যে । নিজের কানে তিনি শুনলেন আসল রাজকন্যে আর ফালাডার মাথার কথাবার্তা। তার পর সেই ঘাস-ঢাকা মাঠে গিয়ে তিনি লুকোলেন এক ঝোপের পিছনে আর স্বচক্ষে দেখলেন আসল রাজকন্যেকে সেখানে বসে তার সোনালী চুল আঁচড়াতে আর শুনলেন তাকে বলতে : 

“বাতাস তুমি উড়িয়ে নিয়ে যাও 
কনরাডের টুপি । 
ছুটুক সে তার পেছনে 
যতক্ষণ-না অামার 
চুল আঁচড়ানো আর চুল বাঁধা 
শেষ হয় ।” 

আর দেখলেন তার কথার সঙ্গে সঙ্গে একটা দমকা বাতাস এসে মাঠের মধ্যে টুপিটা উড়িয়ে নিয়ে যেতে আর রাজকন্যেকে তার সুন্দর সোনালী চুল বিনুনি করে বাঁধতে ।

সবকিছুই বুড়ো রাজা স্বচক্ষে দেখলেন, স্বকৰ্ণে শুনলেন। তার পর চুপি চুপি ফিরে পেলেন রাজপ্রাসাদে । আর সন্ধেয় হাঁস-চরানো মেয়ে বাড়ি ফিরলে তাকে প্রশ্ন করলেন—এ-সব সে করেছে কেন ?

আসল রাজকন্যে বলল, “সে কথা আপনাকে বলতে পারব না। কারুর কাছে নিজের দুঃখের কথা বলব না বলে ভগবানের নামে আমাকে দিব্যি করতে হয়েছে । তা না করলে আমাকে মরতে হত ।” 

কারণটা শোনার জন্য রাজা তাকে অনেক অনুরোধ-উপরোধ করলেন । কিন্তু আসল রাজকন্যের মুখ থেকে একটি কথাও বার করতে পারলেন না । রাজা তখন বললেন, “বেশ, আমাকে না বলবে তো বোলো না । তোমার দুঃখের কথা লোহার ঐ উনুনটাকে বলো ।” 

রাজার কথা মতো লোহার উনুনের কাছে গিয়ে কাঁদতে-কাঁদতে আসল রাজকন্যে বলে চলল, “সবাই আমাকে ছেড়ে গেছে । কিন্তু আমি এক রাজার মেয়ে । দাসী জোর করে আমার রানীর পোশাক খুলে নিয়ে নকল কনে সেজেছে আর আমাকে হচ্ছে ঝিয়ের মতো হাঁস চরাতে। মা জানলে শোকে-দুঃখে তার বুক ফেটে যাবে।” 

লোহার উনুনটার পিছনে দাঁড়িয়ে বুড়ো রাজা সব কথা শুনলেন । তার পর বেরিয়ে এসে দাসীদের দিয়ে তাকে পরালেন রানীর সাজপোশাক । আসল রাজকন্যের রূপ তখন ষেন ফেটে পড়ল । বুড়ো রাজা তখন ছেলেকে ডেকে বললেন, সে যাকে কনে বলে মনে করেছে আসলে সে দাসী আর হাঁস-চরানো মেয়েটিই হচ্ছে আসল রাজকন্যে । 

আসল রাজকন্যর রূপে আর নম্র স্বভাবে মুগ্ধ হল রাজপুত্তুর । তার পর আয়োজন করা হল এক বিরাট ভোজসভার। সেখানে এল অনেক অতিথি-অভ্যাগত আর বন্ধুর দল। রাজপুত্তুরের এক পাশে বসল আসল রাজকন্যে, অন্য পাশে দাসী । আসল রাজকন্যেকে দেখে দাসীর চোখ ধাঁধিয়ে গেল কিন্তু রানীর সাজ-পোশাকের দরুন তাকে সে চিনতে পারল না ।

খাওয়া-দাওয়ার পর বুড়ো রাজা দাসীকে বললেন, “তোমাকে একটা ধাঁধা বলছি । কী উত্তর দেবে, শুনি । এক সময় এক রাজকন্যে ছিল আর তার ছিল এক দাসী । রাজকন্যে বিয়ে করার জন্য যাত্রা করলে পথে সেই দাসী নানাভাবে ভয় দেখিয়ে সেই রাজকন্যের সাজ-পোশাক পরে নিজে সাজে নকল কনে।” সব কাহিনী শুনিয়ে দাসীকে বুড়ো রাজা প্রশ্ন করলেন, “এখন বলো, সেই দাসীর কী শাস্তি হওয়া উচিত ।” 

নকল কনে বলল, “সাজ-পোশাক খুলে তাকে ছুঁচলো পেরেক লাগানো পিপেয় ভরে দুটো সাদা ঘোড়া দিয়ে পিপেটা পথে-পথে ছেঁচড়ে নিয়ে যাওয়া দরকার—যতক্ষণ-না সে মরে ।”

 বুড়ো রাজা বললেন, “নিজের শাস্তির ব্যবস্থা নিজেই তুমি করেছ। তোমাকে নিয়ে তাই করা হবে ।”
এইভাবে দাসী মরল আর আসল রাজকন্যকে বিয়ে করে রাজপুত্তুর মনের আনন্দে চলল রাজ্য শাসন করে ।


Previous
Next Post »
0 মন্তব্য