অদ্ভূত বিচার -- মোল্লা নাসিরউদ্দিন

স্থানীয় বিচারালয়ের কাজীর পদটি নেবার জন্ত বাদশা বহুবার মোল্লা সাহেবকে অনুরোধ জানাচ্ছেন । কিন্তু নাসিরউদ্দিনের বক্তব্য— কাজীর পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সম্বন্ধে অভিজ্ঞতা চাই।
বেশ তো, তুমি বর্তমান কাজীর দরবারে বসে কিছুটা অভিজ্ঞতা অর্জন কর।’
অগত্য কাজীর এজলাসে গিয়ে বসেন নাসিরউদ্দিন ।
প্রথম দিনের ঘটনা । একজন চাষী এসে অভিযোগ করলো, ‘ধর্মাবতার, দুটো ষাঁড়ের মারামারিতে যদি কোনো একটা ষাঁড় মারা যায়, তাহলে ক্ষতিপূরণ দেবার নিয়ম আছে কি ?
—‘নিশ্চয়ই, কাজী সাহেবের জবাব। তবে প্রথমে জানা দরকার নিহত গরুটা কার। গরীব চাষীর, না কোনো ধনী লোকের । যদি নিহত গরুর মালিক তোমার মত কোনো গরীব চাষীর হয়, তবে তুমি জ্যান্ত ষাঁড়ের মালিককে দেবে একটি মুদ্রা।
নাসিরউদ্দিন এহেন অদ্ভুত বিচার দেখে আর থাকতে পারলেন না। উঠে দাঁড়িয়ে বিচারককে জিগ্যেস করেন—“ধনীর ষাঁড় গরীবের ষাঁড়কে মারলে,—তার জন্য উল্টো গরীব লোকটা ধনীকে জরিমানার মুদ্রা দেবে কেন ?
বাঃ রে,—ভাবুন তো দেখি ঐ ষাঁড়টাকে মারার জন্য ধনীব্যক্তির ষাঁড়টিকে কতখানি শক্তিক্ষয় করতে হয়েছে। ঐ শক্তিক্ষয়ের জন্য আরো কত ঘাস বিচালি খেতে হবে গরুটাকে । তাই তো এই জরিমানা !’
নাসিরউদ্দিন কাজীর এহেন বিচারের প্রতিবাদে তৎক্ষণাৎ উঠে গিয়ে খোদ কাজী সাহেবের গালে কষে এক চড় লাগালেন। বললেন, "কাজী সাহেব, দিন আমাকে দশ মুদ্রা, এক্ষুনি!'
হতভম্ব কাজী তোতলাতে তোতলাতে বলেন- দশ মুদ্রা আমি দেবে কেন ?
বাঃ রে, গরু গরুকে মারলে শক্তিক্ষয়ের জন্য যদি একমুদ্রা জরিমান পায়, তাহলে মানুষ মানুষকে মেরে যে-শক্তিক্ষয় করলো, তার জন্য দশ মুদ্রা তো যথেষ্টই কম, সাহেব !’
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য