সাতটা ঘোড়া-- নরওয়র রূপকথা

কতদিন আগের গল্প এটা তা ঠিকমতো আমিও জানি না। তবে অনেক দিন আগের কাহিনী। যখন জাদু করত লোকে, পশুপাখিরা কথা বলত, আর আজগুবি আজগুবি ঘটনা ঘটত গল্পে— সে যুগের গল্প এটা।
এক গ্রামে বাস করত এক বুড়ো-বুড়ি। ভারি গরিব তারা। একবেলা খায় তো, আরেকবেলা উপোস থাকে। পরনে তাদের শতচ্ছিন্ন জামাকাপড়। তাদের ছিল তিন ছেলে। তারা কাজ খুঁজে খুঁজে হয়রান। কাজ পেত না তাই অভাবও ঘুচত না ।
বড় ছেলেটি প্রতিদিন ঘর থেকে বেরিয়ে যেত। সারাদিন কাজ খুঁজত । সন্ধ্যাবেলা নিরাশ হয়ে ঘরে ফিরত । মেজো ছেলেটি বনে যেত। পাখি শিকারের জন্য হাওরে-বাওড়ে ঘুরে বেড়াত সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত । কাজ হত না কিছুই ।
ছোটটি ছিল বেশ ছোট। সে সারাদিন ঘরের মধ্যে বসে থাকত। আর চুলোর সামনে বসে বসে আগুন নিয়ে খেলা করত। আগুনের উত্তাপ ভালোবাসত সে ।
এইভাবে কষ্টে কষ্টে দিনগুলো কেটে যাচ্ছে । একদিন সকালের নাশতা খেতে না পেয়ে বড়ভাইয়ের মনটা বড়ই খারাপ হয়ে গেল। এইভাবে জীবন চলতে পারে না ।
জেদ করে বুড়োবুড়ির কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সে বেরিয়ে পড়ল ঘর থেকে । কাজের সন্ধান তাকে করতেই হবে। নিজের ভাগ্য নিজেকেই গড়ে নিতে হবে ।
ঘুরতে ঘুরতে গ্রাম ছাড়িয়ে সে এসে পৌছাল শহরে। খুঁজে বের করল সে রাজপ্রাসাদ । তারপর দেখা করল রাজার সঙ্গে | রাজা তাকে জিগ্যেস করলেন :
‘কী চাই তোমার?
আমরা খুব গরিব । একটা কাজের দরকার আমার । যে কোনো ধরনের একটা কাজ হলেই চলবে ।’
রাজা বললেন, আমার সাতটা সুন্দর ঘোড়া আছে। তুমি যদি একদিন আমার ঘোড়াদের সাথে থাকতে পার, ঘোড়াগুলো কোথায় যায়, কী করে, কী খায় এসব দেখতে পার তাহলেই তোমার চাকরি হয়ে যাবে রাজপ্রাসাদে। যদি সারাদিনের সঠিক তথ্য সন্ধ্যাবেলায় আমাকে দিতে পার তবে তবে আমি রাজকন্যের সঙ্গে বিয়ে দেব তোমার। আর অর্ধেক রাজত্ব পাবে তুমি । আর যদি কাজটা না পার তবে চাবুক মেরে তোমার পিঠের চামড়া তুলে নেয়া হবে। এতে কি তুমি রাজি?
বড় ছেলেটি ভাবল, এ আর এমন কঠিন কী কাজ? সে রাজি হল । পরদিন সকালবেলা তার কাজের শুরু । আস্তাবল থেকে সাতটি ঘোড়াকে ছেড়ে দেয়া হল । যেই না ছেড়ে দেয়া অমনি ঘোড়া সাতটা টগবগ টগবগ করে
ছুটতে শুরু করল।
হায় রে ছোটা!
ধুলো উড়িয়ে নিমেষেই ওরা শহর ছাড়িয়ে ছুটতে লাগল ফাঁকা মাঠ ধরে। ছেলেটিও ছোটা শুরু করল ঘোড়াদের সঙ্গে। ছুটে কি পারা যায়! কিছুক্ষণ পরেই ছেলেটি হাঁপিয়ে উঠল। ক্লান্তিতে জিভ বেরিয়ে গেল তার। আমনি দেখে, সামনে এক পাহাড়। সেখানে এক গুহায় বসে রয়েছে শনের মতো সাদা চুলের এক বুড়ি । গায়ের চামড়া কুঞ্চিত । কোটরে বসা দু-চোখ বুড়ি হাত নেড়ে নেড়ে ছেলেটিকে ডাকল ।
আহা আমার সোনার ছেলে, ছুটতে ছুটতে একেবারে হাঁপিয়ে উঠেছে। এস ভাই, এস। আমার এখানে বসে একটু জিরিয়ে নাও । পানি খাও । আর ওইভাবে ঘোড়ার পিছনে ছোটার কী দরকার! সন্ধ্যা পর্যন্ত এখানে বসে জিরোও । ঘোড়াগুলো ফিরবে যখন এই পথ দিয়ে তখন তুমি না হয় ওদের সঙ্গেই ফিরে যাবে '

ছেলেটি বলল, কিন্তু ঘোড়াদের সঙ্গে আমার কাজ রয়েছে যে! 
‘কী আর এমন কাজ? 
‘আমাকে জানাতে হবে ঘোড়াগুলো সারাদিন কী খায়।’ 
বুড়ি ফোকলা মুখে হাসতে হাসতে বলল, “এ আর এমন কঠিন কী কাজ! সে আমি বলে দেব ?
ছেলেটি ভাবল, তাহলে আর মিছামিছি কষ্ট করা কেন! সে গিয়ে গুহার এককোণে আরাম করে বসল। ছুটতে ছুটতে তার জান পেরেশান হয়ে গেছে। 
বুড়ি বলল, তুমি নিশ্চিন্ত মনে বিশ্রাম নিতে থাক। সন্ধ্যাবেলা ঘোড়াগুলো এই পথ দিয়েই ফিরবে। তখন তুমিও ওদের সঙ্গে ফিরে যাবে।'
‘তোমাকে কিন্তু বলে দিতে হবে ঘোড়াগুলো সারাদিনে কী খায়! নইলে কিন্তু আমার পিঠের চামড়া তুলে নেয়া হবে।’
‘সে ভাবনা তোমার নয়। আমি ঠিকঠিক তোমাকে বলে দেব | ছেলেটি মহাখুশি । শরীর এলিয়ে দিয়ে সে পরম নিশ্চিন্তে শুয়ে পড়ল। সন্ধ্যার আবিরমাখা আকাশ যখন লাল হয়ে উঠল তখন ঘোড়াগুলো ফিরে এল। 
বুড়ি জানাল, ‘এখন তুমি ফিরে যাও । রাজা যখন জিগ্যেস করবেন ঘোড়াগুলো কী খেয়েছে তখন তুমি বলবে, সারাদিন ওরা শ্যাওলা আর পানি খেয়েছে।”
ঘোড়াগুলোর সঙ্গে আবার ছুটতে ছুটতে ছেলেটি ফিরে এল রাজপ্রাসাদে । রাজা জিগ্যেস করলেন, "ওহে যুবক, সারাদিন ঠিকমতো দেখাশুনা করেছিলে তো ঘোড়াগুলো?
জি, জাঁহাপনা।’ বল দেখি, ওরা সারাদিন কী খেয়েছে? 
‘রাজামশাই, ওরা শ্যাওলা খেয়েছে।’ 
রাজা বুঝতে পারলেন, ছেলেটি মিথ্যে বলছে। কারণ এই ঘোড়ারা কখনই শ্যাওলা খাবে না । -
রাজা হুকুম দিলেন, ‘এই মিথ্যুকটার পিঠে চাবুক মার।’ পিঠে চাবুকের দগদগে ঘা নিয়ে ছেলেটি মাথা নিচু করে ফিরে গেল নিজের বাড়িতে |
সব ঘটনা মেজো ছেলে শুনে বলল, “আমি যাব রাজপ্রাসাদে । তার বুড়ো বাবা-মা রাজি হতে চান না। কিন্তু ছেলেটি নাছোড় । সে যাবেই । রাজপ্রাসাদে রাজার সঙ্গে দেখা করল । রাজা তাকেও সেই ঘোড়া দেখাশুনার কাজ দিলেন ।

সাতটা ঘোড়াকে মাত্র একদিন দেখাশুনা করতে হবে। সারাদিন তারা কী কী খায় বলতে পারলে অর্ধেক রাজত্ব দেয়া হবে আর রাজকন্যার সঙ্গে বিয়ে হবে। যদি না পার তবে চাবুকের বাড়ি।’
মেজো ছেলে সানন্দে রাজি হল এই প্রস্তাবে । পরদিন সকালে। আকাশ আলো করে যখন সূর্য উঠল তখন সাতটা অবাধ্য ঘোড়ার পিছনে ছুটতে লাগল মেজো ছেলে। ছুটতে ছুটতে তারও যায় যায় অবস্থা । হাট পেরিয়ে মাঠ পেরিয়ে শহর ছাড়িয়ে সেই পাহাড়ের পাশে গিয়ে যখন ঘোড়াগুলো যাচ্ছে তখন দেখা হল সেই ফোকলা দাঁতের থুথুরে বুড়ির সঙ্গে ।ক্লান্ত-শ্রান্ত মেজো ছেলে বিশ্রাম নেয়ার লোভে বুড়ির কাছেই কাটিয়ে দিল সারাদিন। সন্ধ্যাবেলায় ঘোড়াগুলো যখন ফিরে এল বুড়ি তখন একমুঠো শ্যাওলা দিয়ে বলল, রাজা যখন জিগ্যেস করবেন ঘোড়াগুলো কী খেয়েছে তখন তুমি এগুলো দেখিও ’
মেজো ছেলে আনন্দে ফিরে এল। কিন্তু রাজামশাই দু-একটা প্রশ্ন করেই বুঝে গেলেন এই ছেলেটাও মিথ্যে বলছে। বড় ভাইয়ের মতো তাকেও বরাদ্দ করা হল চাবুকের তিন ঘা ৷
পিঠে চাবুকের দাগ নিয়ে মেজো ছেলেও ফিরে এল ব্যর্থ হয়ে । কাজ জুটল না। সংসারের অভাবও ঘুচল না। তখন ছোট্ট ছেলেটি বলল, সে একবার চেষ্টা করে দেখতে চায় |
বুড়ো-বুড়ি বললেন, না, আর কোনো দরকার নেই। শুধু শুধু তুমি গিয়ে কষ্ট করবে কেন?’
বড় দুইভাইও রাজি নয়। ছোটভাইয়ের যাওয়ার কোনো মানেই নেই। তারা হাসতে হাসতে বলল, হাতি ঘোড়া গেল তল; মশা বলে কত জল । আমরাই কিছু করতে পারলাম না। আর তুমি তো কোন ছার! তার চেয়ে বরং খেলাধুলা কর গে, তাতেই তোমাকে মানাবে ভালো।’
কিন্তু ছোটভাই নাছোড়বান্দা। তার জেদ চেপে গেল। কাউকে কিছু না বলে একদিন সে চুপিচুপি রাজপ্রাসাদের উদ্দেশে যাত্রা করল।
রাজার সঙ্গে দেখাও হল তার। রাজা যখন শুনলেন আগের দু-জনের ছোটভাই সে, তখন কিছুতেই তার চাকরি হয় না। বড় দুইজনই পারেনি। ছোটটা পারবে কী করে? কিন্তু ছেলেটি খুবই একগুঁয়ে আর নাছোড়বান্দা। রাজার কাছে সে বারবার মিনতি করল, আমি একবারের জন্য চেষ্টা করতে চাই। আমাকে যদি একটু সুযোগ দেয়া হয় তবেই নিজেকে ধন্য মনে করব।”

রাজা রাজি হলেন কিন্তু শর্তগুলো বুঝিয়ে দিলেন বারবার। পরদিন ভোরে সূর্য যখন উঠিউঠি— ঘোড়াগুলোকে ছেড়ে দেয়া হল আস্তাবল থেকে। অমনি ঘোড়াগুলো দারুণ বেগে টগবগিয়ে ছুটতে শুরু করল। জেদি ছোটভাইও জানপ্রাণ দিয়ে ছুটতে লাগল ঘোড়ার পেছনে পেছনে। ঘোড়াগুলো যেন তার চোখের আড়াল না হয় এই তার ব্ৰত ।
ঘোড়া ছুটছে। ছেলেটিও ছুটছে। ছুটতে ছুটতে একসময় এল সেই পাহাড়ের পাশে, গুহায় বসে বুড়ি তখনও চরকা কাটছে। বুড়ি ছেলেটিকে দেখতে পেয়েই আদর করে কাছে ডাকল। কিন্তু ছোটভাইয়ের সে সব শোনার সময় কোথায়? ক্লান্তিতে পা জড়িয়ে এলেও থামল না সে একমুহূর্ত।
বুড়ির কথা কানেই ধরল না তার। বরং সে একটা ঘোড়ার লেজ ধরে ছুটতেই লাগল।
কিন্তু এই ছোটার কি শেষ হবে না? কত পথ মাঠ ঘাট পেরিয়ে, পাহাড়-বন অরণ্য ছাড়িয়ে ঘোড়াগুলো ছুটেই চলেছে। বড় একটা পাহাড় পেরিয়ে যেতেই সবচেয়ে ছোট্ট ঘোড়াটা ছেলেটিকে বলল, আমাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আর কত ছুটবে? এরচেয়ে বরং এস আমার পিঠে বস ’ ছোটভাই খুশি হয়ে ঘোড়ার পিঠে চেপে বসল। এখন আর ভাবনা কী! সাতটি ঘোড়া ছুটে চলেছে ধুলোর ঝড় উড়িয়ে। চিলচিলে নদীর মতো বিছানো সরু পথ পথ যেন আর ফুরায় না। যেতে যেতে যেতে—
ছোট্ট ঘোড়াটি ছোটভাইকে শুধাল, সামনে কিছু দেখতে পাচ্ছ? ছোটভাই বলল, 'না, তেমন কিছু তো দেখতে পাচ্ছি না!
হ্যাঁ, বিরাট একটা গাছ দেখতে পাচ্ছি।’ ঠিক । সেই গাছটার ভেতরেই এবার আমরা ঢুকব।' গাছটার সামনে এসে বড় ঘোড়াটা দাঁড়াল। তারপর চিঁহি চিঁহি করে দুটো ডাক দিতেই গাছটা নড়েচড়ে উঠল । কী আশ্চর্য! দেখা গেল, গাছের ভেতরে ঢোকার একটা দরজা রয়েছে। কারুকাজ করা সুন্দর একটি দরজা। সেই দরজা দিয়ে ঘোড়াগুলো অনায়াসে ভেতরে ঢুকে গেল ! ঢুকতেই দেখল, একটা বিরাট বড় ঘর। সেই ঘরের এককোণে পড়ে আছে একটা ঝা চকচকে তলোয়ার আর একটা সোনার কলসি।

ছোট্ট ঘোড়াটা ছোটভাইকে তখন বলল, মাটি থেকে এই তলোয়ারটা তুলে তোমার কাছে রাখ ।
ছোটভাই তলোয়ারটা তোলার অনেক চেষ্টা করল। কিন্তু কাজ হল না। তলোয়ারটা ভীষণ ভারী। তখন ঘোড়াটা বলল, ‘সোনার কলসিতে পানি আছে, তুমি সেই পানি খেয়ে নাও। তাহলে অনেক শক্তি হবে, তখন অনায়াসে তলোয়ারটা ওঠাতে পারবে।’
সত্যি সত্যি তাই হল । ছোটভাই তলোয়ারটা নিজের কাছে রাখল। তখন সবচেয়ে বড় ঘোড়াটা বলল, তুমিই পারবে আমাদের উদ্ধার করতে। এই তলোয়ারটা খুব যত্নে রাখবে নিজের কাছে। তোমার সঙ্গে যখন রাজকন্যার বিয়ে হবে তখন তুমি আমাদের সাতটি ঘোড়ার মাথা কেটে ফেলবে। তারপর সাতটি মাথাই আবার সাতজনের গলার পাশে ঠিক ঠিক রেখে দিতে হবে। তবেই আমরা মুক্তি পাব জাদুকরের মায়াজাল থেকে। আমরা আসলে কিন্তু ঘোড়া নই। আমরা সাতজন রাজপুত্র। এক জাদুকরের অভিশাপে আমাদের এই অবস্থা। চল এবার, আমরা কী খাই সেটা তোমাকে দেখিয়ে নিয়ে আসি ৷”
তারপর সাতটা ঘোড়াই ছুটতে লাগল বেদম বেগে । ছুটতে ছুটতে তারা এল পাহাড়ঘেড়া ছোট্ট গির্জার কাছে। গির্জার ভেতরে ঢুকতেই ঘোড়াগুলো মিলিয়ে গেল। পরিণত হল সাতটি সুন্দর রাজপুত্রে।
ছোট ভাইটিও ওদের সঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করল। একজন বৃদ্ধ পাদ্রি এলেন। হাতে তার রুটি আর মদ । তিনি রাজপুত্রদেরকে তাই খেতে দিলেন। ছোটভাইও একটুকরো রুটি আর একপাত্র মদ নিয়ে রাজপুত্রদের সঙ্গে খাওয়াদাওয়া করল। তারা একটু-আধটু গল্পগুজবও করল।
এখন ফেরার সময় | রাজপুত্ররা গির্জার সীমানা পেরুতেই আবার রূপান্তরিত হল সাতটি ঘোড়ায়। ছোটভাই সবচেয়ে ছোট্ট ঘোড়ার পিঠে চাপল । এবার সাতটি ঘোড়া ছুটে চলল বাতাসের বেগে ৷ পাহাড়-নদী-বন পেরিয়ে ঘোড়াগুলো নিমেষেই যেন সেই পাহাড়ের গুহার কাছে এসে পড়ল। ফোকলাবুড়ি তখনও সেখানে চরকা কাটছে। ছোটভাইটিকে দেখে বুড়ি রাগ করে কী যেন বলল। কিন্তু সেদিকে কান দেবার কোনোই সময় নেই কারও ৷
রাজপ্রাসাদে ফিরতেই রাজা ছোটভাইকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘ঘোড়াগুলো সারাদিন কী কী খেয়েছে?’
ছোট ভাই তখন একটুকরো রুটি আর মদের পাত্র দেখাল ।
রাজা টের পেলেন, এই সেই যোগ্য ছেলে । তিনি তখন খুশিতে আত্মহারা।
ধুমধামে বিয়ে হল তার। কিন্তু ছোটভাইটি ভুলে যায়নি ঘোড়াদের কথা। বিয়ের রাতেই তলোয়ার হাতে নিয়ে সে গেল আস্তাবলে । তারপর একেক কোপে ঘোড়াগুলোর মাথা কেটে ঠিকভাবে সাজিয়ে রাখল প্রত্যেকের শরীরের পাশে । কিছুক্ষণেই ঘোড়াগুলোর বদলে সাতজন অনিন্দ্যসুন্দর রাজপুত্র তাদের রূপ ফিরে পেল। সাত ছেলেকে ফিরে পেয়ে রাজা-রাণী খুশিতে প্রায় আত্মহারা হয়ে গেলেন। রাজ্য জুড়ে আনন্দের বন্যা বয়ে গেল। রাজকন্যাও ভাইদের ফিরে পেয়ে মহাখুশি । আনন্দে সে একবার হাসে। একবার কাঁদে । আর ছোট ছেলেটিকে সে মহা ভালোবেসে ফেলল।
রাজা অর্ধেক রাজত্ব দিলেন ছেলেটিকে ।
ছেলেটি তখন খুশিতে প্রায় মূৰ্ছা যায়। তার বুড়ো বাবা-মা আর দুইভাইকে নিয়ে এল রাজপ্রাসাদে ।
তারপর শুরু হল সুখের জীবন।
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য