লামা ভিক্ষুর ভৃত্য -- তিব্বতের লোককাহিনী

তিব্বতের নির্জন একটি পাহাড়ের উপর থাকত এক বুড়ো লামা। " তিনি ধর্ম-সাধনা করে পবিত্র জীবনযাপন করতেন। তাকে দেখাশোনা করার জন্য গরিব ঘরের এক তরুণ পরিচর্যাকারী ছিল । সে লামার জন্য রান্নাবান্না ও অন্যান্য কাজ করত। সে ছিল আমুদে স্বভাবের এবং রসিকতা পছন্দ করত। কিন্তু তার উপর কোনো কাজ দিয়ে নির্ভর করা যেত না এবং নিয়মিত কাজগুলো সে ঠিকমতো করতে পারত না। সব উল্টোপাল্টা করে দিত ।
লামা ছিলেন স্বল্পাহারী । খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে ধর্মীয় বিধি-নিষেধ কঠোরভাবে মেনে চলতেন। প্রাণিহত্যা করে মাছ-মাংস তিনি কখনো খেতেন না। কাজেই তিনি ময়দা-বালি ও মাখন দিয়ে আহার শেষ করতেন। কোনো রকম মাংস খেতেন না। কিন্তু তার এই জীবনযাপন তার পরিচর্যাকারী একটুও পছন্দ করত না।
লামা ভিক্ষুর খাবার তার মুখে রুচত না। প্রতিদিন মাংস খেতে ইচ্ছে করে তার। তাই সে প্রতিদিন লামা ভিক্ষুকে প্ররোচিত করত তাকে ভেড়া বা ছাগল মেরে মাংস রান্না করার অনুমতি দেওয়ার জন্য । লামা ভিক্ষু প্রবলভাবে আপত্তি করতেন। নিষেধ করতেন। প্রাণিহত্যা করা মহাপাপ বলে রিন-ঝিনকে বোঝাতেন । লামার পরিচর্যাকারীর এই নাম ছিল । 
একদিন লামা ভিক্ষুর ঘরের পাশে একটি নাদুস-নুদুস ভেড়া মালিক-ছাড়া হয়ে ঘোরাঘুরি করছিল। আসলে দল থেকে সে আলাদা হয়ে পড়েছিল। রিন-ঝিন সেটাকে ধরে ঘরে নিয়ে এল। ঘরের নিচের তলায় রেখে দিল । তারপর উপরের তলায় লামার পাশের ঘরে গিয়ে কাঠের মেঝেয় একটি ছিদ্র করল । লাম। তখন আপনমনে ধ্যান-সাধনা করছিলেন এবং পার্থিব জগতের  কোনো কিছুই তার চিন্তার মধ্যে নেই। আশেপাশের কিছুই তিনি দেখছেন। না। রিন-ঝিন সব ব্যবস্থা করে গুরুর ঘরে এল । 

রিন-ঝিন তখন গুরুর কাছে গিয়ে বলল, ‘গুরু লামা, আমি তোমাকে বলতে এসেছি যে, আমাদের ঘরের বাইরে একটি ভেড়া ঘুরে বেড়াচ্ছে । সেটি আমাদের নিচের উপত্যকার কোনো প্রতিবেশীর হবে। নেকড়ের তাড়া খেয়ে সেটি হয়তো এখানে এসে পড়েছে। আমি তাকে ধরে নিচের ঘরে বেঁধে রেখেছি। কিন্তু সেটা ছাড়া পাওয়ার জন্য ভীষণ দাপাদাপি করছে। কিন্তু ছেড়ে দিলে নেকড়ের মুখে পড়বে এবং তাকে খেয়ে ফেলবে। আপনি যদি কিছুক্ষণের জন্য সেটা ধরে রাখেন ভালো হয়। ততক্ষণে আমি নিচের উপত্যকায় গিয়ে তার মালিককে বলে আসতে পারব।” 

জাগতিক ব্যাপারে অনভিজ্ঞ লামা এরকম সহৃদয় অনুরোধ ফেলতে পারলেন না। রিন-ঝিন তাকে পাশের ঘরে নিয়ে এল। সে লামাকে দড়ির মাথাটা হাতে দিয়ে বলল, দড়ির এই মাথাটা আপনি ধরে রাখুন। এই দড়ির শেষ মাথায় নিচে ভেড়াটি বাধা আছে। ভেড়াটা দড়ি টানাটানি করলে আপনি ছেড়ে দেবেন না, শক্ত করে টেনে ধরে রাখবেন । তা না হলে ভেড়াটা পালিয়ে যাবে।” 

লামা ওর কথা অনুযায়ী দড়িটা ধরে রাখলেন। রিন-ঝিন তখন নিচে নেমে গেল, যেন সে নিচের উপত্যকায় ভেড়ার মালিকের কাছে যাচ্ছে সে রকম ভাব করল । নিচে ভেড়াটি যেখানে বাধা আছে সেখানে সে গেল। দড়ির মাথা ধরে সে টানাটানি শুরু করল যেন ভেড়া টানছে এমনভাবে । 

এদিকে লামা মনে করলেন ভেড়া বুঝি দড়ি টানাটানি করে পালাতে চেষ্টা করছে। তিনি জোরে দড়িটি টানতে লাগলেন। নিচে ভেড়াটির গলার দড়িতে তখন টান পড়েছে। ভেড়াও মুক্তি পাওয়ার জন্য চিৎকার করে দড়ি টানছে। এভাবে রিন-ঝিন চালাকি করে ভেড়ার গলায় ফাস লাগার ব্যবস্থা পাকাপাকি করে দিল । 

ভেড়াটি তখন দড়িতে ঝুলছে। একসময় দড়ির ফাসে লটকে ভেড়াটি মরে গেল । ঘণ্টা দুয়েক পরে রিন-ঝিন লামার ঘরে গিয়ে ঢুকল। যেন নিচের উপত্যকা থেকে ফিরে এসেছে সে-রকম ভাব করে লামাকে বোঝাল যে ভেড়াটির স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। ভেড়াটির মৃত্যুর সময় সে ভেড়ার মালিককে খুঁজছিল। এই অবস্থায় ভেড়ার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয় এবং সেটি এখন কেটে খেয়ে ফেলাই ভালো বলে লামাকে জানাল । লামা ভিক্ষুক এত সব চক্রান্তের কিছুই বুঝতে পারলেন না। তিনি সরল মনে রিন ঝিনের কথায় সায় দিলেন। রিন-ঝিনও ভেড়াটি কেটে বেশ কয়েক দিন আরাম করে তৃপ্তিসহ খাবার ব্যবস্থা করল। 

এসব যখন ঘটছিল তখন মেষপালক ভেড়ার খোজে সেখানে এসে জানালা দিয়ে সব দেখতে পেল। সে সরাসরি লামা ভিক্ষুর কাছে গিয়ে রিন-ঝিনের বিরুদ্ধে নালিশ করল। লামা ভিক্ষু এতে খুব রেগে গেলেন। তিনি রিন-ঝিনের বিশ্বাসঘাতকতা ও শঠতায় খুব কষ্ট পেলেন এবং তাকে তক্ষুণি বিদায় করে দিলেন। 

রিন-ঝিনও তখন উপায় না দেখে তার সামান্য তল্পিতল্পা নিয়ে নিজের ভাগ্যের খোঁজে বেরিয়ে পড়ল । রিন-ঝিন প্রথমে খুব হতাশ হয়ে পড়েছিল। কিন্তু তার চপলতা ও আমুদে স্বভাবের জন্য সে তার জীবনীশক্তি ফিরে পেল। রাস্তা দিয়ে সে প্রাণখুলে গান গেয়ে শিস দিয়ে চলতে লাগল। চলতে চলতে সে চারদিকে তীক্ষ নজর রাখছে, কোথাও কোনো গোলমাল বা কিছু ঘটছে কিনা দেখে নিচ্ছে। 

বেশি দূর তাকে যেতে হল না। সে দেখল তার মতো এক তরুণ তার আগে আগে চলছে আপন মনে। দু’জনে তখন আলাপ শুরু করে দিল। রিন-ঝিন কিছু সময় আগে তার জীবনে ঘটে যাওয়া পুরো ব্যাপারটি তাকে বলল। আরও বলল যে, সে কিছু একটা করে অল্প টাকা-কড়ি করতে চায়। সদ্য পরিচিত তরুণটি তখন বলল, ‘খুব ভালো কথা ভাই, আমিই তোমাকে সাহায্য করতে পারব। তোমার জেনে রাখা দরকার যে আমি পেশায় চোর। আমি সব সময় নতুন কিছুর জন্য চোখ খোলা রেখে চলি এবং আমার ভাগ্য আমাকে কোন দিকে নিয়ে যাচ্ছে তা দেখতে পাই । আমরা দু’ জনে মিলে আরও শক্তিমান হতে পারি। আমরা যদি কিছু করতে না পারি তাহলে আমাদের দুর্ভাগ্যই বলতে হবে। 

অনেক দিন ধরে আমি তেমন কিছু করতে পারি নি, তবে দু জনে মিলে এবার কিছু একটা করতে পারব বলে আমার মনে হচ্ছে ।" কাজেই তারা দু জন জুটে গেল। মানিকজোড় হল । বিকেলের দিকে তারা একটা উর্বর উপত্যকায় একটি বড় বাড়ির সামনে এসে পড়ল। চোরটি তখন একা চলে গেল বাড়ির গেরস্থ সম্পর্কে খোজখবর জোগাড় করতে । খুব তাড়াতাড়ি সে সব খবর নিয়ে রিন-ঝিনের কাছে ফিরে এল। ওই বাড়ির চাকর তাকে বলল যে মাত্র আগের দিন তার মালিক মারা গেছে। এখন মালিককে রীতি অনুযায়ী নিজের ঘরে সমাহিত করার ব্যবস্থা হচ্ছে। মালিকের সমস্ত সম্পত্তির মালিক তার একমাত্র কন্যা । সে এখন শোকে কাতর হলেও সব কাজ তাকেই করতে হচ্ছে। চোর আরও জানতে পারল যে আসলে মৃত লোকটির একটি ছেলে ছিল। সে বহু বছর আগে ঘর ছেড়ে চলে গিয়েছিল, আজ পর্যন্ত তার কোনো খোজখবর কেউ জানে না। 

চোর তখন রিন-ঝিনকে বলল, আমার মাথায় একটি বুদ্ধি এসেছে। জানালা বেয়ে উঠে তুমি ঢুকে পড়বে মৃত লোকটির ঘরে, যেখানে তাকে সমাহিত করা হবে। তুমি ঘরের মধ্যে কোথাও লুকিয়ে পড়বে। তুমি লুকিয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি গিয়ে মালিকের মেয়ের কাছে চলে যাব। গিয়ে বলব যে আমিই তার হারিয়ে যাওয়া ভাই। বহু বছর বহু দেশ ঘুরে আমি এখন ফিরে এসেছি। সে হয়তো আমার কথা বিশ্বাস করবে না। তখন আমি তাকে বলব যে, আমরা এই বিষয়টির সমাধান চাইব মৃতদেহের কাছে। আমরা দু’ জনে যখন মৃতের ঘরে আসব তখন মৃতের কাছে জানতে চাইব যে আমি তার হারানো ছেলে কিনা। তখন তুমি ঘরের গোপন জায়গা থেকে বলবে যে আমিই তার ছেলে । তোমার এই সাক্ষ্য-প্রমাণের কাজের জন্য আমি যে সম্পত্তি পাব তার অর্ধেক তোমাকে দেব। কিন্তু খুব সাবধান, ভোর হওয়ার আগে তুমি ঘর থেকে বেরিয়ে পড়বে। নয়তো তুমি বাড়ির পাহারাদার কুকুরের হাতে ধরা পড়ে যাবে। বাড়ির কুকুর রাতে খোলা থাকে, ভোরের আগে আগে তাকে বেঁধে রাখা হয়, সেটিই তোমার বের হওয়ার সময় । 

রিন-ঝিন রাজি হয়ে জানালা দিয়ে মৃতের ঘরে ঢুকে পড়ল। মৃতের পাশে লুকিয়ে রইল তার বন্ধুর আসার অপেক্ষায় । এদিকে চোর সৎ মানুষের মতো সাহসিকতার সঙ্গে সদর দরজা দিয়ে ঘরে ঢুকল। চাকর-বাকরদের বলে সে মৃতের তরুণী মেয়ের ঘরে প্রবেশ করল। 

তরুণী বলল, ‘কে তুমি? কি চাও তুমি? চোর বলল, হা বোন, আমি তোর ভাই। আমাকে তুই চিনতে পারছিস না? 

তরুণী সোজা বলল, না । তোমাকে চেনা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তুমি যখন চলে গেলে তখন আমি ছিলাম খুব ছোট। বাবা ছাড়া কে তোমাকে চিনবে। কিন্তু হায়, সে তো গতকাল মারা গেছে।’ চোর উত্তরে বলল, বাবার মৃত্যু খুব দুঃখজনক। এখন সত্যিই আমার পক্ষে খুব কঠিন আমার কাহিনী বলে পরিচয় দেওয়া ও প্রমাণ করা। তবে আমরা মৃত বাবার ঘরে গিয়ে এর সমাধান করতে পারি। মৃত বাবাকে জিজ্ঞাসা করতে পারি আমি তার ছেলে কিনা।’ 

তরুণী একথায় রাজি হল । ওরা দু জনে তখন বাবার ঘরে গেল । তিব্বতি রীতি অনুযায়ী তখন মৃতের শরীর আঁটি করে বাধা হয়ে গেছে। একা ঘরে সমাহিত করার জন্য অন্ধকারে রেখে দেওয়া হয়েছে। 

অন্ধকার ঘরে ঢুকে চোর তখন বলল, “বাবা, তুমি কি ঘরের মধ্যে আছ? রিন-ঝিন যেন কবর থেকে বলছে তেমন গলায় উত্তর দিল, ‘এ্যা!’ চোর বলে গেল, আমি তোমার কাছে জানতে এসেছি, আমি তোমার হারানো ছেলে কিনা। বলো বাবা।” 
রিন-ঝিন বলল, ‘হ্যা।’ একথা শোনার সঙ্গে সঙ্গে চোর সেখান থেকে বেরিয়ে এল। তরুণীও তাকে অনুসরণ করল, সে তার ভাইয়ের পরিচয় সম্পর্কে নিঃসন্দেহ হল। 

তারপর ওরা তরুণীর ঘরের মধ্যে এল । ঘরে আর কেউ নেই। তখন চোর বলল, তাহলে বোন তুমি আমার সম্পর্কে নিঃসন্দেহ হয়েছ। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমি এখন এখানে থাকতে পারছি না। কারণ আমার ভীষণ এক জরুরি কাজে এখনই চলে যেতে হবে। আমি এই বাড়ি তোমার হাতে দিয়ে যাচ্ছি এবং সমস্ত জমিজমাও তোমাকে দিচ্ছি। আমি শুধু আমাদের সমস্ত সম্পত্তির অংশের ভাগ হিসেবে এক বস্তা সোনা চাই। আমি যতটুকু বয়ে নিয়ে যেতে পারি ততটুকু হলেই আমার চলবে। 

তরুণী এই শর্তে রাজি হল । এক বস্তা সোনা সেই চোরের হাতে তুলে দিল । চোর তখন তরুণীকে বিদায় জানিয়ে লুঠের মাল নিয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সেখান থেকে চলে গেল। ওদিকে রিন-ঝিন তখনও মৃতের ঘরে রয়ে গেছে লাশের মতো । 

খুব ভোরে রিন-ঝিন জানালা বেয়ে নেমে বেরিয়ে গেল। তারপর ঘরের সামনে দিয়ে ঢুকে তরুণীর কাছে জানতে চাইল তার ভাই কোথায় ? তরুণী বলল, ও হ্যা, গত রাতে আমি তাকে এক বস্তা সোনা দিয়েছি। সোনা পেয়ে তক্ষুণি সে ঘর থেকে বেরিয়ে চলে গেছে। এক মুহুৰ্তও দাড়ায় নি।’ একথা শোনার সঙ্গে সঙ্গে চোরের জোচ্চুরিতে রিন-ঝিন ভীষণ রেগে গেল। সঙ্গে সঙ্গে সে সিদ্ধান্ত নিল চোরকে অনুসরণ করে খুঁজে বের করবে এবং তাকে শাস্তি দেবে। তাই সে তরুণীর কাছ থেকে একটি ঘোড়া ধার নিয়ে ছুটে চলল। 

ঘোড়া ছুটিয়ে যেতে যেতে কিছুটা পথ গিয়ে সে দূর থেকে চোরকে দেখতে পেল । সামনে এক জায়গায় গাছের নিচে চোর বিশ্রাম নিচ্ছে। রিন-ঝিনের কাছে ঘোড়া নেই জেনে চোর খুব দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার কথা একবারও ভাবে নি। রিন-ঝিন চোরকে দেখার সঙ্গে সঙ্গে ভাবল যে, সে সোজা তার কাছে গিয়ে সোনার অর্ধেক ভাগ চাইবে । কিন্তু দ্বিতীয়বার চিন্তা করার সঙ্গে সঙ্গে তার মনে পড়ল যে সে নিরস্ত্র । ওদিকে চোরের সঙ্গে আছে তলোয়ার ও গাদা বন্দুক । কাজেই ওর সঙ্গে লড়তে গেলে তার পরাজয় অবশ্যম্ভাবী। এমনকি মৃত্যুর আশঙ্কাও রয়েছে। কাজেই সে ঘোড়ার পিঠে মাথা নিচু করে জোর কদমে ঘোড়া ছুটিয়ে চলে গেল। 

সে চোরকে বুঝতে দিল যেন সে তাকে দেখতেই পায় নি, যেন সে পাগল হয়ে তাকে খুঁজছে দিগ্বিদিক জ্ঞান হারিয়ে । তারপর যখনই সে চোরের দৃষ্টির বাইরে চলে গেল অমনি সে ঘোড়া থেকে নেমে তাকে একটি দেয়ালের আড়ালে বেঁধে রাখল। তারপর কাধের ব্যাগ থেকে এক পাটি নতুন বুট বের করে পথের উপর ফেলে রাখল। তারপর সে আরও বেশ কিছু দূরে চলে গেল। সেখানে সে আর এক পাটি বুট ব্যাগ থেকে বের করে পথের উপর ফেলে রাখল। এসব করার পর সে রাস্তার পাশে ঘোড়াটা নিয়ে একটি ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে রইল । 

এবার চোর চলতে শুরু করল। কিছুদূর গিয়ে সে রিন-ঝিনের ফেলে দেওয়া একপাটি জুতো দেখতে পেল। তখন সে নিজের মনে বলে উঠল, ‘সেই হাদারাম এক পাটি জুতো ফেলে গেল তাড়াহুড়ো করে আমাকে খুঁজতে গিয়ে। এক পাটি জুতো কী কাজে লাগবে? আহা, বাকিটাও যদি সে ফেলে যেত!’ কাজেই জুতোটা সেখানে পড়ে থাকতে দিয়ে সে এগিয়ে যেতে লাগল। 

এরি মধ্যে রোদ তেতে উঠেছে। সোনার ভারি বস্তা কাঁধে নিয়ে যেতে যেতে সে ক্লান্ত হয়ে পড়ছে। ততক্ষণে সে বাকি এক পাটি জুতোর কাছে গিয়ে পৌছল আর ভীষণ ক্লান্তও হয়ে পড়েছে তখন । দ্বিতীয় বুটখানা দেখতে পেয়ে সে নিজের মনে বলে উঠল, আহা, এখানে আরেক পাটি পড়ে আছে। বুট জোড়া সত্যিই নতুন। আমার উচিত পিছিয়ে গিয়ে বাকিটা খুঁজে নেওয়া। তাহলে আমার এক জোড়া নতুন বুট হবে। কিন্তু কাধের ভারি বস্তাটা বয়ে নিয়ে সেখানে যাওয়া ঠিক হবে না। এই ভেবে সে রাস্তার পাশে গাছের নিচে সোনার বস্তাটা ভালো করে লুকিয়ে রাখল। তারপর ফেলে আসা বুটখানা আনতে চলল। 

সে চোখের আড়ালে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রিন-ঝিন ঝোপের পেছন থেকে বেরিয়ে এসে সোনার বস্তাটা খুঁজে বের করল। তারপর ঘোড়ার পিঠে চড়ে এক নিমেষে উধাও।
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য