রাখাল-মেয়ে আর ঝুল-ঝাড়ুয়ার কথা -- হ্যান্স অ্যান্ডারসন

সেকেলে সেগুন-কাঠের সিন্দুক দেখেছ কখনো ? পুরনো হয়ে হয়ে রঙ তার মিশকালো, সারা গায়ে পালিশ তার কারিকুরি, দেখেছ এমন ? এক সময় একজনদের বৈঠকখানায় এইরকম একটি সিন্দুক ছিল, পৈত্রিক সম্পত্তি, বাড়ির গিন্নীর ঠাকুমার মায়ের জিনিস। আগাপাশতলা তার কারিকুরি করা, গোলাপ, টিউলিপ ফুল, ছোটাে-ছোটো হরিণের মাথা আর তার ডালপালাওয়ালা শিং ; তাদের চারদিকে অদ্ভুত সব আঁকা-বাঁকা নক্সা, তারই তলা দিয়ে হরিণগুলো যেন উকি মারছে ।
সিন্দুকের মধ্যিখানের পাল্লায় একটা প্রমাণ মাপের মানুষের চেহারা খোদাই করা ছিল । 
মানুষটা অষ্টপ্রহর দাঁত বের করে হাসছে। হয়তো নিজেকে দেখেই তার হাসি পাচ্ছে, কারণ সত্যি কথা বলতে কি, তার চেহারাটা বড়োই মজার । বাঁকা বাঁকা ঠ্যাং, কপালে দুটাে ক্ষুদে শিং, থুতনিতে লম্বা দাঁড়ি। বাড়ির ছেলেমেয়ের লোকটার নাম দিয়েছিল বাঁকা-ঠাং-ফীল্ডমার্শ্যাল-মেজর-জেনারেল-কর্পোরেল-সার্জেণ্ট’। বেড়ে খটমট লম্ব নাম ; এমন নাম নিয়ে কটা মূর্তি গর্ব করতে পারে, তা সে কাঠের-ই হোক, কিম্বা পাথরেরই হোক ?
সে যাই হোক, লোকটা দিনরাত খাড়া থাকত আর তার চোখ থাকত আয়নার নীচেকার টেবিলটার উপরে। টেবিলের উপরে ছিল ভারি সুন্দর এক চীনে-মাটির রাখাল-মেয়ে ; তার পোশাকটি কেমন গায়ের চারদিকে ঘুরে এসে একটা গোলাপ ফুল দিয়ে আটকান ছিল । মেয়ের পায়ের জুতো আর মাথার টুপি ছিল গিলটি করা, হাতে একটি বাঁকা লাঠি, কি মিষ্টি সে মেয়ে, সে আর কী বলব! তার কাছেই ছিল ঐরকম চীনেমাটির তৈরি ছোটো এক ঝুল-ঝাড়ুয়া ছোকরা। অন্যদের মতো সেও ছিল ভারি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। আসলে যে কারিগর ওকে বানিয়েছিল সে ওকে ঝুল-ঝাড়ুয়া না করে স্বচ্ছন্দে রাজপুত্র করে দিতে পারত, কারণ ওর সারা গা কুচকুচে কালো হলেও, মুখখানি ছিল মেয়েদের মতো টুকটুকে কচি-পানা। সেটা কারিগরের ভুল, মুখটাকেও কালো করা উচিত ছিল । হাতে মই নিয়ে সেই ছেলেটা ছোটো রাখাল-মেয়ের পাশে ঠাঁই নিয়েছিল। গোড়া থেকেই তাদের ওরকম পাশাপাশি রাখা হয়েছিল, ও জায়গা থেকে তারা একটুও নড়ে নি, কাজেই তারা পরস্পরের সঙ্গে বিয়ে ঠিক করে ফেলেছিল। দিব্যি মানিয়েছিল দুজনকে, দুজনারই বয়স কম, দুজনেই একইরকম চীনে-মাটি দিয়ে তৈরি, দুজনেই সমান পাতলা, সমান ভঙ্গুর।
এদের বেশ কাছেই ওদের চাইতে তিন গুণ বড়ো একটি মূর্তি ছিল । পুরনো একটি চীনে মান্দারিন, বেশ মাথা নাড়তে পারে। সে-ও ছিল চীনে-মাটির তৈরি, বলত নাকি সে ঐ ছোটো রাখাল-মেয়ের দাদামশাই । যদিও তার কাছে কোনো প্রমাণ ছিল না, তবু বুড়ো জোর করে বলত সে নাকি ছোটো রাখাল-মেয়ের অভিভাবক। কাজেই যখন বাঁকা-ঠাং-ফীল্ডমার্শ্যাল-মেজর-জেনারেল-কর্পোরেল-সার্জেণ্ট রাখাল-মেয়ের কাছে বিয়ের সম্বন্ধ পাঠাল, বুড়ে অমনি মাথা হেলিয়ে মত দিল ।

বুড়ো মান্দারিন মেয়েটিকে বলল, “এবার তোমার বর আসবে, কেমন মেহগনির বর, আমার তো তাই বিশ্বাস । তুমি কেমন ফীল্ড-মার্শাল-মেজর-জেনারেল-কপোরেল-সার্জেণ্টের বৌ হবে । ওর এক সিন্দুক বোঝাই রুপোর বাসন আছে, তা ছাড়া লুকনো টানাগুলোর মধ্যে আরো কত জিনিস বোঝাই আছে কেউ জানে না।”
ছোটো রাখাল-মেয়ে বলল, “মোটেই আমি ঐ খুপসি-পান সিন্দুকে ঢুকব না। আমি শুনেছি এগারোজন চীনে-মাটির মহিলা আগে থেকেই ওর মধ্যে কয়েদ হয়ে আছে।”
মান্দারিন তাই শুনে বলল, “তাতে কি, তুমি নাহয় বারো নম্বর হবে। এই আমি বলে দিলাম, আজ রাতেই যখন পুরনো সিন্দুকটা কঁড়াচ কোচ শব্দ করবে তখন তোমাদের বিয়ের উৎসব হবে, নইলে আমার নাম চীনে মান্দারিন নয়।”
এই বলে মুণ্ডু তুলিয়ে বুড়ো ঘুমিয়ে পড়ল। কিন্তু ছোটো রাখাল-মেয়ের চোখে জল এল, সে তার ভালোবাসার মানুষ চীনে মাটির ঝুল-ঝাড়ুয়ার দিকে ফিরে চাইল।
রাখাল-মেয়ে বলল, “দেখ, মনে হচ্ছে তোমাকে আমার সঙ্গে বিশাল পৃথিবীতে বেরিয়ে পড়তে বলতে হবে। এখানে তো আর থাকা যায় না ।”
ছোটো ঝুল-ঝাড়য়া বলল, “তুমি যা বলবে, আমিও তাই করব । চল, এখনি যাব । আমি খেটেখুটে তোমাকে খাওয়াতে পরাতে পারব ।”
দীর্ঘনিশ্বাস ছেড়ে ছোটো মেয়েটি বলল, “এই টেবিল থেকে যদি একবার নেমে পড়তে পারতাম। যতক্ষণ না বিশাল পৃথিবীর বুকে, দূরে কোথাও চলে যেতে পারছি, ততক্ষণ মনে কোনো সুখ নেই।”

তখন ছেলেটি ওকে সান্তনা দিয়ে, শিখিয়ে দিল কি করে টেবিলের পায়ে জড়ানো গিলটি-করা পাতা আর খোদাই-করা খাজের উপর ছোটো-ছোটো পা দুটি রেখে, আস্তে আস্তে মেঝের উপর নেমে আসা যায়। নেমেই একবার পুরনো সিন্দুকটার দিকে তাকিয়ে দেখে মহা হুলস্থল কাণ্ড লেগে গেছে ! খোদাইকরা হরিণগুলো সব মুণ্ডু বাগিয়ে শিং উচিয়ে গলা নাড়ছে ; ওদিকে বাঁকা-ঠাং-ফীল্ড-মার্শ্যাল-মেজর-জেনারেল-কর্পোরেল সার্জেণ্ট লাফিয়ে উঠে চীৎকার করে বুড়ে চীনে মান্দারিনকে বলল, “ঐ দেখ, পালাচ্ছে, পালিয়ে বিয়ে করতে যাচ্ছে ওরা ”

তাই দেখে ওরা দুজন তো বেজায় ভয় পেয়ে, তাড়াতাড়ি একটি খোলা দেরাজের মধ্যে আশ্রয় খুঁজল। দেরাজের মধ্যে তিন চার প্যাকেট তাস ছিল, প্রত্যেক প্যাকেটের কয়েকটা তাস কম ; আর ছিল ছোটাে একটা পুতুল-নাচের মঞ্চ। মঞ্চে
একটি নাটক হচ্ছিল। রুহিতন, হরতন, ইস্কাপন, চিড়েতনের বিবির সবাই সামনের সারিতে বসে হাতে ধরা ফুল দিয়ে বাতাস খাচ্ছিল। তাদের পিছনে চার গোলাম খাড়া দাঁড়িয়েছিল, তাদের দুটো করে মাথা দেখা যাচ্ছিল, উপরে একটা, নীচে একটা, তাসদের সাধারণত যেমন থাকে। নাটকের গল্প—
একজন ছেলে আর একজন মেয়ের ভালোবাসার পথে কত বাধা । ছোটো রাখাল-মেয়ে তাই দেখে কেঁদে একাকার,এ যেন তাদেরই গল্প ।
মেয়ে বলল, “এ আমি সইতে পারছি না । এস, এই দেরাজ থেকে চলে যাই ।” কিন্তু যেই-ন! আবার ঘরের মেঝের উপর নেমেছে, অমনি দেখে কি না বুড়ো মান্দারিনের ঘুম ভেঙেছে, রাগে তার সারা গা বেজায় দুলছে !
ছোট্টো রাখাল-মেয়ে বলল, “ও বাবা ! মান্দারিন বুড়ে আসছে।” এই বলে বড়ো কাতরভাবে চীনে-মাটির রাখাল-মেয়ে হাটু গেড়ে বসে পড়ল ।
ঝুল-ঝাড়ুয়া বলল, “ধর যদি আমরা ঘরের কোনার ঐ শুকনো গোলাপ পাপড়ির মতো ফুলদানিটার মধ্যে লুকিয়ে থাকি, তা হলে কেমন হয় ? দিব্যি করে গোলাপ পাপড়ি আর লতা-ভেণ্ডার ফুলের ওপর শুয়ে থাকব, ও যদি কাছে আসে ওর চোখে নুন ছিটিয়ে দেব।”
মেয়েটি বলল, “না, না, তাতে হবে না, কারণ আমি জানি এক কালে বুড়ে মান্দারিনের সঙ্গে ঐ ফুলদানিটার বিয়ের কথা ঠিক হয়েছিল, কে জানে হয়তো এখনো দুজনার মধ্যে একটু ভাবসাব আছে। নাঃ, আমাদের দুজনকে এবার বিশাল পৃথিবীর বুকে বেরিয়ে পড়তে হবে, তা ছাড়া উপায় দেখি না।”
ঝুল-ঝাড়ুয়া বলল, “আমার সঙ্গে বিশাল পৃথিবীতে বেরিয়ে পড়ার সাহস আছে কি তোমার ? ভেবে দেখেছ কি পৃথিবীটা কিরকম প্রকাণ্ড, আর হয়তো কোনোদিনও আমাদের বাড়ি ফেরা হবে না।”
“সব ভেবে দেখেছি।” 
তখন ঝুল-ঝাড়ুয়া ওর দিকে তীক্ষ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল, “আমার পথ গেছে উনুনের চোঙার ভিতর দিয়ে । আমার সঙ্গে উনুনের মধ্যে দিয়ে ঢুকে, চোঙা দিয়ে, সুড়ঙ্গ দিয়ে বেরিয়ে যাবার সত্যিকার সাহস আছে তোমার ? আমি সে পথ ভালো করে চিনি । তা হলে আমরা এত উঁচুতে উঠে যেতে পারব যে এরা কেউ আমাদের ধার কাছেও আসতে পারবে না । একেবারে উপরে উঠে গেলে, বিশাল পৃথিবীতে যাবার গুহা-পথ পাওয়া যাবে।”
এই বলে ঝুল-ঝাডুঁয়া রাখাল-মেয়েকে উনুনের মুখের কাছে নিয়ে গেল। নিশ্বাস ফেলে মেয়ে বলল, “উঃ, কী কালো-মিষ্টি গো !” তার পর তার সঙ্গে চোঙার মধ্যে দিয়ে, সুড়ঙ্গের মধ্যে দিয়ে চলল, কি অন্ধকার সে জায়গাটা, একেবারে ঘুট ঘুটে অন্ধকার যাকে বলে ।
ছেলেটি বলল, “এখন আমরা চোঙার ভিতর দিয়ে উঠছি। ঐ দেখ আমাদের মাথার উপর কি সুন্দর একটা তারা জুলছে !”
সত্যিই আকাশ থেকে একটা তারা সোজা ওদের ওপর আলো ঢালছিল, যেন পথ দেখাবে বলে । ওরা অাঁকড়েমাকড়ে হামাগুড়ি দিয়ে সেই ভয়ংকর পথ ধরে উঠছে, সে যে কত উঁচুতে বলা যায় না। ঝুল-ঝাডুঁয়া রাখাল-মেয়েকে পথ দেখিয়ে ধরে ধরে নিয়ে চলল, কোথায় কোথায় তার ছোট্টো-ছোট্টো চীনে-মাটির পা দুখানি বসাতে হবে তাও বলে দিল। এমনি করে তারা উনুনের চোঙা-মাথার কাছে পৌছে গেল । ঐখানে ওরা একটু বিশ্রাম করতে বসল, দুজনে বড়োই ক্লান্ত ।

মাথার উপরে তারা-ভরা আকাশ, নীচে শহরের বাড়ির ছাদের পর ছাদ, চারদিকে বিশাল বিপুল পৃথিবী ৷ রাখালমেয়ে বেচারি কখনো এ-সব কল্পনাও করে নি। ছোটো মাথাটি ঝুল-ঝাড়ুয়ার কাঁধে রেখে সে এমনি কাঁদা কাঁদল যে, তার কোমরবন্ধ থেকে সব গিলটি খুলে এল ।
সে বলল, “এ যে বড্ড বেশি বড়ো। পৃথিবীটা যে বেজায় প্রকাণ্ড ! আহা, আবার যদি আয়নার তলাকার ছোটো
 বিলের উপর ফিরে যেতে পারতাম ! যত দিন না সেখানে ফিরে যাচ্ছি, ততদিন আমার মনে কোনো সুখ নেই!”
“তোমার সঙ্গে আমি বিশাল পৃথিবীতে বেরিয়ে এসেছি, এবার তুমি নিশ্চয় আমার সঙ্গে আবার বাড়ি ফিরতে পারবে, অর্থাৎ যদি আমাকে ভালোবাস ।”
ঝুল-ঝাড়ুয়া তাকে অনেক বোঝাল, বুড়ো চীনে মান্দারিন আর বাঁকা-ঠাং-ফীল্ড-মার্শাল-মেজর-জেনারেল-কর্পোরেল-সার্জেণ্টের কথা মনে করিয়ে দিল । কিন্তু সে মেয়ে এমনই হাপুস নয়নে কঁদিতে লাগল আর তাকে আদর করে এত চুমে খেল যে শেষপর্যন্ত ঝুল-ঝাড়ুয়া তার কথায় রাজি না হয়ে পারল না, কথাটা যদিও খুবই অবুঝের মতো।
তার পর অনেক কষ্টে তারা আবার চোঙা বেয়ে নামল, আলিগলি সুড়ঙ্গের ভিতর দিয়ে হামা দিয়ে, শেষটা আবার সেই কালো-মিষ্টি উনুনের মধ্যে পৌছল। ঘরে ঢুকবার আগে অবশ্য তারা কিছুক্ষণ দরজার আড়ালে কান খাড়া করে শুনতে লাগল। সব নিঝুম । তখন তারা উকি মেরে দেখল। হায়, হায় বুড়ে চীনে মান্দারিন মাটিতে পড়ে আছে। ওদের পিছন পিছন তাড়া করতে গিয়ে, টেবিল থেকে পড়ে বুড়ো ভেঙে তিন টুকরো হয়ে গেছে । এক কোণে মাথাটা পড়ে তখনো লুড়লুড় করছে। বাঁকা-ঠাং-ফীল্ড-মার্শাল-মেজর-জেনারেল-কর্পোরেল-সার্জেণ্ট, যেমন বরাবর ছিল, তেমনি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কি যে ব্যাপার ঘটে গেল তাই ভাবছিল ।
ছোটো রাখাল-মেয়ে বলে উঠল, “উঃ, কি ভীষণ ! বুড়ো দাদামশাই টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে গেছেন আর আমরাই তার কারণ ! এর পর আমি বঁচি কি করে ?” এই বলে সে
বুক চাপড়ে দুঃখ জানাতে লাগল।

ঝুল-ঝাড়ুয়া বলল, “তাতে কি হয়েছে, বুড়োকে তো খুব সহজেই আবার জোড়া দেওয়া যায় ; আর যাই কর অত অস্থির হয়ো না। আঠা দিয়ে পিঠটা জুড়ে, একটা শক্ত আঁকড়া দিয়ে মুণ্ডুটা আটকে দিলেই তো আবার বুড়ে নতুনের মতো হয়ে গিয়ে আবার আমাদের নানারকম কটু কথা বলতে পারবে !”
মেয়েটি তখন বলল, “সত্যি তোমার তাই মনে হয় ?” তার পর তারা আবার টেবিলের পায় বেয়ে উপরে উঠে যে যার জায়গায় গিয়ে দাঁড়াল ।
ঝুল-ঝাড়ুয়া বলল, “কতদূর বেড়িয়ে এলাম বল তো? অত কষ্ট করে না গেলেও হত ।”
রাখাল-মেয়ে বলল, “বুড়ো দাদামশাইকে যদি আবার জোড়া দেওয়া যায়, তা হলেই সব হয়। অনেক খরচ লাগবে নাকি ?” 
শেষপর্যন্ত বুড়োকে জোড়া দেওয়া হল । বাড়ির লোকরা আঠা দিয়ে বুড়োর পিঠ জুড়ল, আঁকড়া দিয়ে মুণ্ডু লাগাল । প্রায় নতুনের মতোই হয়ে গেল শুধু মাথাটা আর নাড়তে পারত না ।
তাই দেখে বাঁকা-ঠ্যাং-ফীল্ড-মার্শ্যাল-মেজর-জেনারেল-কপোরেল-সার্জেণ্ট বলল, “ভেঙে খানখান হবার পর থেকে তোমার দেখছি বেজায় দেমাক ! এর মধ্যে অত গর্ব করবার মতো কি আছে, আমি তো কিছুই ভেবে পেলাম না । মেয়েটার সঙ্গে আমার বিয়ে হবে কি হবে না, শুধু এইটুকুই বল ।”

ঝুল-ঝাড়ুয়া আর রাখাল-মেয়ে কাতরভাবে বুড়ে মান্দারিনের দিকে চাইল ; তাদের মনে বড়ো ভয়, বুড়ে যদি মাথা দুলিয়ে মত দেয় ! কিন্তু মাথা দোলাবার তার সাধ্য কোথায় আর একটা বাইরের লোককে বলেই-বা কি করে যে তার মুণ্ডুটা আঁকড়া দিয়ে জোড়া। কাজেই চীনে-মাটির ছেলেমেয়ে চিরকাল পরস্পরের কাছাকাছি রইল আর দাদামশাইয়ের আঁকড়াটাকে অনেক আশীৰ্বাদ করল আর যতদিন না তারা নিজেরাও ভেঙে কুচিকুচি হল ততদিন তাদের ভালেবাসাও অটুট রইল।

[--হ্যান্স অ্যান্ডারসন]

Previous
Next Post »
0 মন্তব্য