দরজা খুলবে কে? -- মোল্লা নাসিরউদ্দিন

ছোটবেলা থেকেই বোঝা যাচ্ছিল ভবিষ্যতে নসিরুদ্দিনের প্রতিভা দিকে দিকে বিকশিত হবেই। তিনি কেউ কেটা না হয়ে যান না ! তার প্রমাণ, শৈশবে তাঁর মা এক আত্মীয়ের বাড়ি বেড়াতে যাবার সময় বলে গেলেন-বাবা নসির, এই তো তোমার খাবার দাবার, খেলার জিনিষপত্র সবকিছু রেখে গেলাম,-খাবার সময় খাবে, খেলার সময় খেলবে । হ্যা, দ্যাখো বাপু, অচেনা কাউকে ঘরে ঢুকতে দিও না, যা চোর-ছ্যাচড়ের উৎপাত ।
মা বেরিয়ে যাবার পরেই নসিরুদিন সবচেয়ে জরুরী কাজটা অর্থাৎ খাওয়ার ব্যাপারটা সর্বাগ্রে সেরে ফেললো ।
খেলার সার্থীদের জন্যে অপেক্ষ করতে করতে তার চোখে ঘুম জড়িয়ে আসছে, এমন সময় তার দূর সম্পর্কের মামা এসে বললো,— আজ বিকেলে মামা-মামীর বেড়াতে আসবেন, আগে থেকে তার মাকে খবর দিয়ে রাখো।
নসিরুদিনের তো মহা মুসকিল। একদিকে মা বলে গেছেন দরজায় পাহার দিতে, ওদিকে মামা-মামী আসবেন, মাকে এ খবরটা না দিলেই নয়। অনেক চিন্তা করে নসিরুদ্দিন হাতুড়ি বাটালি দিয়ে খোদ দরজাটাকেই উপড়ে ফেললো। কষ্ট হলেও গোটা দরজাটা ঘাড়ে করে মাকে খুজতে বেরুলো । ছেলেকে এ অবস্থায় দেখে অবাক মাকে নসিরুদ্দিন সান্ত্বনা দেয়—’দরজাটা যখন নিয়েই এসেছি, তখন তা খুলবে কে ?’
ওদিকে বাড়ী ফিরে দেখা গেল, চোর সর্বস্ব নিয়ে উধাও !

[-- মোল্লা নাসিরউদ্দিন-এর গল্প]


Previous
Next Post »
0 মন্তব্য