Home Top Ad

Responsive Ads Here

Search This Blog

একদিন গ্রামের একটি নিরক্ষর লোক লেখাপড়া-জানা একজন লোককে গিয়ে বললেন, বাবু, আমি লেখাপড়া জানি না, কিন্তু আমার এক আত্মীয়কে খুব জরুরি একটি চিঠ...

পায়ে ব্যথা, লিখতে পারব না

একদিন গ্রামের একটি নিরক্ষর লোক লেখাপড়া-জানা একজন লোককে গিয়ে বললেন, বাবু, আমি লেখাপড়া জানি না, কিন্তু আমার এক আত্মীয়কে খুব জরুরি একটি চিঠি লেখা দরকার। দয়া করে আমাকে একটা চিঠি লিখে দেবেন? সকলে জানে ওই লোকটি লেখাপড়া জানে কিন্তু সে লেখাপড়া জানে না, খালি মুখে বলে, জানি।

লেখাপড়া-জানা লোকটি বলল, “দেখো ভাই, তোমার খুব জরুরি চিঠি হলে বরং আর কাউকে দিয়ে লিখিয়ে নাও। আর খুব জরুরি না হলে দু'তিনদিন পরে এসো, আমি লিখে দেব। আমি এখন লিখতে পারব না।’

নিরক্ষর লোকটি বলল, আমার খুবই জরুরি চিঠি। আপনি লিখে দিলে ভাল হত ; আবার কার কাছে যাব! আপনি ব্যস্ত থাকলে আমি না হয় একটু অপেক্ষা করছি। এখন চিঠি না লিখলেই নয়। চিঠি না দিলে অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে।'
লেখাপড়া-জানা লোকটি বলল, অপেক্ষা করে লাভ নেই। আমার পায়ে খুব ব্যথা। এখন লিখতে পারব না, যতদিন না পা সারে।

লোকটি একটু অবাক হয়ে বলল, চিঠি তো আর পা দিয়ে লিখবেন না, বাবু ; লিখবেন হাত দিয়ে। তাতে পায়ের ব্যথায় কী এসে যায়? আমি তো আপনাকে কোথাও যেতে বলছি না। যেতে বললে না হয় বলতেন যে, পা ব্যথা হয়েছে।’

এই শুনে লেখাপড়া-জানা লোকটি বলল, দেখো বাপু, আমি যা লিখি অন্য লোকে তা পড়তে পারে না। তাই পড়ে দেওয়ার জন্য আবার আমাকেই যেতে হয় চিঠি পড়তে। কিন্তু এখন আমার পায়ে এত যন্ত্রণা হচ্ছে যে, আমার পক্ষে কোথাও যাওয়া সম্ভব নয়। তাই বলছিলাম ভাই খুব জরুরি হলে আর কাউকে দিয়ে লিখিয়ে নাও। জরুরি না হলে দু-তিনদিন পরে এসো, তার ভেতর আমার পায়ের ব্যথাটা নিশ্চয়ই সেরে যাবে মনে হয়। আমি চিঠি লিখে দেব এবং নিজে গিয়ে পড়ে দিয়ে আসব।' নিরক্ষর লোকটি ভাবল, এ আবার কী রে বাপু, পাগল অনেক দেখেছি কিন্তু এর মতো পাগল কখনও দেখিনি! আমার মনে হয় লোকটি একেবারেই লেখাপড়া জানে না।’

0 coment�rios: