অনুশাসক জাতক

বোধিসত্ত্ব একবাৰ পাখি হযে জন্মান। বড় হযে তিনি পাখিদের বাজা হলেন। হাজার হাজার পাখি তাকে সব সমযঘিরে থাকত। একবার তিনি কয়েক হাজার পাখিকে সঙ্গে নিয়ে হিমালয় পর্বত এলাকায় ঘুরতে যান।
তখন একটি মেয়ে পাখি খাবারের লোভে রাজপথে চলতে শুরু করেছিল। রাস্তায় গাড়ি থেকে ধান, মুগ পড়ে যেত। পাখিটি সেসব দানা খুটে খেত। সে মনে মনে ভাবল, বাস্তায় খাবার পাওয়া ঢ়ের সোজা। কিন্তু আর সব পাখি এসে পড়লে আমার খাবার কমে যাবে। তাই এমন একটা ফন্দি বের করতে হবে যাতে আর কেউ এখানে চরতে না আসে।"
এইসব সাত-পাঁচ ভেবে সে পাখিদের সাবধান করে দিল, 'খবরদার, রাজপথে কখনও চরতে যেও না। দিন রাত ঘোড়াগুলো গাড়ি টেনে নিয়ে যাচ্ছে। যখন তখন উড়ে গিয়ে বাঁচাও সহজ নয়। যে কোন সময় চাকার তলায় চাপা পড়ে প্রাণ খোয়াতে হবে। তার চেযে না যাওযাই ভালো।’

রোজই সে এভাবে সাবধান করত বলে পাখিরা তাৰ নাম  দিয়েছিল অনুশাসিকা। একদিন সে রাজপথে চলছিল এমন সময শব্দ শুনে বুঝল ঝডেৰ বেগে একটা গাড়ি আসছে। সে ভাবল, গাডি এসে পড়াব আগেই আমি উড়ে যাব। ততক্ষণ খাওয়া যাক।
এদিকে গাড়িটা নিমেষের মধ্যে এসে পড়ল। সে আর উড়ে যাওয়াব সুযোগ পেল না। গাড়িটা তাকে দুটুকরো করে রেখে গেল। এবপর বোধিসত্ত্ব দেখলেন, সব পাখি ফিরে এসেছে, কিন্তু অনুশাসিকার দেখা নেই। পাখিরা তখন তার খোঁজে উড়ে গেল। একটু পরেই খবর পাওয়া গেল সে মারা গিযেছে। 
সব শুনে বোধিসত্ত্ব বললেন, সত্যি খুব আফশেষের কথা, যে সবাইকে সাবধান করত, সে নিজেই ঐ বিপদের মধ্যে গিয়ে মারা গেল।’ 

এই জাতকের শিক্ষা : নিজে সাবধান না হযে অন্যকে সাবধান করা কোন কাজের কথা নয়।


Previous
Next Post »
0 মন্তব্য