বভ্রূ জাতক

এককালে কাশীতে এক বিরাট ধনী বণিক ছিল। তার সিন্দুকে ছিল গাদ গাদা সোনা। কালে ঐ বণিকের বংশ একে একে শেষ হয়ে গেল। বণিক বউয়ের টাকাকড়ির ব্যাপারে খুবই দুর্বলতা ছিল। সে ইঁদুর হয়ে জন্মাল। সে সেই সোনার গাদার ওপর থাকত। ঐ গ্রামে তখন আর কেউ বেঁচে নেই।
সেই সময়ে বোধিসত্ত্ব ঐ গ্রামে পাথর কাটতেন। সোনার গাদার পাহারাদার ইঁদুর বারবার বোধিসত্ত্বকে দেখে তাঁর ভক্ত হয়ে পড়ে। ইঁদুর একদিন ভাবল, “আমার তো এতো সোনাদানা, এই লোকটার সঙ্গে ভাব করে সম্পত্তি ভাগ করলে মন্দ হয়না।’ এই ভেবে সে একদিন এক টুকরো সোনা মুখে করে নিয়ে বোধিসত্ত্বের কাছে গেল। 
বোধিসত্ত্ব জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি সোনা নিয়ে এলে কেন ?
এটা দিয়ে তুমি নিজের খাবার কিনে আন আমার জন্যও একটু মাংস এনে '
তারপর থেকে বোধিসত্ত্ব তাই করতে লাগলেন। রোজই তিনি খাবার কিনে আনেন। ইঁদুরের জন্য মাংস কেনেন। একদিন হল কি, এক বিড়াল ইঁদুরকে চেপে ধরল। ইঁদুর খুব মিনতি কবে বলল, প্রভু, আমাকে মেরো না। বিড়াল বলল, কেন মারব না, খিদেয় আমার পেটজলে যাচ্ছে। মাংস খেতে ইচ্ছে করছে। ইঁদুর তখন বলল, তোমার কি একদিন মাংস খেলেই চলবে, নাকি রোজই মাংস খেতে চাও? বিড়াল বলল, রোজ পেলে তবে তো ? ইঁদুর তখন বলল, “আমাকে ছেড়ে দিলে রোজ তোমাকে মাংস দেব। বিড়াল বলল, ঠিক তো? ইঁদুর বলল,হ্যাঁ তুমি দেখতেই পাবে। এরপর থেকে ইঁদুর তাকে নিজের মাংসের আধখানা দিয়ে দিত।
ইঁদুরের  কপালে মুখ নেই। কদিন পওর তাকে আরেক বিড়াল ধরল। ইঁদুর তার সঙ্গেও একই রকম বন্দোবস্ত করল। নিজের " খাবার এখন তাকে তিন ভাগ করতে হচ্ছে। এতেও রেহাই নেই। আরও দুটে বিড়াল তাকে ধরল। ফলে মাংস পাঁচ ভাগ করে সে নিজে মোটে এক ভাগ খেতে লাগল।

কম খেযে ইঁদুর শুকিয়ে যেতে লাগল। বোধিসত্ত্ব দেখলেনেইঁদুর বেচাবার শরীর অর্ধেক হয়ে গেছে। তিনি এখন তাকে জিজ্ঞেস করে সব কিছু জানতে পারলেন। ইঁদুরকে বললেন, এর জন্য তুমি মরতে বসেছ ? দেখ, একদিনে সব কটা বিড়ালকে জব্দ করব।'
বোধিসত্ত্ব তখন কাঁচের মত স্বচ্ছ পথ দিয়ে একটা গুহা বানিয়ে দিলেন।ইঁদুরকে বললেন, তুমি এৰ মধ্যে ঢুকে বসে থাক, বিড়ালরা এলে ওদের গালাগালি করবে। ইঁদুর গুহার ভেতর ঢুকে বসে রইল। প্রথম বিড়াল আসতেই ইঁদুর  বলল, আজ থেকে মাংস বন্ধ, খেতে হলে নিজের মাংস খা। রাগে গবগব করে বিড়াল্ ইঁদুরকে ধরার জন্য লাফ দিল। সঙ্গে সঙ্গে স্ফটিক পাথরে ধাক্কা খেযে বিড়ালের মাথা ভাঙল। বিড়ালটা মরে গেল। এইভাবে চারটে বিড়ালই শেষ হল। বিড়ালের দল শেষ হলে ইঁদুর আর বোধিসত্ত্ব সেই সোনা খরচ করে আরামে দিন কাটাতে লাগলেন।

এই জাতকের শিক্ষা হল : সবাইকে সন্তুষ্ট করা যায় না।

Previous
Next Post »
0 মন্তব্য