দুস্কর্মের ফল

এক ঈগল পাখী আর এক খাঁকশেয়ালীর বন্ধুত্ব হয়েছে। বন্ধুত্বটা যাতে বরাবর বজায় থাকে এবং আরও পাকা হয় সেই জন্যে তারা দু'জন কাছাকাছি বসবাস করবে ঠিক করলে। ঈগল একটা গাছের মাথায় বাসা বানিয়ে সেখানেই তার ডিম পাড়ল। আর খ্যাঁকশেয়ালী ঐগাছের নীচেই তার আস্তানা করল এবং সেখানেই তার বাচ্চা হ’ল ।
খ্যাঁকশেয়ালী একদিন খাবারের খোঁজে বাইরে গেছে, আর ঈগলের লেগেছে সেই সময় খিদে। কোথায় আর যাবে সে খাবারের খোঁজে? বন্ধু যখন বাসায় নেই তখন সে ছোঁ মেরে খ্যাঁকশেয়ালী বাচ্চাগুলি-ই নিয়ে এল বাসায়, তারপর নিজের বাচ্চাদের সঙ্গে নিয়ে সেগুলো বেশ মজা করে খেল ।
এরপর খ্যাঁকশেয়ালী তার বাসায় ফিরে এসে দেখে সেখানে তার বাচ্চাগুলি নেই। বুঝতে আর বাকী রইল, না তার—কি হয়েছে তাদের। বাচ্চা খোয়ানোর শোকের চেয়ে প্রবল হয়ে উঠল তার প্রতিশোধ-স্পৃহা, ভাবতে লাগল ঈগলের এ দুস্কর্মের বিশ্বাসঘাতকতার শাস্তি কি করে দেওয়া যায় !
মাটিতে থাকে সে, মাটিতেই তার চলাফেরা, পাখির মতো তার ডানা নেই যে, সে উড়তে পারবে। একটা পাখীকে সে সায়েস্তা করবে কি করে! সবলের অত্যাচারে দুর্বল আর কিছু করতে না পেরে যেমন তাকে কেবল অভিশাপ দিয়েই - মনের জ্বালা মেটায়—তাই সে করতে লাগল ।
বেশীদিন ভাবতে হ’ল না, নিজেকে কোন কিছু করতেও হল না, দুৰ্বৃত্তের পাপের শক্তির ভার বিধাতা নিজের হাতেই নিলেন ।
পাশের এক ক্ষেতে কয়েকটা লোক মেষবলি দিয়ে যজ্ঞ করতে এসেছিল। মেষ মাংস রান্না করতে কাঠ খড় দিয়ে তারা আগুন জ্বেলেছিল, ওরই ছোটখাটো টুকরো এদিকে ওদিকে ছিটকে পড়েছিল ৷ ঈগল ভাল করে না দেখে ওরই এক টুকরো ছোঁ মেরে তার বাসায় নিয়ে গেল। বিধাতার কাজ বিধাতাই করেন, তখনই এক ঝড়ো বাতাস উঠল, তাতে টুকরেরা এক পাশের আগুনে ঈগলের বাসার খরকুটো দাউ দাউ করে জ্বলে উঠল, ঈগলের দগ্ধবাচ্চা সমেত জ্বলন্ত বাসাটা ধ্বসে পড়ল নীচে। খাঁকশেয়ালী তাই দেখেই ছুটে গিয়ে দুষমন ঈগলের বাচ্চাগুলি গপগপ করে খেয়ে ফেলল।

উপদেশ: অত্যাচারিত দুর্বল সবল অত্যাচারীকে সায়েস্তা করতে না পারলে বিধাতা নিজেই তার শাস্তির ব্যবস্থা করেন।
ধর্মের কল বাতাসে নড়ে।

Previous
Next Post »
0 মন্তব্য