শীত

আদ্দিকালের বদ্দিবুড়ি বৃদ্ধ শীতের ধাই
ছেলে তোমার হিমসাগরে মারছে কেবল ঘাই
সাঁতার খেলায় হিমের ছিটে
দ্যায় ভিজিয়ে পৃথিবীটে,
হিমালয়ের গর্তে শুয়ে তুলছ তুমি হাই,
শীত ব্যাটাকে নাও না ডেকে-- নইলে মরে যাই।

দাঁত ঠকঠক বুক শিরশির কনকনানি খুব!
দখিন হাওয়া আজ বিবাগী কোকিলগুলো চুপ!
চাঁদমামার মুখুখানা চুন
সর্দি লেগে হয় বুঝি খুন
প্রাণের কাঁদন শিশির হয়ে ঝরছে রে টুপটুপ,
আজ কুয়াশার ফানুস-চাকা পূর্ণিমার ঐ রূপ!

বুড়ো শীতের ফোগলা মুখে বরফ গোলা হাঁপ,
ঝাপটা মেরে দুনিয়াকে করল বুঝি গাপ।
কোত্থেকে যে জুটল অবুজ
শুষিয়ে দিলে মনের সবুজ,
ফুলের সাথে হয়নিকো আর মৌমাছির আলাপ,
শিকার রাতের স্বপন দ্যাখে গর্তে ঢুকে সাপ।

বদ্দিবুড়ি ঢুলছে তবু, ঐ তো বুড়ির দোষ
লক্ষ বছর নিদ্রা দিয়েও মিটল না আফশোষ
ঠান্ডাতে বুক যায় কালিয়ে
পথ থেকে সব আয় পালিয়ে
আংরাটাতে কয়লা দিয়ে, চারপাশে তার বোস,
বন্ধ করে জানলা দুয়ার, আনরে বালাপোশ!


[-- হেমেন্দ্রকুমার রায়]
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য