রাজা ও বোকা বানর

এক রাজার একটি পোষা বানর ছিল।
বানরটিকে রাজা তালিম দিয়ে অনেক কিছু শিখিয়েছিলেন।
বানর রাজার কথা বুঝতে শিখেছিল। রাজা তাকে পা টিপে দিতে বললে দিব্যি পা টিপে দেয়, হাওয়া করতে বলেলে চামর দিয়ে মানুষের মতো হাওয়া করে দেয়। কেবল মানুষের মতো কথাই বলতে পারত না বানরটা। কিন্তু মানুষের মতই কাজ করতে শিখেছিল।
রাজার আদরের বানরটি সারাক্ষণ রাজার পাশে পাশেই থাকত।
একদিন রাজা দুপুরে খাবারের পর বিছানায শুয়েছিল। বানর কাছেই ছিল। রাজা বললেন, আমি একটু ঘুমোব, বসে বসে হাওয়া কর।
অমনি বানর খাটের পাশে বসে চামর দিয়ে হাওয়া করতে লেগে গেল।
কিছুক্ষণের মধ্যেই রাজা ঘুমিয়ে পড়লেন।

এদিকে হাওয়া করতে করতে বনর দেখতে পেল, কোত্থেকে একটা মাছি ভনভন শব্দ করে উড়ে এসে রাজার গলাযয় বসেছে। পাশে মাছির শব্দে মনিবের ঘুম ভেঙ্গে না যায় তাই বানর জোরে জোরে চামর নেড়ে তাড়িয়ে দিল।
মাছিটা উড়ে গিয়ে খানিক বাদে ঘুরেফিরে আবার এসে বসল। বানরও তাকে আবার তাড়িয়ে দিল।
এমনি করে বার বার মাছিটা ঘুরে এসে রাজার গায়ে বসতে লাগল।
মাছির কান্ড দেখে বানরের ভীষণ রাগ হল। সে মাছিটাকে সায়েস্তা করবার জন্য চামর নামিয়ে রাখল। তারপর আস্তে করে খাটের পাশ থেকে রাজার তলোয়ারটা তুলে ‍দুহাতে চেপে ধরে বসে রইল।
ঠিক অমনি সময়ে মাছিটা আবার বোঁ করে শূন্যে একবার ঘুরপাক খেল। তারপর রাজার গলার ওপরে গিয়ে বসল। বানরটা তো তৈরী হয়েই ছিল। সেই না মাছিটা রাজার গলার উপরে গিয়ে বসল অমনি মানর মাছিটাকে লক্ষ্য করে দিল এক কোপ।
পলকের মধ্যে মাছিটা গেল উড়ে। আর ধারাল তলোয়ারের কোপে রাজার গলাটা গেল দুভাগ হয়ে।

উপদেশ: নিবোর্ধ বন্ধু বিপজ্জনক।


Previous
Next Post »
0 মন্তব্য