গাধা ও ব্যবসায়ী

এক লবণের ব্যবসায়ী সস্তায় পেয়ে একদিন বাজার থেকে প্রচুর লবণ কিনল। বোঝা বইবার জন্য ব্যবসায়ীর একটি গাধা ছিল। লবণের বোঝা গাধাটির পিঠে চাপিয়ে সে বাড়ির দিকে চলল। গাধার পিঠে ছিল প্রচুর লবণ। এত বোঝা আগে সে কখনো পিঠে নেয়নি। তার হাঁটতে কষ্ট হতে লাগল।
ধীরে ধীরে হাঁটতে হাঁটতে ব্যবসায়ী একটা নালার ধারে পৌছল।
নালার ওপরে সাঁকো। সাঁকো পার হয়ে ওপারে যেতে হবে। গাধা বোঝার ভারে কাতর হয়ে পড়েছিল যে সাঁকোতে ওঠার মুখেই পা ফসকে জলে পড়ে গেল।
ব্যবসায়ী দৌড়ে এসে অনেক কষ্টে গাধাটাকে নালা থেকে তুলে দাঁড় করাল। নালার জলে বস্তার লবন অনেকটা গলে গিয়েছিল। তাই ওজন কমে গেল। এবারে গাধা খুব সহজের সাঁকো পার হয়ে বাড়ি চলে এল।
এরপর আর-একদিন।
সেদিনও ব্যববসায়ী গাধাটির পিঠে লবণের বস্তা চাপিয়েছে। বোঝার ভারে গাধা আর চলতে পারে না। সাঁকোর কাছে আসতেই তার আগের দিনের কথা মনে পড়ে গেল-- নালায় পড়ে যাবার পর বোঝা হাল্কা হয়ে গিয়েছিল।

তখনি কায়গা করে পিঠের ওজন কমাবার ফন্দি আঁটল গাধা। চালাকি করে ঝপাৎ করে নালায় পড়ে গেল।
ব্যবসায়ী বেচারা লোকসানের ভয়ে হায় হায় করে উঠল। কোন রকমে টেনেটুনে গাধাটাকে রাস্তায় তুলল।
ততক্ষণে নালার জলে তার বস্তার লবন অনেকটাই গলে ভেসে গেছে।
পরপর দুদিন অমন লোকসান হওয়াতে ব্যবসায়ীর মন খুবই খারাপ হযে গেল। কিন্তু সে বুঝতে পারল, আজ গাধা ইচ্ছা করেই নালার জলে পড়েছে। পিঠের বোঝা কমাবার জন্যই সে অমনটি করেছিল। একথা বুঝতে পেরে ব্যবসায়ী ঠিক করল গাধাকে আচ্ছা রকম একটা শিক্ষা দেওয়া দরকার।

এর কয়েকদিন পর এক হাট থেকে ব্যবসায়ী প্রচুর তুলা কিনল। তারপর গাধার পিঠে চাপিয়ে আগের পথে নালার ধারে এসে পৌছাল।

গাধা তো জানে পিঠে যত বোঝাই থাক নালার জলে একবার পড়তে পারলে বোঝা হাল্কা হয়ে যাবে। সে তাই আজও সাঁকোর ওপর আচমকা ঝপাৎ করে নালার জলে পড়ে গেল। অন্যবারে ব্যবসায়ী লবণ গলে যাবার ভয়ে গাধাকে তাড়াতাড়ি জল থেকে টেনে তুলেছিল। আজ কিন্তু অত ব্যস্ত হল না। তুলো ভিজে ভারী হয়ে যাবার পর ধীরে সুস্থে সে গাধাকে টেনে তুলল। তারপর তুলোর ভেজা বস্তা সবকটি গাধার পিঠে চাপিয়ে দিল।

সেই বস্তার ওজন তখন চারগুন বেড়ে গেছে। অতটা বয়ে নেওয়া কি গাধার সাধ্য আছে! গাধার তখন বোঝার ভারে প্রাণ যায় আর কি।

উপদেশ: একই ফন্দি সবক্ষেত্রে খাটে না।
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য