গুহা কথা বলে না

একদিন এক সিংহ শিকারে বেরিয়ে সারাটা দিন বনে বনে ঘুরল কিন্তু কোন শিকার ধরতে পারল না। খিদের জ্বালায় আর ক্লান্তিতে কোন রকমেন সে একটা গুহার সামনে এসে দাঁড়াল। তারপর উঁকি দিয়ে গুহা শূণ্য দেখে ভেতরে গিয়ে ঢুকল।

এখন এই গুহায় বাস করত এক শেয়াল। সিংহ গুহার ভেতরে ঢুকেই ব্যাপারটা টের পেয়ে গের। সে তখন এক কোণে গুটিশুটি হয়ে শুয়ে পড়ল। একসময় না একসময় শেয়াল নিশ্চয় গুহায় ঢুকবে-- তখন শেয়ালকে দিয়েই দিনের খাবারটা সারা যাবে, এই ভেবে তার মনটা খানিকটা হাল্কা হল।

কিছুক্ষণ পরে শেয়াল ফিরে এল। কিন্তু গুহায় ঢুকতে গিয়েই সে থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল। দেখল গুহার মুখে মাটিতে সিংহের ছাপ।


শেয়াল খুব চালাক প্রাণী। পায়ের ছাপ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে সে বুঝতে পারল একটা সিংহ গুহায় ঢুকেছে-- তার ঢোকবার পায়ের ছাপই সব দিকে ছড়িয়ে আছে কিন্তু সে বেরিয়ে গেছে এমন পায়ের ছাপ কোথায়ও নেই।

শেয়াল গুহার মুখ থেকে পিছিয়ে গিয়ে ভাবতে লাগল, না বাপু বিশেষ ভাবে পরীক্ষা না করে ভেতরে ঢোকা যাবে না। সিংহ খুব শক্তিশালী জন্তু। একবার তার সামনে পড়ে গেলে প্রাণ বাঁচানো যাবে না।

এই ভেবে শেয়াল গলা চেচিঁয়ে বলে উঠল, ‘কি হে ভাই গুহা, আমি ফিরে এসেছি দেখেও তুমি আজ কথা বলছ না কে? যদি আজ কথা না বল তাহলেিএই আমি ফিরে চললাম।

গুহার অন্ধকার কোণায় শুয়ে সিংহটা সব কথাই শুনতে পেল। শুনে ভাবল, গুহা নিশ্চয় অন্যদিন শেয়াল আসা মাত্র ডেকে কথা বলে, তা নাহলে সে কেন এভাবে বলবে। গুহা নিশ্চয় আজ আমাকে দেখতে পেয়ে ভয়ে কথা বলছে না। শেয়ালকে ফিরে যেতে দেওয়া যাবে না।

যেমনি ভাবা অমনি সিংহ উচ্চঃস্বরে বলে উঠল, এস এস ভাই শেয়াল, আমি তোমার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। এতক্ষণ কথা না বলে তোমাকে পরীক্ষা করে দেখছিলাম। তুমি ভেতরে এসে বিশ্রাম কর।

সিংহের মেঘের গর্জনের মতো গলা শুনতে পেয়ে শেয়ালের সন্দেহ দূর হল। সিংহ তার জন্যই গুহার ভেতরে ঘাপটি মেরে বসে রয়েছে। বাপরে! ভাগ্য ভাল, প্রাণটা বেঘোরে হারাতে হল না। সে তখন গলা চড়িয়ে বলল, একীরে বাবা! গুহা কথা বলে এমন তাজ্জব কথা তো কখনও শুনিনি!
বলেই একছুটে সেখানে থেকে পালল।

উপদেশ: যে সবসময় সতর্ক থাকে সে বিপদ এড়াতে পারে।

Previous
Next Post »
0 মন্তব্য