সত্যবাদী সত্যকাম

প্রাচীনকালে গৌতম নামে এক ঋষি ছিলেন। একদিন তিনি তার আশ্রমের শিষ্যদের নিযে ব্রহ্মবিদ্যা নিয়ে আলোচনা করছিলেন। এমন সময় একটি বালক এসে তাঁকে প্রণাম করে মাথা নিচু করে তাঁর সম্মুখে দাঁড়াল। ঋষি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তুমি কে? কোথা থেকে এসেছ?’
বালকটি উত্তর করল, ‘আমার নাম সত্যকাম। এখান থেকে এটুকু দূরে গ্রামে আমার বাড়ি। সেখান থেকেই এসেছি।’
ঋষি বললেন, ‘এখানে কী চাও?’ বালকটি বিনীতি ভাবে উত্তর দিল, ‘গুরুদেব আপনার নিকট ব্রহ্মচর্য পালন করে ব্রহ্মবিদ্যা শিক্ষা করতে চাই।’
তখন ঋষি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমার গোত্র কী?’ বালকটি করজোড়ে বলল,‘ গুরুদেব, আমি আমার গোত্র কী তা জানি না। বাড়িতে আমার মা আছেন। আমি মাকে জিজ্ঞাসা করে কাল আপনাকে বলব।’ গৃহে এসে মাকে সব কথা খুলে বলল সত্যকাম। তার মা তাকে বলল, ‘বাবা সত্যকাম আমি তোমার গোত্র কী তা জানি না। আমার জবালা। তাই তুমি জবালা সত্যকাম।

পরের দিন সত্যকাম ঋষির আশ্রমে গিযে গুরুদেবকে প্রণাম করে বলল, ‘গুরুদেব, আমি মাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম আমার গোত্র কী কিন্তু মা বললেন যে তিনিও জানেন না আমার গোত্র কী। আমার মায়ের নাম জবালা। তাই আমি জবালা সত্যকাম।’

সত্যকামের মুখে এমন সরল সত্যকথা শুনে ঋষি তাকে বুকে টেনে নিয়ে আলিঙ্গন করে বললেন, ‘বৎস সত্যকাম, তুমি সত্যকথা বলেছ। সুতরাং তুমি ব্রাহ্মণ। ব্রাহ্মণরাই সত্য কথা বলতে পারে। আমি তোমাকে উপনয়ন দেব, ব্রহ্মবিদ্যা দান করব।’ গোত্রহীন হয়েও সত্যকাম সত্যকথা বলে ঋষি তাকে তাড়িয়ে না দিয়ে তাকে বুকে টেনে নিলেন। ব্রহ্মচর্য পালন করতে অনুমতি দিলেন। সেদিন থেকে সত্যকাম ঋষি গৌতমের আশ্রমে থেকে বিদ্যাশিক্ষা আরম্ভ করল।



শিক্ষা: সত্যবাদিতার জয় অবশ্যম্ভাবী। সুতরাং সকলেরই সত্যবাদী হওয়া উচত। আমারও সত্যকথা বলব, সত্যবাদী হব।
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য