Home Top Ad

Responsive Ads Here

Search This Blog

বোধিসত্ত্ব একবার ব্রাহ্মণের ঘরে জন্ম নেন। বড় হয়ে তক্ষশিলায় এক পন্ডিতের কাছে বেদ শেখেন। শুধু তাই নয়, ধনুর্বিদ্যায় সুপন্ডিত হন। সেজন্য লোকে তা...

ভীমসেন জাতক

বোধিসত্ত্ব একবার ব্রাহ্মণের ঘরে জন্ম নেন। বড় হয়ে তক্ষশিলায় এক পন্ডিতের কাছে বেদ শেখেন। শুধু তাই নয়, ধনুর্বিদ্যায় সুপন্ডিত হন। সেজন্য লোকে তাঁকে বলত চুল্ল ধনুর্গ্রহ পন্ডিত।
এই জন্মে বোধিসত্ত্ব বেশ বেঁটে আর কুঁজো ছিলেন। শিক্ষা শেষ করার পর রোজগারের রাস্তা দেখতে হবে। নিজের চেহারা নিয়ে বোধিসত্ত্ব তখন একটু মুশকিলে পড়ে গেলেন। ভাবলেন, ‘রাজার কাছে কাজ চাইতে গেলে রাজা আমাকে দূর করে দেবেন।’ রাজা হয়তো বলবেন, ‘তোমার মতো বামন কখনও বীর তীরন্দাজ হতে পারে?’  এইসব সাঁত পাঁচ ভেবে, বোধিসত্ত্ব লম্বা চওড়া একটা লোকের খোঁজ করতে লাগলেন। তাঁতী পড়ায় ঐ রকম একজনের খোঁজ পেলেন। বোধিসত্ত্ব তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ভাই, তোমার নাম কি?’
সে বলল, ‘আমার নাম ভীমসেন।’
বোধিসত্ত্ব বললেন, ‘এত সুপুরুষ হয়ে কেন তুমি তাঁতী হয়ে আছ?’
সে বলল, ‘ কি করব দাদা, উপায় নেই।’
বোধিসত্ত্ব বললেন, ‘উপায় আছে, তোমাকে আর তাঁতীর কাজ করতে হবে না।’
তারপর বোধিসত্ত্ব তাকে বোঝালেন যে দুজন মিলে রাজার কাছে যাবেন। ভীমসেন রাজাকে বলবে যে তার মত তীরন্দাজ জম্বুদ্বীপে নেই। রাজা তখন তাকে কাজে বহাল করবেন। বোধিসত্ত্ব ভীমসেনের চাকর হিসেবে থাকবে। যখন সত্যিকারের কাজ আসবে বোধিসত্ত্ব সে কাজ উদ্ধার করবেন।

বোধিসত্ত্ব যেমন যেমন বললেন ভীমসেন ঠিক সেইভাবে চলল। রাজা তাকে দু হাজার টাকা মাস মাইনের চাকরি দিলেন। যখন যেমন কাজ পড়ে তখন বোধিসত্ত্ব তা করে দেন।
তিছুদিন পরে বনের একটা বাঘ মানুষখেকো হয়ে উঠল। তার অত্যাচারে সবাই অস্থির। রাজা ভীমসেনকে বাঘ মারতে বললেন। ভীমসেন বোধিসত্ত্বকে বলল। বোধিসত্ত্ব তাকে বুদ্ধি দিলেন, ‘দখে আমি যাব না। কিন্তু একটা ফন্দি বলে দিচ্ছি। দু হাজার তীরন্দাজকে তুমি বাঘের গুহার সামনে পাঠাও। নিজে গভরি বনে ঢ়ুকবে না। পাশে ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে থাকবে। বাঘটা বেরোলে লোকে তাকে পিটিয়ে মেরে পেলবে। তুমি তখন ঝোপের ভেতর থেকে একটা লতা নিয়ে বেরিযে এসে বলবে, ‘কে মারল রে! আমি ভেবেছি লতা দিয়ে বেঁধে বাঘটাকে গরুর মতো টানতে টানতে নিয়ে যাব, আর তোরা কি না বাঘটাকে মেরে ফেললি। বল কে মেরেছিস।’ তখন সবাই ভয় পেয়ে যাবে। তোমাকে বলবে, ‘প্রভু, দয়া করে রাজাকে এ কথা বলবেন না।’ এদিকে রাজা জানবে তুমিই বাঘ মেরেছ।’
বোধিসত্ত্বের পরামর্শে ভালো ফল হল। ভীমসেন বিস্তর টাকাকড়িও পেল। কিছুদিন পরে বুনো মোষ মারার পালা এল। সে যাত্রাও ভীমসেন বোধিসত্ত্বের বুদ্ধিতে সফল হল। কিন্তু টাকাকড়ি আর মান সম্মান পেয়ে ভমিসেনের মাথা বিগড়ে গেল। সে বোধিসত্ত্বকে অবহেলা করতে লাগল। তাকে খারাপ খারাপ কথা বলল।

কিছুদিন পর বারাণসী আক্রমন করল এক শত্রু রাজা।  রাজা আবার ভীমসেনকে তলব করলেন। ভীমসেন ভাল, আমি নিজেই শত্রু শেষ করব।’ কিন্তু বোধিসত্ত্ব পের পেলেন ভীমসেন একা গেলে মারা পড়বে। কাজও হাসিল হবে না। তখন বোধিসত্ত্বও রথের পিছনে উঠলেন।

যুদ্ধক্ষেত্রে ঢুকে ভমিসেনর বীরত্ব কর্পুরের মতো উড়ে গেল। ভয়ে সে যায় যায়। বোধিসত্ত্ব তখন তাকে হাতির পিঠ থেকে নামিযে বাড়িতে ফেরৎ পাটিযে দিলেন। আর বীর বীক্রমে শত্রুরাজাকে আক্রমন করলেন। শেষে তাকে বন্দী করে নিয়ে এলেন। এবার সকলে বোধিসত্ত্বের নামে জয়ধ্বনি করতে লাগল্ রাজাও জানলেন প্রকৃত বীর করে।

এই জাতকের মর্মকথা হলঃ নিজের গরিমা মূর্খে প্রচার করে।

0 coment�rios: