চোর ধরা

একদিন এক মহাজন এসে বীরবলের কাছে কেঁদেকেটে বলল, ‘হুজুর, আমার মোহরের পুঁটলি কাল রাতে চুরি হয়ে গেছে। আমিও আমার চারজন চাকর ছাড়া আমার বাড়িতে কেউ ছিল না, হুজুর।’
বীরবল বললেন, ‘তাহলে তাদের একজন কেউ নিয়ে থাকবে!’
‘তারা কেউ স্বীকার করছে না হুজুর। সকলেই নেয়নি বলছে।’
‘বেশ, আমার কাছে তাদের নিয়ে আসো।
যদি ওদের মধ্যে থেকে কেউ নিয়ে থাকে অবশ্যই তা ফেরত পাবে কথা দিচ্ছি। এখনি ওদের চারজনকে এখানে নিয়ে এসো।’
মহাজন ছুটতে ছুটতে গেল তার বাড়িতে এবং সেই চাকরকে এসে বীরবলের সামনে হাজির করল। সবাই ঈশ্বরের দিব্যি দিয়ে বলল, তাদের একজনও কেউ মোহরের পুঁটলি নেয়নি। ‘আমরা মোহরের পুঁটলি কোথায় ছিল তাই জানি না।’ তারা বলল।

বীরবল বললেন, ‘ভাল কথা। আমি একবার হিমালয় গিয়েছিলাম। হিমালয়ের এক যোগী আমাকে একবার কয়েকটি জাদুদন্ড দিয়েছিলেন। সবগুলি একদম সমান মাপের। এক একটি তোমাদের প্রত্যেককে দিচ্ছি। যে ব্যক্তি চোর, তার লাঠিটি কাল সকালে লম্বায় একটু বড় হবে-- বড়জোড় দু’আঙুল। আজ রাত্রে ওই এক একটি লাঠি নিয়ে তোমরা চারজন চারটি ঘরে দিয়ে শোবে। যদি তোমরা কেউ নিয়ে না থাকো তবে জাদুদন্ড একটুও বড় হবে না।’

যেমন কথা তেমনি কাজ। চারজন চাকর চারটি জাদুদন্ড নিয়ে সেই রাত্রের মতো গেল নিজ নিজ ঘরে। কিন্তু যে ব্যক্তি প্রকৃত চোর, তার আর ঘুম আসে না। তখন সে করল কী, একখানা ছুরি যোগার করে তার লাঠির ডগা থেকে আঙুল দুই কেটে বাদ দিল। লাঠি যদি সত্যিই একটু বড় হয়, তাহলে ওইটুকুই বড় হবে। বীরবল দু’আঙুল বড় হবে বলেছেন।

সকালবেলা লাঠিগুলি মাপতে দিয়ে দেখা গেল, একটি লাঠি আঙুল দুই ছোট। বীর বল সেই চোরের দিকে একবার তাকালেন। তারপর কোতোয়ালকে ডেকে কানে কানে কী যেন বললেন!

কোতোয়াল এসে চোরকে ধরতেই চোর সেই পুঁটলির খোঁজ বলে দিতে বাধ্য হল। কিন্তু শাস্তি পাওয়ার আগে সে প্রশ্ন করল, ‘আপনি বলেছিলেন লাঠিটা বড় হবে। কিন্তু ছোট হয়ে গেল যে? ক্ই বড় তো হল না?’

বীরবল বললেন, ‘ওরে মূর্খ, ওরে বদমাশ, যে জাদুতে লাঠি বড় হয়, সেই জাদুর গুণেই তুই লাঠিটা কেটেছিস! এখন মানে মানে যে মোহরের পুঁটলিটি ফেরত দিয়েছিস সে-ই যথেষ্ট।’

Previous
Next Post »
0 মন্তব্য