কার মনে কি ভাবনা আছে

রাজসভায় অনেকেই সম্রাটের চাটুকার ছিলেন, তবে সম্রাট তাঁদের বিশেষ পছন্দ করতেন না। অনেক সময়ে তাঁদের অহেতুক তোষামোদ সম্রাটকে বিরক্ত করে তুলত। তিনি মনে মনে খুব রাগ করতেন।

একদিন সম্রাট সহসা পরিষদগণের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলেন, ‘আপনাদের মধ্যে কেউ বলতে পারে ঠিক এই মুহূর্তে কার মনে কী ভাবনা আছে? যদি ঠিক উত্তর দিতে পারেন সকলেই পুরস্কৃত হবেন।’

মনের অগোচরে পাপ নেই, সুতরাং অনেকেই যে একটু অস্বস্তি বোধ করলেন। কারও কারও মুখ ভয়ে বিবর্ণ হয়ে এল। কিন্তু কেউ মুখ তুলে একটি কথা বলতে সাহস পেলেন না। সাঠিক উত্তর দিলেও সম্রাট পছন্দ করনে কী? সম্রাটের কথা শুনে সকলে শঙ্কিত মনে এ ওঁর মুখের  দিকে তাকচ্ছেন। যখন কারও মুখ থেকে কোনও উত্তর পেলেন না তখন বাদশা গম্ভীর হলেন।

বাদশা এবার মুখ ফেরালেন বীরবলের দিকে। বীরবল তখন সবিনয়ে প্রশ্ন করলেন, ‘সম্রাট, আমি কি এক একজনের মনের কথা আলাদা আলাদা করে বলব, না সকলের মনের কথা এক কথাতেই বলব? আপনি যেটা পছন্দ করবেন সেটাই হবে।’

সম্রাট হাসিমুখে বললেন, ‘যদি এক কথাতেই বলতে পারে তাহলে মন্দ কী?’ সভাস্থ সকলে ভয়ে ও অস্বস্তিতে কাঠ হয়ে গেল। সকলের মুখে চোখে ভয়ানক উৎকন্ঠা ও ভয়। বীরবলকে বিশ্বাস নেই, কী বলতে কী বলে বসেন, কেউ জানে না। হয়েতো্ অপমানে সকলের মাথাই হেঁট হবে, হয়তো সকলেই হয়ে উঠবে ঘৃনার পাত্র। হয়তো আজ থেকে সকলেই সম্রাটের কাছে হেয় প্রতিপন্ন হবে।

বীরবল বললেন, ‘এখানে যাঁরা উপস্থিত রয়েছেন, তাঁদের সকলের মনে একটিমাত্র কথাই বুঝতে পারছি জাঁহাপনা!’
অনেকের কপালে এর মুখে ভয়ে শীতকালেও ঘাম বেরিয়ে গেল। সবাই যেন ভীষণ এক সংকটের সামনে দাঁড়িয়েছেন, প্রতি মুহূর্ত গুনছেন সবাই। রাজসভা নিস্তব্ধ। যেন সুঁচ পড়লেও শব্দ শোনা যাবে।

বীরবল ভাবলেন, এই হল ঠিক এই মুহূর্ত!  তখন তিনি হাসতে হাসতে বললেন, ‘সম্রাট, আকাশ- সূর্য-চন্দ্র যতদিন পৃথিবীতে থাকবে ততদিন আপনার রাজ্যে আনন্দ, মহিমা ও কল্যাণ বিরাজ করুক, এই হল বর্তমানে সকলের মনের কথা। এছাড়া কী হতে পারে হুজুর?’

সকলের দম আটকে এসেছিল এতক্ষণ। এবার হঠাৎ চারদিক ধন্য ধন্য পড়ে গেল। বীরবল যেন তাঁদের সবাইকে ম্যাজিক দেখিয়ে দিলেন। সকলে বাহবা বাহবা দিতে লাগল বীরবলকে।


Previous
Next Post »
0 মন্তব্য