দয়ালু বাদশাহ

সিরিয়া দেশের এক বাদশাহ ছিলেন।
খুবই দয়ালু, নীতিবান ও ধর্মভীরু এক বাদশাহ। তিনি প্রজাদের খুব ভালোবাসতেন। প্রায় প্রতিদিন ছদ্মবেশে নগরভ্রমণে বেরোতেন তিনি। লুকিয়ে লুকিয়ে প্রজাদের সুখ দুঃখের খবর নিতেন।
একদিন ভোর বেলা।
এক মসজিদের সামনে এসে দেখেন, দুইজন ভিক্ষুক মেঝেতে শুয়ে আছে। নিদারুণ শীতের রাত্রে তারা ভালোমতো ঘুমাতে পারেনি। তাদের না ছিল কম্বল, না ছিল লেপ-তোষক। তাদের একজন অন্যজনকে বলছে-- আমাদের দেশের বাদশাহ কতই-না আমাদে প্রমোদে  হাসিখেলায় দিন কাটাচ্ছেন। আমাদের মতো গরিব প্রজাদের খবর কি তিনি রাখেন? আমরা প্রতিদিন কতই না কষ্ট করছি। রাজা কি তার খবর রাখেন?
আরেকজন বলল-- একদিন রাজাকে এইভাবে রাত্রিযাপন করানো উচিৎ। তাহলে তিনি বুঝতেন, পরিবের কত দুঃখ।
লোক দুজন তারপর বাদশাহকে নিয়ে আলোচনা সমালোচনা শুরু করল। ছদ্মবেশে বাদশাহ সব শুনলেন। সমালোচনা একমসময় একসময় এমন তীব্র হয়ে উঠল যে বাদশাহ আর বেশিক্ষণ সেখানে দাঁড়াতে পারলেন না। তিনি চলে গেলেন।
ক্রমে সকাল হল।
আকাশ রাঙা করে সূর্য উঠল।
মানুষজন জেগে উঠল। শুরু হল সংসারের কাজ। বাদশাহ যথারীতি সিংহাসনে আরোহন করলেন। তারপর ডেকে পাঠালেন সেই দুই ভিক্ষুককে। তারা ভয়ে ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে দরবারে এসে হাজির। বাদশাহ তাদেরকে সিংহাসনের পাশে বসতে বললেন। মূল্যবান খাবার দাবার করালেন। টাকাকড়ি ও পোশাক-আশাক ‍উপহার দিলেন।
ভিক্ষুক দুজন তো অবাক!
কোন্‌ বাদশাহর মুখ দেখে আজ আমাদের ঘুম ভাঙল আমাদের! কোন আলো আজ লাগলো চোখে। ভিক্ষুক দুজন কাতরভাবে জানতে চাইল-- বাদশাহ, হঠাৎ করে আমাদের প্রতি এই অনুগ্রহের কারণ কী?

বাদশাহ হাসতে লাগলেন প্রফুল্ল গোলাপের মতো। বললেন-- আমি তেমন কোন বাদশাহ নই যে রাজত্বগৌরবে আমি গর্বিত। আমার প্রজাদের ব্যাপারে আমি উদাসীন নই। সেইজন্যে তোমাদের দুঃখ-দুর্দাশা দূর করলাম। আজ থেকে তোমরা আমার বন্ধু। তোমরা গতরাত্রে আমারকে নিয়ে সমালোচনা করছিলে। আমি নাকি দরিদ্র প্রজাদের খোঁজ খবর রাখি না।

ভিক্ষুক দুইজন বাদশাহ’র এই কথায় ভারি লজ্জিত ও অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল। বাদশাহ’র পায়ে লুটিয়ে পড়ে তারা ক্ষমা প্রার্থনা শুরু করল।
বাদশাহ বললেন-- না, ক্ষমা প্রার্থনার কিছু নেই। আমি সিংহাসনে বসেছি প্রজাদের স্বার্থরক্ষার জন্যই। আমিও একজন দাস। আমি শুধু আমার কর্তব্য পালন করছি। এর বেশিকিছু নয়। আমি তোমাদের দুঃখ দুর্দশা দূর করতে পেরেছি-- এটাই আমার সান্ত্বনা।
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য