হেলিবু মঙ্গোলিয়া

সে অনে-এ-এ-এ-ক কাল আগেকার কথা...
এক ছিল শিকারি,নাম তার হেলিবু।তার গায়ে ছিল সিংহের মত শক্তি,বুকে ছিল বজ্রের মত সাহস আর মনটা ছিল বৃষ্টির মত স্বচ্ছ।যে গাঁয়ে সে থাকতো সেখানকার সবাই তাকে খুব পছন্দ করত,হেলিবুও সবাইকে ভারি ভালবাসতো।সারাদিন ধরে যা শিকার করতো তার বেশিরভাগই দিয়ে দিত অসুস্থ আর গরীব প্রতিবেশীদের।গাঁয়ের সবার বিপদে সবার আগে যাকে পাশে পাওয়া যেত,তার নাম – হেলিবু।
যখনকার কথা বলছি,মঙ্গোলিয়া ঘিরে তখন দাঁড়িয়ে ছিল চারটে বিশাল পাহাড়।শিকার,ফল পাকুড় সংগ্রহ - এইসব কাজে সবাই নীল পাহাড়,হলুদ পাহাড় আর লাল পাহাড়ে যেত,কিন্তু সবুজ পাহাড়ে ভুলেও না,কক্ষণো না।আর যাবেই বা কী করে – সবুজ পাহাড়ে যে স্বয়ং ড্রাগন রাজা থাকেন।ড্রাগন রাজার আশীর্বাদেই তো এই গ্রামগুলো শস্য সমৃদ্ধ হয়ে থাকে সারা বছর জুড়ে,ড্রাগন রাজার কৃপাতেই খাবার আর সুখ শান্তির অভাব হয়নি কখনো এই গ্রামবাসীদের।তবে ড্রাগন রাজা কোন তোষামুদি পছন্দ করেন না,তার সবুজ পাহাড়ে গিয়ে কেউ সেখানকার শান্তি নষ্ট করুক - তা ও তিনি চাননা,এই জন্যই সবুজ পাহাড়ের পথ কেউ ভুলেও মাড়ায় না।

সে যাই হোক,ড্রাগন রাজার কথা পরে বলছি।একদিন,আমাদের হেলিবু করল কী...নীল পাহাড়ের কাছে যে গহীন বন আছে,তার একেবারে ভিতরে চলে গেল একটা হরিণ তাড়া করতে করতে।হরিণটাও যে সে হরিণ না,চার পায়ে তার শব্দের গতি।হেলিবু ক্লান্ত হয়ে পড়ল,শেষে আর চলতে না পেরে একটা গাছের নিচে বসল একটু জিরিয়ে নিতে।বনের ঠান্ডা বাতাসে যেই না তার চোখ দু’টো বুজে এসেছে অমনি তীক্ষ্ন একটা চিৎকারে তার ঘুম ভেঙ্গে গেল - ‘ বাঁচাও...বাঁচাও...’ ।হেলিবু চারিদিক তাকিয়ে কিছু দেখতে পেলনা,খানিকক্ষণ এদিক ওদিক তাকিয়ে আবার বসে পড়ল।সাথেই সাথেই আবার সেই চিৎকার।এবার হেলিবু একটু চিন্তিত হল।আবার খুঁজতে লাগলো সে।শেষে আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখে – একটা চিল উড়ে যাচ্ছে,তার মুখে একটা সোনালী রঙের সাপ...এই সাপটাই তারস্বরে ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে চিৎকার করছে।দেখে হেলিবুর খুব মায়া হল।তখনই সে ধনুকে তীর জুড়ে ছুড়ে মারলো চিলটার দিকে।চিলটা কর্কশ স্বরে ডাকতে ডাকতে উড়ে চলে গেল।সেই ফাঁকে সাপটা তার মুখ থেকে টুপ করে মাটিতে পড়ল, আর পড়ি কি মরি করে এক দৌড়ে পালিয়ে গেল।হেলিবু অবাক হয়ে ভাবতে লাগলো,‘হলোটা কী!!!’

পরের দিন শিকার করতে আবার নীল পাহাড়ে গেল হেলিবু।বনের একটু গভীরে যেতেই টের পেল কারা যেন তার পিছু পিছু আসছে,এদিক ওদিক তাকিয়ে সে দেখে কী – আগের দিনের সোনালি সাপটা,পিছনে আরো প্রায় এক হাজার কালো কালো সাপ,তার পিছু নিয়েছে।হেলিবু অবাক হলেও ভয় পেলনা,ধনুকে তীর জুড়ে সোনালী সাপটার দিকে তাক করে বলে উঠলো, 

‘ পাপিষ্ঠ,কাল তোর জীবন বাঁচালাম,আর আজ সাঙ্গোপাঙ্গো নিয়ে আমাকেই মারতে এসেছিস!আজ আর তোর রেহাই নেই!!! ’
এই শুনে সোনালী সাপটা খিলখিল করে হেসে উঠলো,হেলিবু একটু চমকে গেল,কিন্তু ধনুকের তাক সরালো না।সোনালী সাপটা বলতে লাগলো,

‘ ভয় পেওয়া সাহসী হৃদয় হেলিবু,আমি তোমার ক্ষতি করতে আসিনি।কাল আমার জীবন বাঁচিয়েছ,তাই আজ কৃতজ্ঞতা জানাতে এসেছি।’

হেলিবুর তাও বিশ্বাস হয় না।
- ‘ কৃতজ্ঞতা জানাতে এসেছো হাজার সাপকে নিয়ে?আমি বিশ্বাস করি না। ’
-‘ আসলে হয়েছে কী...’ সোনালী সাপ বলতে লাগলো, ‘আমার তো সবুজ পাহাড়ের বাইরে আসা নিষেধ,কালকে আমি পালিয়ে চলে এসেছিলাম।আর তার পরে তো সব জানোই।সেই জন্য আজ যখন বাবাকে বলেছি তোমাকে কৃতজ্ঞতা জানাতে আসবো,তখন কিছুতেই আমাকে একা ছাড়তে রাজি হলোনা।এই হাজার সাপ আমার দেহ রক্ষী।’

হেলিবু অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করে,
-‘কে তুমি?কে তোমার বাবা?আমার নামই বা জানলে কি করে?’

সোনালী সাপ আবার হাসে,
‘আমি ড্রাগন রাজার মেয়ে... বাবা তোমাকে সাথে করে নিয়ে যেতে বলেছে আমাদের প্রাসাদে।ও-ও-ই সবুজ পাহাড়ে আমাদের প্রাসাদ।তোমার জিনিস পত্র গুছিয়ে নাও শিগিগির,আমরা এক্ষুণি যাবো।’

হেলিবুর বিস্ময়ের ঘোর তখনো কাটেনি।তাহলেও ভয় না পেয়ে সে ভাবলো, ‘গিয়ে দেখেই আসা যাক ব্যাপারটা’ । এই ভেবে তার তীর,ধনুকের তূণ আর শিকারের বাক গুছিয়ে নিল।সোনালী সাপ বলল, ‘এখন আমার পিঠে চড়ে বস’।হেলিবু তাই ই করল।যেই না বসা...অমনি চোখের পলকে তারা পৌছে গেল ড্রাগন রাজার বিশা-আ-আ-ল প্রাসাদের সিংহ দরোজায়।প্রাসাদের ভেতরে ঢুকতে ঢুকতে সোনালী সাপ হেলিবুকে বলতে লাগলো, ‘তোমাকে একটা পরমর্শ দেই।আমার বাবা তোমার উপর খুব খুশি হয়েছেন।এই জন্য তিনি তোমাকে একটা উপহার দিতে চান।আমাদের প্রাসাদে সব মিলিয়ে একশ আটটা ঘর আছে নানা রকম ধন-সম্পদ রাখার জন্য।বাবা তোমাকে সবগুলো ঘরে নিয়ে যাবেন,তোমাকে বলবেন ইচ্ছা মত কিছু একটা তুলে নিতে।তুমি কিন্তু সেসব ছুয়েও দেখবে না।সবগুলো ঘর দেখা শেষে তুমি বাবাকে বলবে তাঁর মুখের ভেতর যে সাদা পাথরটা রাখা আছে ওটাই তোমার চাই।ওটা পেলে তোমার শিকারে খুব সুবিধা হবে,কারণ ওই পাথরটা মুখে রাখলে সব ধরণের পশুপাখির কথা বুঝতে পারবে।বুঝেছ?’

হেলিবুর তখন আর অবাক হওয়ার ক্ষমতাও নেই।সে মাথা নাড়লো।

কথা বলতে বলতেই তারা পৌছে গেল ড্রাগন রাজার দরবারে।কৃতজ্ঞ রাজা হেলিবুকে দেখামাত্র বুকে জড়িয়ে ধরলেন।কুশল বিনিময় হয়ে গেলে পরে রাজা তাকে নিয়ে খেতে বসলেন।সে খাবারের বর্ণনা দেওয়া আমার সাধ্য নয়,শুধু এইটুকু বলি হেলিবুতো হেলিবু,তাদের গ্রামের আশেপাশের কোন মানুষ সাতপুরুষে অমন সুস্বাদু খাবার চোখেও দেখেনি,খাওয়া তো দূরের কথা!খেতে খতে রাজা হেলিবুর কথা শুনলেন,তার গ্রামের কথা,পরিবারের কথা,শিকারের কথা...আরো কত কী!

খাওয়া শেষ হলে রাজা হেলিবুকে বললেন, ‘তুমি আমার মেয়ের জীবন বাঁচিয়েছ,তোমার ঋণ শোধ করা সম্ভব নয়।তারপরেও আমার বিশাল রত্নাগার থেকে তোমাকে একটা উপহার দিতে চাই,আমার কৃতজ্ঞতার স্মৃতি হিসেবে।তোমাকে রাজি হতেই হবে,নাহলে ভীষণ কষ্ট পাবো।’

রাজার আন্তরিক অনুরোধে হেলিবু না করতে পারলো না,রাজি হয়ে গেল।রাজা তাকে নিয়ে গেলেন তার রত্নাগারে।প্রথমেই স্বর্ণাগার।সেখানে হাজার হাজার কোটি কোটি সোনার পিণ্ড রাখা,এত সোনা কোন মানুষ কোনদিন চোখে দেখেনি।কিন্তু হেলিবুর কোন ভাবান্তর নেই,তার মনে আছে সোনালী সাপের উপদেশ – রাজার মুখে রাখা পাথর চাইতে হবে।হেলিবুকে নির্বিকার দেখে রাজা তাকে অন্য একটা ঘরে নিয়ে গেলেন,সেখানে খালি হীরা আর হীরা...ওগুলো এতই উজ্জ্বল যে হেলিবু দুহাতে চোখ ঢেকে ফেলতে বাধ্য হল।কিন্তু সে কিছুই চাইল না।রাজা একটু অবাক হলেও কিছু বললেন না।এরপরে একে একে চুনীর ঘর,পান্নার ঘর,মুক্তার ঘর...একশ আটটা ঘরই দেখা শেষ হয়ে গেল,তবুও হেলিবু নির্বিকার।রাজা দারুন অবাক হয়ে শুধালেন, ‘ সে কী হেলিবু!আমার এত এত ধন সম্পদ...আর তোমার এর মধ্যে থেকে কিছুই পছন্দ হল না!আমি তোমাকে কী দিয়ে সন্তুষ্ট করতে পারি?বল আমাকে।’

হেলিবু লাজুক হেসে বলল, ‘ছি মহারাজ!এ কথা বলে লজ্জা দেবেন না।আসলে হয়েছে কী...আপনার সব সম্পদ দেখলাম।সেগুলো মূল্যবান সন্দেহ নেই,কিন্তু আমার মত এক শিকারি সেসব দিয়ে কী ই বা করবে!’
‘তাহলে?’ – রাজা জিজ্ঞাসা করলেন।
-‘মহারাজ।একটি জিনিস পেলেই আমার আশা পূরণ হবে,আপনার মুখের ভেতরে রাখা সাদা পাথরটা।শুনেছি ওটা নাকি অদ্ভুত যাদু পাথর,আমার শিকারের কাজে অনেক সাহায্য করবে।’

ড্রাগন রাজা চুপ হয়ে গেলেন।রাজাকে নির্বাক দেখে হেলিবু চিন্তিত হয়ে পড়লো।
-‘মহারাজ!আমি কি অন্যায় কিছু দাবি করেছি?তাহলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।’
-‘না না হেলিবু...তোমার কোন অপরাধ হয়নি।আসলে এই পাথরটা অনেক কাজের সন্দেহ নেই,তবে অনেক বিপজ্জনক।’
-‘তাতে অসুবিধে নেই মহারাজ,আমি বিপদকে ডরাই না।’

হেলিবুর সাহস রাজাকে মুগ্ধ করেছিল আগেই,এখন আবারো করলো।রাজা খুশি হয়ে তার মুখের ভেতর থেকে সাদা পাথরটা বের করে হেলিবুকে দিলেন।
-‘শোনো হেলিবু,এই পাথর মুখে রাখলে তুমি সব পশুপাখির কথা বুঝতে পারবে।এতে তোমার শিকার করতেও অনেক সুবিধা হবে।তবে সাবধান,এই পাথরের কল্যানে তুমি যা কিছু জানবে তা কারো কাছে বলবে না।বললেই সাথে সাথে তুমি পাথর হয়ে যাবে।মনে রেখো...কারো কাছে বলতে পারবে না’

হেলিবু খুশি হলো খুব,রাজাকে অনেক ধন্যবাদ দিয়ে সে নিজের গাঁয়ে ফিরে এলো।

এর পর থেকে হেলিবুর জন্য শিকার করা অনেক সহজ হয়ে গেল।এমনকি অনেক ছোটখাটো বিপদের পূর্বাভাসও সে পেয়ে যেত পশুপাখির কথা থেকে,গাঁয়ের লোকেরাও তাই অনেক বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেল,যদিও আসল রহস্যটা কেউ জানতো না।

একদিন সকাল বেলা হেলিবু শিকারে বেরিয়েছে।হঠাৎ একটা ফিসফিসানি শুনে আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখলো কী...একদল বুনো হাঁস উড়ে যাচ্ছে,তাদের কথা ভালো করে শুনতে কান পাতলো হেলিবু-
-‘তাড়াতাড়ি যেতে হবে,নাহলে সব না খেয়ে মরবো’
-‘হুমম...ঠিক বলেছো...নদীর পাড় ভাংতে বেশি দেরি নেই,দু’দিনের মধ্যেই সব তলিয়ে যাবে...তখন খাবার বলতে আর কিছুই থাকবে না।’

হাঁসেদের কথা শুনে হেলিবু খুব চিন্তায় পড়ে গেল,সারাদিন দারুন ভাবনায় শিকারেও মন বসলো না।তাড়াতাড়ি গাঁয়ে ফিরে সে সবাইকে ডেকে বললো গ্রাম ছেড়ে নিরাপদ জায়গায় যেতে।শুনে তো সবাই অবাক!গাঁবাসীরা ভাবলো হেলিবু বোধহয় পাগল হয়ে গেছে।বুড়ো মোড়ল কাশতে কাশতে বললো,
-‘বাবা হেলিবু,তুমি আমাদের অনেক উপকার করেছো সন্দেহ নেই।কিন্তু এখন এসব কী বলছো?নদী কেন আমাদের গ্রাম ভাসিয়ে নিয়ে যাবে?এমন কোন লক্ষণ তো দেখি না।আর তাছাড়া এখন ফসল তুলবার সময়,এখন কীভাবে গ্রাম ছেড়ে যাওয়া সম্ভব!তুমি বরং ঘরে গিয়ে ঘুম দাও,মাথা ঠান্ডা করো।’

হেলিবু বুঝলো,সর্বনাশের আর বাকি নেই।দারুন চিন্তা নিয়ে সে ঘরে ফিরে এল।রাতে ঘুম হলোনা তার,কী করবে - এই ভাবনায় সারারাত ছটফট করলো।সবকিছু খুলে না বললে গাঁয়ের সবাই মরবে,আর সব খুলে বললে সে মরবে।অনেক ভেবে হেলিবু ঠিক করলো,যা হয় হবে...তাও সে সব কিছু খুলে বলবে।সবাইকে বাঁচাতে গিয়ে যদি তার প্রাণ যায়,সে না হয় গেলই।

সকাল হতেই হেলিবু গাঁয়ের সবাইকে ডেকে পাঠালো।বুড়ো মোড়ল এলে পরে সে সবিস্তারে সবকিছু বলা শুরু করলো...সোনালী সাপের কথা...ড্রাগন রাজার উপহার...বুঁনো হাঁসেদের কথাবার্তা – সবকিছু।হেলিবু যখন এসব কথা বলছিল,তখন তার পা থেকে একটু একটু করে পাথর হতে শুরু করেছিল,পুরোটা বলা হতেই তার মাথাটাও পাথর হয়ে গেল।খানিক আগে যে হেলিবু ছিল জীবন্ত,এখন সে একটা পাথরের মূর্তি।বুড়ো মোড়ল আক্ষেপ করে বললো,
-‘হায়!আমার ভুলের কারণে আজ হেলিবুর এই দশা!’ 

সবাই দারুন শোকে কাঁদতে লাগলো।

একটু ধাতস্থ হয়ে মোড়ল বলল, ‘ আমরা হেলিবুর কথামতই কাজ করবো,প্লাবন আসার আগেই আমরা হলুদ পাহাড়ে চলে যাবো,সবাই জিনিসপত্র গুছিয়ে নাও।’

কিছুক্ষণের মধ্যেই গাঁয়ের সবাই রওনা হয়ে গেল।তারা যখন হলুদ পাহাড়ের কাছাকাছি চলে এসেছে,তখনই দারুন ঢল তাদের গ্রামে আঘাত করলো।হাপুস নয়নে কাঁদতে কাঁদতে তারা পাহাড়ের দিকে এগোতে লাগলো।পাহাড়ের একেবারে চূড়ায় যখন তারা পৌছালো,দূরে নিজেদের গ্রামের দিকে তাকিয়ে বুড়ো মোড়ল দেখলো,হেলিবুর পাথর মাথাটা তখনো পানির উপরে দেখা যাচ্ছে।

ঢল নেমে গেলে গাঁয়ের সবাই ফিরে এলো।আবার নতুন করে ঘর বাঁধলো সবাই।সব কিছুই আগের মত হয়ে এলো...সুখে শান্তিতে ভরে উঠলো ঘরগুলো।রইলোনা শুধু হেলিবু।স্মৃতি হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল তার পাথর হয়ে যাওয়া শরীরটা।গাঁবাসী সবাই ঠিক করলো,হেলিবুর স্মৃতি তারা হারিয়ে যেতে দেবে না।সেই দারুন বিপদকালে তাদের সহায় হয়েছিল হেলিবু আর আশ্রয় হয়েছিল হলুদ পাহাড়।তাই সবাই মিলে হেলিবুর পাথর শরীরটাকে নিয়ে হলুদ পাহাড়ের একেবারে চূড়ায় রেখে এল।

কথিত আছে হেলিবুর সেই মূর্তিটা এখনো হলুদ পাহাড়ের উপরে রাখা আছে।প্রতিদিন সূর্যোদয়ের সাথে সাথে হেলিবুর বীর মূর্তি মঙ্গোলিয়াবাসীকে আশীর্বাদ দান করে,আর সূর্যাস্তের সময় দেয় অভয়।হেলিবুর এই অপরিসীম সাহস আর বীরত্বে্র কাহিনী আজো মঙ্গোলিয়ার লোকেরা শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার সাথে স্মরণ করে।
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য