গেঁয়ো ইঁদুর ও শহুরে ইঁদুর

এক গেঁয়ো ইঁদুর একটি যবখেতে বসবাস করত। সে একটি বাসা বানায় এবং তা দুটি যব গাছে ঝুলিয়েরাখে। বাসাটি ছিল খুবই ছোট এবং বেশ হালকা। গেঁয়ো ইঁদুরটি যব ও অন্যান্য গাছের মূল খেত। শহর থেকে একটি ইঁদুর গেঁয়ো ইঁদুরটিকে দেখতে এল। শহুরে ইঁদুরটি ছিল খুবই চটপটে এবং চতুর। তার বাসা ছিল শহরের একটি বড় বাড়িতে। গেঁয়ো ইঁদুরটি শহুরে ইঁদুরটিকে যব মাঠে ডিনার খেতে দিল। সে খাবারের জন্য উত্তম বার্লি ও মূল আনল। কিন্তু শহুরে ইঁদুরটি ডিনার উপভোগ করল না। সে বলল, ‘আমার গরিব বন্ধু, শহরে আমাদের এর চেয়ে অনেক ভালো খাবার আছে। আমি কোথায় থাকি তা দেখতে অবশ্যই তুমি আসবে। আমি তোমাকে সব ধরনের ভালো জিনিসই খেতে দেব।’ শহুরে ইঁদুরটি গেঁয়ো ইঁদুরটিকে সঙ্গে নিয়ে তার বাড়ি গেল। তারা একটি বড় বাড়িতে গেল।
শহুরে ইঁদুরটি বলল, ‘আমি এখানে থাকি।’ সে দেয়ালে একটি ছোট্ট গর্ত দেখাল। ‘ওটি হচ্ছে আমার সামনের দরজা। এসো এবং দেখ আমার বাড়ি।’ শহুরে ইঁদুরটি দেয়ালের গর্তে ঢুকে গেল। গেঁয়ো ইঁদুরটি তা অনুসরণ করল। তারা একটি বড় কক্ষে গেল। ‘এটি হচ্ছে বৈঠকখানা,’ শহুরে ইঁদুরটি বলল। মাঝেমধ্যে আমি আলমারিতে ঘুমাই। আমরা অবশ্যই ভোজনকক্ষে খাব।’ তারা অন্য একটি কক্ষে গেল। সেখানে ছিল একটি লম্বা টেবিল। ‘লাফ দিয়ে ওপরে ওঠো,’ শহুরে ইঁদুরটি বলল। ‘তুমি যা পছন্দ করো, তা-ই খেতে পারো।’ শহুরে ইঁদুরটি টেবিলের পায়া বেয়ে টেবিলের ওপর উঠল। গেঁয়ো ইঁদুরটিও তা-ই করল। গেঁয়ো ইঁদুরটি টেবিলে থালাভর্তি রুটি, মাখন, জেলি, মধু ও পনির দেখতে পেল। সেখানে কিশমিশপূর্ণ কেক এবং বিভিন্ন রকম বিস্কুট ছিল। গেঁয়ো ইঁদুরটি এক চুমুক মধু খেল। তারপর সে ঠুকরিয়ে ছোট্ট এক টুকরো কেক খেল। এমন ভালো জিনিস সে কখনো খায়নি। হঠাৎ দরজা খুলে গেল। ইঁদুর দুটো টেবিল থেকে লাফিয়ে পড়ল এবং এর নিচে লুকিয়ে গেল। গেঁয়ো ইঁদুরটি খুবই ভয় পেল।

একজন মহিলা প্রবেশ করলেন। তিনি টেবিলে আরেকটি কেক রাখলেন। তিনি ইঁদুর দুটোকে দেখেননি এবং চলে গেলেন। অনেকক্ষণ পর শহুরে ইঁদুর ও গেঁয়ো ইঁদুর দুটো পুনরায় টেবিলে উঠল। গেঁয়ো ইঁদুরটি অন্য এক টুকরো কেক ঠুকরিয়ে খেতে লাগল। তারপর তারা কুকুরের ঘেউ ঘেউ শব্দ শুনতে পেল। কুকুরটি দৌড়ে ঘরে ঢুকল এবং টেবিলটির চারদিকে গন্ধ শুঁকতে লাগল। ইঁদুরগুলো একটি বড় কেকের পেছনে লুকিয়ে গেল। মহিলাটি পুনরায় ফিরে এলেন। তিনি বললেন, ‘দুষ্টু কুকুর, তুমি অবশ্যই কেকটি চুরি করবে না।’ তিনি কুকুরটিকে ঘর থেকে তাড়িয়ে দিলেন। শহুরে ইঁদুরটি পুনরায় খেতে শুরু করল। ‘আমরা অবশ্যই ক্ষুধার্ত,’ সে বলল, ‘আমি কুকুরকে ভয় করি না, কিন্তু এখানে একটি বিড়ালও আছে।’ ‘না না, আর না,’ গেঁয়ো ইঁদুরটি দৌড়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল। সে বলল, ‘না, তোমাকে ধন্যবাদ। আমি বাড়ি যাচ্ছি। আমাকে অবশ্যই যেতে হবে। এই বাড়ি আমার জন্য খুবই বিপজ্জনক। আমার বাড়ি ছোট এবং আমার খাবার সাদামাটা কিন্তু আমি শান্তিতে এবং নিরিবিলি বসবাস করতে পারি।’

প্রথমআলো পত্রিকা থেকে সংগ্রহীত
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য