Home Top Ad

Responsive Ads Here

Search This Blog

এক দেশে ছিলেন এক রাজা। তিনি একদিন বিকেলে তার প্রাসাদে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এমন সময় দেখলেন--এক লোক কাঁদতে কাঁদতে রাস্তা দিয়ে যাচ্চে। মাথায় একট ঝুড়ি...

রাজার প্রতিজ্ঞা রক্ষা

এক দেশে ছিলেন এক রাজা। তিনি একদিন বিকেলে তার প্রাসাদে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এমন সময় দেখলেন--এক লোক কাঁদতে কাঁদতে রাস্তা দিয়ে যাচ্চে। মাথায় একট ঝুড়ি।

রাজা এক কর্মচারীকে দিযে তাকে ডাকালেন। লোকটি এল। কাঁদতে কাঁদতে বলল, ‘মহারাজ, আমি এক ঝুড়ি পেঁপে এনেছিলাম আপনার বাজারে। কিন্তু কেই কিনল না। তাই পরিবার নিয়ে আমারকে না খেয়ে থাকতে হবে।’

রাজা ভাবলেন, ‘তাই তো!’ পেঁপে বিক্রি করে সেই টাাকায় এ চাল-ডাল কিনত। পরিবার নিয়ে খেত। এখন কী হবে?’
রাজা কিছুক্ষণ ভাবলেন, ‘কী করা যায়? তারপর কর্মচারীকে বললেন, ‘ওর সব পেঁপে কিনে রেখে রাজকোষ থেকে টাকা দিয়ে দিতে বলো।’ কর্মচারী তাই-করল। লোকটি রাজাকে ধন্যবাদ দিয়ে চাল-ডাল কিনে মনের আনন্দে বাড়ি গেল।
এরপর রাজা ভাবলেন, ‘এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান কী?’ কেউ যদি বাজারে তার জিনিস বিক্রি করতে না পারে, তাহলে তার চলবে কী করে? অনেক ভেবে রাজা পরের দিন গোষনা দিলেন, ‘আজ থেকে আমার বাজারে বিক্রির জন্য আনা কোন জিনিস অবিক্রিত থাকবে না। কেউ না কিনলে আমি কিনে নেব।’

এরপর থেকে বাজারে অনেক লোক আসতে লাগল। দূর-দুরান্ত থেকে লোক আসত। যা অবিক্রিত থাকত তা রাজা কিনে নিতেন।

একদিন এক কুম্ভকার এলন একটা অলক্ষীর মূর্তি নিয়ে। কিন্তু এ মূর্তি কেউ কিনল না। কারণ অলক্ষী ঘরে আনলে লক্ষী থাকে না। তাতে গৃহস্থের অমঙ্গল হয়। শেষে কুম্ভকার এলেন রাজার কাছে। রাজা অলক্ষীর মূর্তিটি কিনে ঘরে যত্ন করে রেখে দিলেন। মন্ত্রীসহ সকলেই এতে বাধা দিলেন। কিন্তু তিনি শুনলেন না।

এদিকে অলক্ষীর মূর্তি থাকায় লক্ষী দেবী রাজবাড়ি চেড়ে চলে গেলেন। একে এক কার্ত্তিক, গণেশ, সরস্বতী সব দেবতাই চলে গেলেন। তাঁদের দেখাদেখি ধর্মদেবও যেতে লাগলেন। তখন রাজা তাঁকে বললেন, ‘ধর্মদেব, আপনি যাচ্ছেন কেন?’
রাজা বললেন, ‘ধর্ম দেব, আমি তো কোন অন্যায় করি নি। আমি আমার প্রতিজ্ঞা পালন করেছি। প্রতিজ্ঞা পালন করা ধর্মের কাজ। সুতরাং অন্য সবাই গেলেও আপনি তো যেতে পারেন না।’


রাজার কথায ধর্মদেব সন্তুষ্ট হলেন। তিনি আর গেলেন না। তিনি তাঁর জায়গায থাকলেন। তখন অন্যসব দেবদেবীও ফিরে এলেন। এভাবে প্রতিজ্ঞারক্ষা করে রাজা ধর্ম পালন করলেন।

0 coment�rios: