Home Top Ad

Responsive Ads Here

Search This Blog

পুরাকালে এক ধার্মিক রাজা ছিলেন্ তাঁর নাম ছির রন্তিদেব। তিনি ছিলেন শ্রীকৃষ্ণের ভক্ত। একবার তিনি ‘অযাচক ব্রত’ গ্রহন করে শ্রীকৃষ্ণের উপাসনা শুর...

রাজা রন্তিদেবের জীবসেবা

পুরাকালে এক ধার্মিক রাজা ছিলেন্ তাঁর নাম ছির রন্তিদেব। তিনি ছিলেন শ্রীকৃষ্ণের ভক্ত। একবার তিনি ‘অযাচক ব্রত’ গ্রহন করে শ্রীকৃষ্ণের উপাসনা শুরু করলেন।

অযাচক ব্রত হচ্ছে, কারো কাছে কিছু চাওয়া যাবে না, এমকি খাদ্য পর্যন্ত না। কেউ যদি ইচ্ছে করে খেতে দেয়, তবে খাওয়া যাবে। কেউ ইচ্ছে করে কিছু দিলে, তা দিয়েই জীবন রক্ষা করতে হবে।
শুরু হলো রাজা রন্তিদেবের অযাচক ব্রত।
একদিন
দুইদিন
তিনদিন
এভাবে আটচল্লিশ দিন কাটল। রাজা রন্তিদেব অনাহারেই রইলেন। তিনি কারো কাছে কিছু খেতে চাননি, কেউ ইচ্ছে করে কিছু খেতেও দেয়নি।
উনপঞ্চাশতম দিনের সকাল।
রন্তিদেবকে একজন কিছু ভাত আর মিষ্টান্ন দিয়ে গেলেন। ‘যাক, এবার তাহলে খাদ্য খেয়ে প্রাণ বাঁচবে।’ --ভাবলেন রাজা রন্তিদেব।
রাজা রন্তিদেব হাত-মুখ ধুয়ে নিলেন। খেতে বসলেন। এমন সময় হঠাৎ উপস্থিত হলেন একটি লোক। যেন মাটি ফুঁড়ে উঠলেন। কঙ্কালসার চেহারা। আবার তাঁর সঙ্গে ছিল একটা কুকুর। কুকুরটার চেহারাও লোকটির মতোই হাড় জিরজিরে। লোকটি রাজা রন্তিদেবকে বললেন,‘পাঁচদিন ধরে কিছুই খেতে পাইনি। আমার কুকুরটাও আমার মতই না খেয়ে আছে। দো করে আমাদের কিছু খেতে দিন।’ লোকটি হাঁপাচ্ছে। কুকুরটি ক্ষধায় ধুকছিল।
রাজা রন্তিদেবের মন কেঁদে উঠল।
আহা! জীবেরা কষ্ট পাচ্ছে!
জীবের মধ্যে যে আত্মরূপে ঊশ্বর বাস করে!
জীবের কষ্ট তো ঈশ্বরের কষ্ট!
রাজা অন্যের কাছে থেকে পাওয়া খাদ্যটুকু লোকটি আর তাঁর কুকুরটিকে দিয়ে দিলেন।
জীবসেবার কী সুমহান দৃষ্টান্ত! 
হঠাৎ ঘটল এক আশ্চর্য ঘটনা। রাজা রন্তিদেব তাকিয়ে দেখেন, সেই ক্ষুধার্ত লোকটি আর কুকুর সামনে নেই। তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে আছেন স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ।
রন্তিদেব লুটিয়ে পড়লেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শ্রীচরণে।
রাজা রন্তিদেবকে আশীর্বাদ করলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। বললেন: রন্তিদেব, তোমার জীবসেবার এ দৃষ্টান্ত অমর হয়ে থাকবে। আসলে ক্ষাধুর্তের রূপ ধরে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এসেছিলেন।

শিক্ষা: জীব সেবাই ঈশ্বর সেবা।

0 coment�rios: