বুদ্ধিমান মন্ত্রী

এই গল্পটি ইরান দেশের।
সেখানকার এক বাদশাহ, নাম তার ফরিদ। বাদশাহ’র ছিল অতি বিচক্ষণ এক মন্ত্রী। খুবই জ্ঞানী লোক। তার দুরদর্শিতা ছিল অসাধারন। বাদশাহ তাকে ভালোও বাসতেন খুব। রাজ্যের যে কোন বিপদ-আপদে এই মন্ত্রী সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন।
একদিন এক ব্যক্তি বাদশাহ’র কাছে গিয়ে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করল।
--হুজুর, আপনার প্রিয় মন্ত্রী ভিতরে ভিতরে আপনার শত্রু। তিনি বহুলোককে রাজকোষ থেকে টাকা ধার দিয়েছেন। শর্ত একটাই--আপনার মৃত্যুর পরে এই টাকা শোধ দিতে হবে। তিনি চান না যে আপনি দীর্ঘজীবী হোন। আপনার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে তার হাতে অনেক অনেক টাকা পয়সা আসবে। কী ভয়ংকর চক্রান্ত--বাদশাহ আপনি একবার ভেবে দেখুন।
বাদশাহ এই কথা শুনে মন্ত্রীর প্রতি অত্যন্ত বিরক্তও ক্ষুদ্ধ হলেন। সময়মতো একদিন তাকে বললেন--
মন্ত্রী, এ কী কথা শুনতে পাচ্ছি? লোকজনদের টাকা ধার দিচ্ছেন অন্যরকম শর্তে, এর উদ্দেশ্য কী? আমি বেঁচে থাকতে আপনি এই টাকা ফেরত নেবেন না, স্পষ্ট বোঝ যাচ্ছে আমার মৃত্যুতেই আপনার যথেষ্ট লাভ। আপনাকে আমার আন্তরিক বন্ধু বলেই জানি। কিন্তু আপনার এ কেমন শত্রুর মতো আচরণ?
-- জাঁহাপনা, আপনি যখন জিজ্ঞেস করলেন তখন আপনাকে সবকতথা পরিষ্কার ভাবেই খুলে বলা উচিৎ। কিছুই গোপন করা উচিৎ নয়। আমি চাই সমস্ত লোকই আপনার মঙ্গল কামনা করুক। কিন্তু যারা আপনার শত্রুপক্ষ, আপনার বিরুদ্ধে কথা বলে, আমি শুধু তাদেরকেই শর্তসাপেক্ষে টাকা দিয়েছি। শর্তটি হচ্ছে-- আপনার মৃত্যু না-হলে টাকা ফেরত দিতে হবে না।

জাঁহাপনা, আপনি নিশ্চয়ই জানেন, টাকা ধার নিয়ে সহজে সেটা কেউ ফেরত দিতে চায় না। সুতরাং আপনার বিরুদ্ধপক্ষ সারাক্ষণই কামনা করবে-- যাতে আপনার মৃত্যু না হয়। যাতে আপনি সুদীর্ঘ জীবন লাভ করতে পারেন। টাকার মমতাতেই তারা আপনার পূর্ণ স্বাস্থ্য ও সুদীর্ঘ জীবন কামনা করবে।
বাদশাহ উত্তর শুনে খুবই সন্তুষ্ট হলেন। মন্ত্রীর বুদ্ধির তারফি করতে লাগলেন। তাকে যথেষ্ট পুরষ্কার দিলেন। আর মন্ত্রীর বিরুদ্ধে যে লোকটা বদনাম করেছে তাকে শাস্তি দিতেও ভুললেন না।
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য