দুই বন্ধু

দেশের নাম খোরাশান। ভারি সুন্দর এক দেশ।
সেই দেশে ছিল দুইজন সাধু ব্যক্তি।
একজন ছিল বেশ মোটাসাটা। খেতে খুব পছন্দ করত। দিনে দুইবার ভালো ভালো পেটপুরে না খেলে তার শান্তি হত না। অন্যজন ছিলেন সম্পূর্ণ আলাদা। শরীর ছিল লিকলিকে। হাড়-জিড়জিরে দেহ। খাওয়াদাওয়া একদম পছন্দ করত না। দুইদিন পরে  একদিন খেত যে।
দুজনেরই আবার খুব ভাল বন্ধুত্ব।
একবার তারা একসঙ্গে দেশভ্রমণে বের হল। পাহাড়-পর্বত ছাড়িয়ে, বন জঙ্গল পেরিয়ে ঘুরে বেড়াতে লাগল তারা। নতুন দেশ, নতুন মানুষ--নিত্যনতুন অভিজ্ঞতা। খুব ভালো লাগছে তাদের। আনন্দে আনন্দে কেটে যাচ্ছিল দিনগুলো।
এইভাবে ঘুরতে ঘুরতে একদিন নতুন এক শহরে এল তারা। শহরে ঢোকামাত্র গ্রেফতার করা হলো তাদের। বাদশাহর সেপাইরা ধরে নিয়ে গেল কাজির দরবারে। বিচারে রায় দেওয়া হল-- এরা গুপ্তচর।
সাধু দুজন বলতে থাকে: আমরা নিরপরাধ, আমাদের কোন দোষ নেই। আমরা দেশে দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছি। আমরা নিরীহ মানুষ। কিন্তু কেউ তাদের কথা শুনল না।
তাদের দুজনকে বন্দি করে রাখা হল একটা চোর-কুঠুরিতে। দরজা বন্ধ করে দেওয়া হল। না-খেতে পেয়ে ওরা যেন মারা যায়-- এর চেয়ে ভয়ংকর শাস্তি আর কী হতে পারে!
কিছুদিন পরে অবশ্য প্রমাণ পাওয়া গেল, সেই দুজন আসলে গুপ্তচর ওনয়। তারা সাধু ব্যক্তি। মনের আনন্দে বেড়িয়েছে দেশ ঘুরতে।
বাদশাহর লোকেরা গেল বন্দিদের মুক্ত করতে। দরজা ভেঙে উদ্ধার করতে হবে ওদের। কিন্তু এতদিনে না-খেয়ে মানুষ তো বেঁচে থাকতে পারে না। নিশ্চয়ই বেঁচে নেই।
দরজা খুলে অবাক হল সেপাইরা। একজন তখনও বেঁচে আছে। যে বেচারা হাড়-জিরজিরে, রোগা-পটকা দেহ সে-ই মারা যায় নি। মোটা-জন পটল তুলেছে। সকলেই অবাক।
তখন একজন জ্ঞানী লোক বলল: এতে অবাক হবার কিছু নেই। মোটা লোকটা মারা যাবে। কারন সে ছিল ভোজনরসিক। খাবার ছাড়া তার একমুহূর্ত চলে না। খাবার না পেয়ে মারা গেছে। কিন্তু শুকনো লোকটা কারাগারে অনশন পালন করেছে।
জ্ঞানীলোকটি তখন সকলের উদ্দেশ্যে বলল: যারা অভাবের মধ্যে দিন কাটায় তারা অভাবকে সহ্য করতে পারে। কিন্তু যারা ভোগবিলাসে জীবন কাটায় তারা সামান্য বিপদেই কাতর হয়ে পড়ে। এমনকি মারাও যায়। ওদের দুজনের ভাগ্যে সেরকম ঘটেছে।
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য