ভীমের পরোপকার

কৌরব ও পান্ডবদের মধ্যে ছিল ভীষণ শত্রুতা। সেই শত্রুতায় কৌরবরা ছলে বলে কৌশলে পান্ডবদের ১২ বৎসর বনবাস ও এক বৎসর অজ্ঞাতবাসে পাঠিয়েছিল।  এই গল্পটি পান্ডবদের বনবাসে থাকার সময়ের। তখন পান্ডবরা থাকতো এক ব্রাহ্মণের বাড়িতে। যে ব্রাহ্মণের বাড়িতে পান্ডবরা থাকতো তার পাশেই একটা গভীর বন ছিল সেই বনে ছিল এক বক রাক্ষস। বক রাক্ষসের প্রতিদিনের খাবার ছিল একজন মানুষ, দুটি মহিস এবং অনেক থালা ভাত। প্রতিদিন গ্রামের একজন একজন করে সেই খাবার দিয়ে আসতে হত বক রাক্ষসের কাছে। একদিন পালা পড়লো সেই ব্রাহ্মণের। ব্রাহ্মণ ও তার পরিবারে কান্নার রোল পড়ে গেল। পান্ডবদের মাতা কুন্তী কান্নার শব্দ শুনে ব্রাহ্মণকে কান্নার কারন জানতে চাইলেন। ব্রাহ্মণ তখন সমস্ত ঘটনা খুলে বললেন। 

কুন্তী সমস্ত ঘটনা শুনে মুচকি হেসে বললেন, ‘আপনি কোন চিন্তা করবেন না, আজ আপনার হয়ে আমার ছেলে ভীম যাবে রাক্ষসকে খাবার দিতে। আমার ছেলে ভীমের একবাহুতেই আছে দশ হাজার হাতির শক্তি।’
কিন্তু ব্রহ্মণ কুন্তির কথায় রাজী হলেন না। ব্রাহ্মণ বলল, ‘এ হয় না, আপনারা আমাদের শরনার্থী। আপনাদের কোন অকল্যাণ করতে পারি না। কারন যে ঐ রাক্ষসের কাছে যাবে সে আর ফিরে আসবে না।’

কুন্তী ব্রাহ্মণকে আশ্বস্ত করে বললেন, ‘আপনি ভয় পাবেন না। ভীম ঐ রাক্ষসকে মেরে তবে ফিরবে। তবে এ কথা কাউকে বলবেন না।’
কুন্তী ব্রাহ্মণকে রাজি করিয়ে ভীমকে পাঠালেন রাক্ষসের কাছে। রাক্ষস তখন তার আস্তানায় ছিল না। ভীম তখন বসে মনের আনন্দে খাবারগুলো খাচ্ছিল। এমন সময় রাক্ষস এসে ভীমকে খাবার খেতে দেখে ভীষণ ক্ষেপে গেল। সে একটা গাছের ডাল ভেঙে তেড়ে এল। তারপর গাছের ডালটা ছুঁড়ে মারল ভীমের দিকে। ভীম মুচকি হেঁসে বাঁ হাত দিয়ে সেটা ধরে ছুঁড়ে ফেলে দিলেন। এতে রাক্ষসটা ক্ষেপে গেল। এবার সে দৌড়ে গিয়ে ভীমকে জাপটে ধরল। ভীম উঠে দাঁড়িয়ে এক আছাড় মারল রাক্ষসটাকে। তারপর খাওয়া শেষ করে রাক্ষসের সাথে লাগল মহাযুদ্ধ। এই মহাযুদ্ধে একবার ভীম গাছ উপড়ে রাক্ষসকে মারে আবার রাক্ষসও গাছ উপড়ে মারে। এভাবে সারারাত যুদ্ধ চলল। ভোর রাতে ভীম রক্ষসটাকে উড়ুড় উপর নিয়ে আছাড় দিলেন। তখন রাক্ষস ভয়ংকর চিৎকার করে প্রাণ ত্যাগ করল, যা গ্রাম থেকেও শোনা গেল। এই চিৎকার শুনে অন্যান্য রাক্ষসরাও প্রাণ ভয়ে বন ত্যাগ করল। 


সকালে যখন গ্রামবাসী দেখল রাক্ষসটি মরে পড়ে আছে তখন গ্রামবাসীর আর আনন্দের শেষ রইল না। যেহেতু ব্রাহ্মণ কথা দিয়েছিলেন ভীমের নাম প্রকাশ করবেন না তাই ব্রাহ্মণ কাউকে বললেন না যে রাক্ষটিকে কে মেরেছে। এইভাবে ভীম অনেক রাক্ষসকে বধ করে অনেক মানুষের উপকার করেছেন।
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য