Home Top Ad

Responsive Ads Here

Search This Blog

ব্রহ্মদত্ত তখন বারাণসীর রাজা। আর বোধিসত্ত্ব তার পুরহিত। বোধিসত্ত্ব দান ধ্যান করতেন, নানা রকম সৎকাজে তিনি দিন কাটাতেন। এই কারণে ব্রহ্মদত্ত তা...

শীল মীমাংসা জাতক

ব্রহ্মদত্ত তখন বারাণসীর রাজা। আর বোধিসত্ত্ব তার পুরহিত। বোধিসত্ত্ব দান ধ্যান করতেন, নানা রকম সৎকাজে তিনি দিন কাটাতেন। এই কারণে ব্রহ্মদত্ত তাঁকে শ্রদ্ধা করতেন। অন্য সব ব্রাহ্মণ ও পন্ডিতদের থেকে বোধিসত্ত্বকে একটু বেশিই খাতির করতেন। যাই হোক, বোধিসত্ত্ব একবার রাজভান্ডার থেকে টাকা চুরির অপরাধে ধরা পড়েন। রাজার সেপাইরা তাকে বেঁধে নিয়ে যাচ্ছিল। রাস্তায় তখন একদল ছেলে বিষধর সাপ নিয়ে খেলা করছিল। সাপের মুখটি গলায় জড়াচ্ছিল। সাপের লেজ ধরে খেলছিল।

ছেলেদের এই বিপজ্জনক খেলা দেখে বোধিসত্ত্ব ভয পেলেন। তাদের সতর্ক করাবার জন্য বললেন, ‘দেখ বাবা, এভাবে সাপ নিয়ে খেলা করো না। সাপ খুব ভয়ঙ্কর। কামড়ালে সঙ্গে সঙ্গে মারা যাবে।’
তারা এ কথা শুনে মোটেই ভয় পেল না। বরং হাসতে হাসতে বলল, ‘ঠাকুর, আমাদের এই সাপটা খুব সভ্য। পোষা সাপ। খারাপ কাজ ভুলেও করে না। তুমি রাজার পুরহিত হয়ে রাজার টাকা চুরি করেছ বলে সেপাইরা তোমাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের এই সাপটা তোমার চেয়ে অনেক ভালো।’

বোধিসত্ত্ব এ কথা শুনে ভাবলেন, ‘সাপকেও লোকে ভদ্র শান্ত বলে যদি সে না কামড়ায়। মানুষের তো কথাই নেই। মানুষ হয়ে জন্মেও আমি গুণ হারিয়েছি। পৃথিবীতে দেখছি শীলতাই শ্রেষ্ঠ গুণ।’

বোধিসত্তকে রাজার কাছে নিয়ে যাওয়া হলে রাজা সেপাইদের জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমরা কাকে ধরে এনেছ?’ সিপাইরা বলল, মহারাজ, এই ব্রাহ্মণ রাজভান্ডার থেকে টাকা চুরি করেছে।’ রাজা বললেন, ‘তাহলে একে নিয়ে গিয়ে উপযুক্ত শাস্তি দাও।’ বোধিসত্ত্ব বললেন, ‘আমি দেখতে চেয়েছিলাম আমি যে সম্মান পেয়ে আসছি তার কারন কি। সে কি আমার বংশ গৌরবের জন্য, নাকি নিজেরই কোন গুণের জন্য। আজ বুঝলাম শীলতার জন্যই আমি সম্মান পেয়েছি।’

এরপর বোধিসত্ত্ব রাজাকে জানালেন যে তিনি আর রাজ্যে থাকতে চান না। বিষয় বাসনার বাইরে যেতে চান। তারপর বোধিসত্ত্ব প্রব্রজ্যা নিলেন।

এই জাতকের মর্মকথা: শীলতাই শ্রেষ্ঠ গুণ।

0 coment�rios: