আমি বড় না ঈশ্বর বড়

একদিন মন্ত্রিসভার মাঝে বাদশা হঠাৎ এক আজগুবি প্রশ্ন করলেন, ‘তিনি বড় না ঈশ্বর বড়? কে বলতে পারে?’ এই কথাটা কানে শুনতে বড় খারাপ লাগে; অন্যান্য মন্ত্রীরা একটু আড়ষ্টভাবে চুপ করে রইলেন। কোন কথা বলতে পারলেন না। বীরবল ফস করে বললেন, ‘সম্রাট! ঈশ্বরের চেয়ে আপনি অনেক, অনেক বড়। তাঁর চেয়ে অনেক শক্তিমান আপনি! আপনি যা পারেন ঈশ্বরের তা সাধ্যও নেই। ঈশ্বর কোনওদিন এমনতর করতে পারবেনও না।’

এহেন মন্তব্য শুনে সবাই অবাক! সম্রাট পর্যন্ত দুঃখিত হয়ে বললেন, ‘তোমার কি মাথা খারাপ হয়েছে বীরবল? তুমি কি বলতে চাও, আমি যা পারি ঈশ্বর তা পারেন না? তুমি আমাকে খোশামোদ করার জন্য সাধারন চাটুকারের মতো আমাকে বড় বলছ নিশ্চয়। কিন্তু তোমার কথা একেবারেই ঠিক না।’
বীরবল বললেন, ‘হ্যাঁ ঠিক!’

বীরবলের প্রতি অন্য কিছু কিছু মন্ত্রীর কিছু বিদ্বেষভাব ছিল। বাদশার বিশেষ স্নেহধন্য হওয়ায় বীরবলকে হেয় করার এই সুযোগে তাঁরা বললেন, ‘অত্যন্ত বাজে কথা। এ হতেই পারে না। সংসারে এমন কিছু নেই যা ঈশ্বরের চেযে বড়, এ পৃথিবীতে এমন কেউ নেই।’

সম্রাট বললেন, ‘নিশ্চয়! এতে কোনও ভুল নেই।’
বীরবল দমলেন না। বললেন, ‘ভুল আছে বইকী! আচ্ছা বলুন তো সম্রাট, আপনি কি কোন ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন নির্বাসন  দন্ড দিতে পারেন?’
সম্রাট উত্তর দিলেন, ‘গুরুতর অপরাধ করলে অবশ্যই পারি বইকী!’
বীরবল বললেন, ‘তকে শুনুন সম্রাট, ঈশ্বরের সেরূপ ক্ষমতা নেই।’
‘ক্ষমতা নেই মানে? কী বলতে চাও তুমি?’
বীরবল জবাব দিলেন, ‘ঈশ্বর এ বিশ্ব-পৃথিবীর সর্বময় কর্তা, তিনি সর্বব্যাপী। সর্বত্র তাঁর অধিকার। সুতরাং গুরুতর অপরাধ করলেও মানুষকে তিনি কোথাও নির্বাসন দিতে পারেন না।’
সম্রাট হাসিমুখে এবার বীরবলের কাছে পরাজয় স্বীকার করলেন। যে যে মন্ত্রী হেয় করাবার জন্য সায় দিয়েছিলেন সেইসব মন্ত্রীর মাথা হেঁট হল।


Previous
Next Post »
0 মন্তব্য