প্রভুভক্ত ভৃত্য

    গোপাল তার চাকরকে ডেকে একদিন বললে দেখ, বাইরের লোকেরা তামাক খাবার জন্যেই আমার বৈঠকখানায় এসে ভিড় করে। এতে অনেক খরচ হয়ে যায়। আমি যখন বাইরের লোকের সামনে তোকে তামাক সেজে আনতে বলব, তুই তখন মোটেই তামাক সেজে আনবি না যে কোনও একটা অজুহাত দেখাবি। যেন তামাক সাজার সময় তোর একেবারেই নেই এমনি ভাব দেখাবি।
    চাকর মাথা নেড়ে বললে, যে আজ্ঞা। আপনি যেমনটি বললেন আমি তেমনটি করব। আপনার কথা শোনাই তো আমার একমাত্র কাজ- কারন আপনি প্রভু, আমি ভৃত্য আমার মনে থাকবে।
    কিছুক্ষণ পরে গোপালের বৈঠকখানায় রাজা কৃষ্ণচন্দ্র উপস্থিত হলেন। গোপাল চাকরকে ডাক দিয়ে বললে, ওরে বিশে, তাড়াতাড়ি তামাক সেজে আন। আমরা এখানে বসে আছি। কিন্তু বিশে চাকর আসে না।
    অনেক ডাকডাকির পরেও বিশে বৈঠকখানা ঘরের মধ্যে না আসায় গোপাল ছেলেকে দিয়ে চাকরকে বৈঠকখানা ঘরে ডেকে আনিয়ে ধমক দিয়ে বললে, সেই কখন থেকে তোকে তামাক সেজে আনতে বলছি, শুনতে পাসনি? কানা না কি? চাকর রাজার দিকে তাকিয়ে গোপালকে বললে, গোয়ালঘরে ছিলুম, তাই ডাক শুনতে পাইনি। এখন কি অজুহাত দেখাব তাই বলুন। টিকে নেই, না, তামাক নেই? না মা ঠাকরুন ডাকছেন? কি বলে তামাক সাজব না। বেজায় অপ্রস্তত হল গোপাল, তার কিছুই উত্তর করতে পারল না।
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য