ক্ষমাগুণ জাতক‬

পুরাকালে ব্রম্মদত্ত যখন বারাণসি রাজা ছিলেন, তখন বোধিসত্ত্ব রাজার অমাত্যকুলে জন্ম গ্রহন করেছিলেন। তিনি বয়ঃপ্রাপ্তির পর উপযুক্ত বিদ্যা শিক্ষা ও শাস্ত্রজ্ঞান লাভ করে রাজাকে ধর্ম ও অর্থ বিষয়ে উপদেশ দান করতেন।
একাবার রাজার এক অমাত্য অন্তঃপুরের এর রমণীর প্রেমে আসক্ত হয়ে রাজ অন্তঃপুরের বিশুদ্ধতা নস্ত করেছিলেন।
রাজা তার প্রমাণ পেয়ে ভাবতে লাগলেন, এয় অমাত্য আমার অতি উপকারী বন্ধু। এই রমণীও আমার প্রীয় পাত্রী। এদের আমি কি করে প্রাণ নাশ করব? একবার পণ্ডিত অমাত্যকে জিজ্ঞাস করে দেখি। তারপর সহ্য হয় সহ্য করব, যদি সহ্য করতে না পারি তো করব না
রাজা এবার বোধিসত্ত্বকে ডাকিয়ে বললেন, পণ্ডিত একটা প্রশ্ন জিজ্ঞাস করব।
বোধিসত্ত্ব বললেন, জিজ্ঞাস করুন মহারাজ, উত্তর দিচ্ছি।
রাজা তখন একটি গাথার মাধ্যমে বললেন এক মনহর সরোবর আছে। সিংহ সেই সরোবর পাহারা দেয়। কিন্তু অধর্ম শৃগাল তার জল দূষণ করল।
বোধিসত্ত্ব বুঝতে পারলেন নিশ্চয়ই কোন অমাত্য অন্তঃপুরে কোন অবৈধ কাজ করেছে। তিনি তখন একটি গাথার মাধ্যমে বললেন, ‪‘নদীর জলে মৎস্য মানুষ জীব জন্তু সকলেই পিপাসা_মেটায়‬। ‪‎তাতে নদীর জল নষ্ট হয় না‬ ।
সেই অমাত্য ও রমণীকে ক্ষমা করুন।
এই কথা শূনে রাজা সেই অমাত্য ও রমণীকে সতর্ক করে দিলেন, এম পাপকর্ম আর করো না।
এই বলে তাদের সাবধান করে দিয়ে রাজা তাদের ক্ষমা করলেন। তিনি দানাদি পুণ্যকর্ম করে দেহান্তে স্বর্গলাভ করলেন।

[সংগ্রহীত]
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য