নুনের দাম

ইরান এক সুন্দর দেশ।
সেই দেশের এক সম্রাট- নাম তাঁর নওশের। প্রজাদের তিনি খুব ভালোবাসতেন। সত্য ও সুন্দরের কথা বলতেন। ন্যায়ভাবে শাসন করেন রাজ্য। চারদিকে তাঁর সুনাম। সকলেই সম্রাট নওশেরের প্রশংসায় পঞ্চমুখ।
সম্রাট একদিন সদলবলে শিকারে গিয়েছেন। বনের এদিকে ঘুরে বেড়ান, ওদিকে ঘুরে বেড়ান। শিকার করতে করতে ক্লান্ত হয়ে সম্রাট বিশ্রামের জন্য তাবু ফেললেন। এদিকে দুপুরবেলা, খাবারের সময়। পথশ্রমে সিপাহিরাও সবাই ক্লান্ত। এদিকে সম্রাট নওশেরও ক্ষুধা লেগেছে। তিনি বাবুর্চিদের হুকুম দিলেন রান্নার আয়োজন করবার জন্য। কিন্তু বাবুর্চিরা রান্না করতে গিয়ে দেখে তারা লবন আনতে ভুলে গিয়েছে।
এক সেপাহি সঙ্গে সঙ্গে ছুটল লবনের সন্ধানে। সম্রাট তাকে বললেন- কোথায় যাচ্ছ তুমি?
সেপাহি বলল, ‘বনের ধারে কোন বাড়িতে যাব। দেখি সেখানে লবণ পাওয়া যায় কিনা।’
সম্রাট বললেন, ‘যেখানেই যাও না কেন, যার কাছে থেকেই লবণ আনো না কেন, পয়সা দিয়ে কিনে এনো কিন্তু।
সেপাই ঘোড়া নিয়ে ছুটল। খুব তাড়াতাড়ি লবণ জোগাড় করে ফেলল সে। ফিরে এল আরো দ্রুত। মুখে তার সার্থকতার হাসি।
সেপাহি বলল, ‘বাদশাহ নামদার, লবণ সংগ্রহ করে এনেছি’।
সম্রাট জিজ্ঞেস করলেন,‘পায়সা দিয়ে কিনে এনেছ তো? যার কাছে থেকে লবণ এনেছ তাকে পয়সা দিয়েছ তো? এমনি এমনি চেয়ে নিয়ে আসনি তো লবণ?
নওশের ব্যাকুল হয়ে তা জানতে চাইলেন। এই দেখে এক উজির আজম মৃদু হেসে বললেন, ‘সম্রাট আপনি এই সামান্য ব্যাপার নিয়ে এত মাথা ঘামাচ্ছেন কেন? বারবার আপনি জানতে চাইছেন- পয়সা দিয়ে কিনে আনা হয়েছে কিনা। কারো কাছে থেকে যদি একটু লবণ এমনি নিয়েই আসা হয় তাতে ক্ষতি কী?
সম্রাট বলল,‘না, না, সেটা হওয়া উচিৎ নয়। আমি যদি অন্যায়ভাবে কারো কাছে থেকে একটা আপেল নেই তবে দেখা যাবে আমার সঙ্গীরা গাছটাই উপড়ে দিয়েছে। আমি যদি সিপাহিকে বলি, যাও বিনামূল্যে একটা ডিম নিয়ে এসো- ও গিয়ে কারো বাড়ি থেকে মুরগিসুদ্ধ ধরে আনবে। এটা কি ঠিক হবে?
সকলেই মাথা ঝাঁকাল।
সকলে বলল,‘ না, এটা করা ঠিক হবে না।’
সম্রাট নওশের বললেন,‘ সম্রাট হয়ে অন্যায় করা ‍ উচিৎ নয়। সম্রাট যদি একটু অন্যায় করে তবে রাজকর্মচারীরা অন্যায় করবে আরো বেশি। তাই ক্ষমতাবান সম্রাটকে থাকতে হয় আরো সচেতন। আমি শুধু সেটুকুই চেষ্টা করি।
উপস্থিত সকলেই সম্রাটের প্রশংসায় শতমুখ হয়ে বলে উঠল।
‘আমাদের মহান সম্রাটের জয় হোক’
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য