কুমড়োপটাশ

(যদি) কুমড়োপটাশ নাচে--
খবরদার এসো না কেউ আস্তাবলের কাছে;
চাইবে নাকো ডাইনে বাঁয়ে চাইবে নাকো পাছে;
চার পা তুলে থাকবে ঝুলে হট্টমূলার গাছে!

(যদি) কুমড়োপটাশ কাঁদে--
খবরদার! খবরদার! বসবে না কেউ ছাদে;
উপুড় হয়ে মাচায় শুয়ে লেপ কম্বল কাঁধে;
বেহাগ সুরে গাইবে খালি 'রাধে কৃষ্ণ রাধে'!


(যদি) কুমড়োপটাশ হাসে--
থাকবে খাড়া একটি ঠ্যাঙে রান্নাঘরের পাশে;
ঝাপসা গলায় ফার্সি কবে নিশ্বাসে ফিসফাসে;
তিনটি বেলা উপোস করে থাকবে শুয়ে ঘাসে!

(যদি) কুমড়োপটাশ ছোটে--
সবাই যেন তড়বড়িয়ে জানলা বেয়ে ওঠে;
হুঁকোর জলে আলতা গুলে লাগায় গালে ঠোঁটে;
ভুলেও যেন আকাশপানে তাকায় না কেউ মোটে!

(যদি) কুমড়োপটাশ ডাকে--
সবাই যেন শামলা এঁটে গামলা চড়ে থাকে;
ছেঁচকি শাকের ঘণ্ট বেটে মাথায় মরম মাখে;
শক্ত ইঁটের তপ্ত ঝামা ঘষতে থাকে নাকে!

তুচ্ছ ভেবে এ-সব কথা করছে যারা হেলা,
কুমড়োপটাশ জানতে পেলে বুঝবে তখন ঠেলা।
দেখবে তখন কোন কথাটি কেমন করে ফলে,
আমায় তখন দোষ দিও না, আগেই রাখি বলে।

[--সুকুমার রায়]
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য