যাত্রার হনুমান

    গোপাল মাঝে মাঝে যাত্রাভিনয় করত। গোপাল যাত্রায় হনুমান সাজে। যাত্রায় অধিকারী একদিন গোপালকে ডেকে বললে, তোমার মাইনে এবার থেকে কমিয়ে দেব তুমি মোটেই আগের মতো ‍লাফ দিতে পারছো না। তোমার লাফের জোর কই? বীর হনুমানের লাফ ভাল না হওয়ার জন্য শ্রোতারা অনেক বাজে কথা বলাবলি করছে।
    গোপাল ভাবলে, এত লাফিয়েও যখন অধিকারীর মত পাচ্ছিনে তখন যাত্রাদল থেকে বিদায় নেবার আগে একটা জব্বর লাফই দিয়ে যাব। অধিকারী মশাই আর কত জোর লাফ চায় দেখা যাক। একবার শেষে ‍লাফ দেব দেখি কি হয়। একদিন রাত্রে যাত্রা শুরু হল। অধিকারী আসরে বসে যাত্রাগাণ শুনছিল। গোপাল যথারীতি সেবারেও হনুমান সেজেছিল আচমকা যাত্রার আসর থেকে সে এমন এক লাফ দিলে, অধিকারীর ঘাড়ের ওপর গিয়ে যেন পড়ে পড়ে। আর একটু হলে অধিকারীর ঘাড়টাই বুঝি ভেঙে যেত। অধিকারী ককিয়ে উঠে বলল, এ তুই কি করলি গোপাল? সব সময়ইয়ার্কি করিস কেন?
    গোপাল নির্বিকারভাবে বললে, আপনি বললেন আমার লাফের জোর নেই। তাই তো হনুমানের লাফটা দেখিয়ে দিলুম কর্তা। এই এক লাফে সাগর টপকে রাক্ষরেসর ঘাড়ে পড়া আর কি।
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য